somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প - জীবন, মায়া সবশেষে পরিহাস - পর্ব - ০১

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাবিনার চোখে পানি ছলছল করছে । সে কাঁদতেও পারছে না, আবার কান্না থামাতেও পারছে না । তার সামনেই তার বাড়ির লোকজন অনেক আনন্দ-ফুর্তি করছে । তার ছোট ভাই-বোন দুইটি আলোচনা করছে সামনে কি করবে এটা নিয়ে, সাবিনা শুনতে পাচ্ছে ।

- ওহ, ভাইয়া, কও না, দুলাভাই কেমন দেখতে ?
- ও মা, আমি ক্যামনে কমু ?
- না, তুমি তো আমার চেয়ে বড় । আব্বা-আম্মা আর সাবিনাপুর পরই তুমিই ভালো কইতে পারবা । কও না কিরাম সে ?
- হুম, উনার ইয়া লম্বা লম্বা দাঁত হবে । মুখের দাঁতগুলো হইবো একেকটা করাতের ন্যায় । সেই দাঁত দিয়া আস্ত বেগুন, মূলা, গাজর, শসা কাইটা ফালি ফালি কইরা ফালাইবো । উনার মোচ হবে ইয়া বড় । মোচের দুই পাশে দুইটা বাচ্চা ঝুলাইয়া দিলেও তারা দিব্যি দোল খাইতে পারবো । পেট হবে ইয়া ফুলা (হাত দিয়ে ইশারা করে দেখিয়ে), ১৪-১৫ পদের খাবার খাইতে দিলেও দিব্যি খাইয়া ফালাইবো সে । একটা ঢেঁকুরও দিবো না । আর চেহারা মাশাল্লাহ্‌, কি আর কমু !! মানুষ না কইয়া, দৈত্য কইলেই মনে হয় বেশি ভালো হইবো ।

- (ছোট বোনটি এতক্ষণ ভাইয়ের কথাগুলো মনে মনে শুনছিল । ওর গায়ে কাঁটা দিয়েছে) ধুর, কি যে বলো না তুমি !! আব্বা-আম্মা কি দেইখা-শুইনা সাবিনাপু রে এমন ব্যাটার লগে বিয়া দিবো ? আমি ঐদিন স্কুলে আছিলাম দেইখা, আমি দুলাভাইরে দেখতে পারি নাই । তাই বইলা তুমি আমার লগে এমন মশকরা করতাছো ভাইয়া ? যাও, তুমার লগে কোন কথা নেই ।

এই বলেই ছোট বোনটি অর্থাৎ রুবিনা উঠে চলে যায় দুই বোনের একমাত্র ভাই অর্থাৎ রুবেলের কাছ থেকে । এত কষ্টের মাঝেও সাবিনা ফিক করে হেসে দিলো তার ছোট ভাইটির কথাগুলো শুনে । সাবিনা এই বাড়ির বড় মেয়ে । এরপর রুবেল আর সবশেষে রুবিনা । অবশ্য রুবেল ও রুবিনার বয়সের ব্যবধান মাত্র দেড় বছর, তাই তার পিঠাপিঠি বললেই ভালো হয় । একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারে না । সারাদিন খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলা, বাঁদরামি-দুষ্টামি ইত্যাদি এক সাথেই করে ওরা ।

সাবিনার এই বিয়েতে মত নেই । কিন্তু অমত করার মত সাহস বা পরিস্থিতি কোনটাই তার নেই । সাবিনার বাবা দিনমজুর । মা গৃহিণী । এই সংসারে আরও একজন আছে, সে হচ্ছে সাবিনার দাদু । সাবিনা বড় হওয়ার পর তার দাদিকে জীবিত দেখতে পায়নি । তার বয়স যখন দুই অথবা তিন তখন তার দাদি মারা গিয়েছেন । এই ছয়জনের সংসার চলে একমাত্র সাবিনার বাবা মোঃ আব্দুস সাত্তারের আয় দিয়েই ।

সাবিনারা যে গ্রামে বাস করে সেই গ্রামের নাম "গাববুনিয়া" । বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের অধীনে এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই দিনমজুর অথবা খেঁটে খাওয়া মানুষ । এই গ্রামটির মানুষ ২০০৭ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় "সিডর" এবং ২০০৯ সালে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় "আইলা" উভয় দুর্যোগ দ্বারাই ক্ষতিগ্রস্থ । তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে "আইলা"-এর সময় । গ্রামটির দক্ষিণ পাশ দিয়ে যে নদীটা চলে গেছে গ্রামের মানুষ এই নদীটাকে একেকজন একেক নামে ডাকে । কেউ ডাকে সর্বনাশী, কেউ ডাকে সর্বগ্রাসী, আবার কেউবা ডাকে পশুর নদী বলে । হ্যাঁ, নদীটির কাগজ-কলমে হয়তো নাম "পশুর" । গ্রামের পাশ থেকে বয়ে যাওয়া নদীটি থেকে ট্রলার ধরে কেউ যদি দক্ষিণ দিকে চলতে থাকে তাহলে ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে যাওয়া যায় । নৌকায় গেলে অবশ্য সাগরে পৌঁছাতে ৫-৬ ঘণ্টার মত লাগে । তবে গ্রামের মানুষের এত সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই ।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১২:৫৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×