somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাটির ঘ্রাণ

১৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামু ব্লগে লিখেছিলাম। গ্রামে যাবো। অধিবাসী হিসাবে। বড় বোন প্রফেসর ড. ফাতেমা খানমের ভয়ে এই বর্ষার মধ্যেও ঘর মেরামতের কাজ শুরু ও মাসখানেকের মধ্যে শেষ হলো। তিন রুমের ঘর। টিনের ছাউনি। বিশেষ করে পরবর্তী প্রজন্মের-দের জন্য একটি আধুনিক সুবিধাদি সহকারে এটাচড বাথরুম তৈরী করা হয়েছে। নাজিরহাটে ‘লাইনের গ্যাস’-এর সুবিধা নাই। তাই সিলিন্ডিারের গ্যাস-এর চুলা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবলেম হয়েছে, কারেন্টের। সন্ধ্যার পর কারেন্ট আছে - গত পাঁচ মাসে পাঁচ বারও এমন দেখি নাই ! আমাদের এখানে, চ.বি. ক্যাম্পাসে দিনে-রাতে মিলে যে কয় ঘন্টা কারেন্ট থাকে না; বলা যায়, নাজির হাটে সে কয় ঘন্টা সর্বমোট কারেন্ট থাকে। যাহোক, বলা যায়, অনিয়মিত হলেও আমি এখন গ্রামের অধিবাসী।
গ্রামে নারী শিক্ষার বেশ প্রসার হয়েছে। বনায়ন হয়েছে যথেষ্ট। তবে বিলগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। ক্রমসম্প্রসারণশীল বসতির গ্রাসে সেই প্রশস্ত বিল আর নাই। তবুও, ভাল লাগে ছোট বেলার সেই মাটির সোঁদা ঘ্রাণ।
আমাদের বড় চাচা, ডুবাই মালেক হিসাসে খ্যাত, একসময়ে অতিধনী, দানশীল ও সুপ্রশসস্থ মনের অধিকারী ছিলেন। বয়সের ভারে এখন খর্বতর, শুধু প্রাণের সজীবতাই এখন বর্তমান। সামনের রুমে বসে একজন চাচী, একজন ভাবী ও একজন ফুফাতো ভাইয়ের সাথে গল্প করছিলাম। দেখি বড় চাচা সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। আমি এক দৌড়ে উনাকে গিয়ে ধরলাম। উনি আমাকে নিয়ে পাকা রাস্তা ধরে আজম ক্লাব ফেলে ডাইনজুরি বিলের মাঝখানে নিয়ে আমাদের দু’টি জমি চিনিয়ে দিলেন। কি যে ভাল লাগল ! জানতাম, এই লোকেশনে আমাদের জমি আছে। কিন্তু স্পেসিফিক্যালি চিনতাম না। উনাকে তখনই বলেছিলাম, আমি ইন্টারনেটে গিয়ে এটি লিখব। আমার ধারনা, উনার আপন ছেলেদের চেয়েও আমাদেরকে বিশেষ করে আমাকে বেশী পছন্দ করেন। হয়তোবা আমার বাবার সাথে আমার চেহারা ও স্বভাবের মিল অপেক্ষাকৃত সবচেয়ে বেশী বলে। পুরনো দিনের স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে ‘বদ্দা, আমি আর তোর ফুফু - আমরা তিনজনে আমার দাদীর পিছে পিছে সারাক্ষণ ঘুরতাম’ - এ’ কথা বলে ডুকরে কেঁদে উঠেন। তখন যথারীতি কারেন্ট ছিলো না। একটা মোমবাতি ঘরের মধ্যে জ্বলছিলো।
আজ বাবা নাই, ফুফুও নাই, বড় চাচাও একদিন এই মোমবাতির মতো নিঃশেষ হয়ে যাবেন। বাবা-মা, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী, নানী, বড় মামাসহ পরিবারের অনেককে যেভাবে আমি ক্ববরে শুইয়ে দিয়েছি সেভাবে না জানি কখন এই পিতৃ-তুল্যকেও নিজ হাতে মাটির বিছানায় রেখে আসতে হয় !
প্রতি শুক্রবারে যখন বাবার ক্ববরের পাড়ে দাঁড়াই, তখন ভাবি, পুরান পুকুরের এই মাটিতে শুয়ে আছে আমার পূর্ব-বংশধরেরা, এ মাটিতেই আমার অন্তিম নিবাস !
এতো বছর পরে কেন আমার এমন গ্রামমুখীনতা - এ নিয়ে আমার সহকর্মী, আমার স্ত্রী-সন্তানাদিদের মধ্যে, এমনকি গ্রামের লোকদের মধ্যেও এক ধরনের কৌতুহল। আমার এক চাচাতো ভাই বলল, সে আজম ক্লাবের ওখানে কোন চায়ের দোকানে কখনো বসে না। এঁরা আসলে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদাকে অটুট রাখতে ও বাড়াতে চায়। আর আমি চাই শুধুমাত্র একজন নিবাসী হিসাবে, তাঁদের একজন হয়ে থাকতে। প্রসেফর হিসাবে নয়। এর আগে সামু ব্লগে দেয়া এক পোস্টে লিখেছিলাম - শহুরে জীবনের ফরমাল তথা কৃত্রিম সম্মানের ভারে আমি অতীষ্ট। বাঁচতে চাই অনাবিল আনন্দে, শেকড় সংলগ্ন হয়ে। তাই গ্রামের সবকিছু আমার ভীষণ ভালো লাগে।
মানুষ প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য শহরে যায়। আমরা গিয়েছি। ১৯৭৫ সালে। আজ জীবনের শেষ-মধ্যাহ্নে গ্রামের পরিবর্তিত অবয়বে আমি নিয়ত খুঁজে ফিরি আমার হারানো শৈশবকে, বাবা-মা’র সেই সংসার, প্রিয় দাদীর ততোধিক প্রিয় সংসারের সেই চৌহদ্দিকে ... !
ব্লগে বিশেষ করে সামাজিক ব্লগসমূহে আজকাল যে সব বিষয় হিট হয়, সে নিরিখে আমার এ লেখা বিষয়-বস্তু ও লেখনী উভয়দিক হতে নিতান্ত অপাঙ্কতেয় মনে হবে। হয়তো কোন পাঠক শেষ পর্যন্ত পড়বেনও না। কেউ জানবেনা এলোমোলো এ লেখা শেষ করতে আমার কত ....... !
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:২৪
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাস ভেগাসকে পেছনে ফেলে ঢাকা মহানগরী এখন ক্যাসিনো ক্যাপিট্যাল। চাঁদাবাজি, মাদক আর গডফাদারদের তীর্থভূমি।

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০২


'ক্যাসিনো' এবং 'কুজিন' শব্দ দু'টি নিয়ে অনেকেই দ্বন্ধে পড়েন। কেউ কেউ ক্যাসিনোকে কুজিন ভেবে ভেতরে ঢুঁকে দৌড়ে পালান; আবার কেউ কেউ কুজিনকে ক্যাসিনো ভেবে সমস্যায় পড়েন। এই তো কিছুদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নবান্ন

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫৯


ডানা মেলে উড়ে চলে
নীল প্রজাপ্রতি ,
সাথে সাথে উড়ে চলে
তার সাথিটি ।

আসমানের সাদা মেঘ
হয়েছে উধাও ,
হেমন্তের আগমনী
জয়ধ্বনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাসিনো একটি বিশাল চাকুরী সৃষ্টিকারী ইন্ডাষ্ট্রী, বিশাল ট্যাক্সের উৎস

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩০



ধনীদেশগুলোর জন্য ক্যাসিনো হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্র, ইহাতে দেশের সাধারণ মানুষই বেশী যায়; ইহা চাকুরী সৃষ্টিকারী ইন্ডাষ্ট্রী, ট্যাক্সের উৎস; এবং সেইসব দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি ইহাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জয়-বাংলা শেঠ

লিখেছেন রবাহূত, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩০



আমি বোকা লোক বেশী বুঝি না, কেউ একটু সাহায্য করতে পারবেন?

এইযে যুবলীগের খান কয়েক টাকি-পুঁটি ধরা পড়লো, সেটি নাকি পিএম এর নির্দেশেই হয়েছে। ধন্যবাদ পিএম কে। উনি কয়েকদিন আগেই ইংগিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝড় বৃষ্টি

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২২




ঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ছে আকাশ থেকে,
আকাশটা ঢাকা আছে কালো মেঘে।
রোদ লুকিয়ে গেছে যেন কালোমেঘের তলায়,
ঝিম ঝিম বৃষ্টি পড়ছে গাছের পাতায়।
বৃষ্টি থেকে আসলো মারাত্মক ঝড়,
ঝড় এসে উল্টে দিল গাছপালা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×