somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেভাবে বেড়ে উঠি

১৭ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের চবি ক্যম্পাসের এক ছেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে গেলে তাঁকে একপর্যায়ে ফ্যমিলি ব্যকগ্রাউন্ড সম্পর্কে বলতে বললে সে বলেছিলো, ‘My grandfather was a farmer. Later on his son became a university professor. And I am his son Shourab Islam.' কোন তদবির ছাড়াই তাঁর চাকুরীটি হয়েছিলো।
এ ঘটনাটা এ জন্য উল্লেখ করলাম যে, আমার দাদাও একজন কৃষক ছিলেন। অতি নিরীহ একজন কৃষক। আমার বাবা স্কুল থেকে এসে কৃষিকাজে তাঁর পিতাকে সহযোগিতা করতেন। আমার মনে পড়ে, ইউনিভার্সিটির হল থেকে বাসায় গেলে মাঝে মাঝে আমি কাঁচি নিয়ে গরুর ঘাস কাটতাম। আমার বড় ভাই আজকের উপ-সচিব, ছোট বেলায় আমাদের সাথে বিলে না-ড়া (ঘান কাটার পরে পরিত্যক্ত গোড়া) কাটতাম। আমরা ৯ ভাই-বোনের সবাই পড়া-লেখায় ছিল। স্বাভাবিকভাবেই বাবা-মা টানা-পড়েনের মাঝে তাঁদের সংসার চালাতেন। জ্ঞাতি ভাই-বোনেরা যাদের পিতার টাকা ছিল, যারা দামী কাপড়-চোপড় পড়তেন, তাঁদের বলতে গেলে কেউই আমাদের পরিবারের মতো উঠতে পারেনি। বাবা-মা’র কড়া শাসন, অর্থনৈতিক টানাপড়েন এর মাঝে আমরা বুঝেছি পড়ালেখা ছাড়া আমাদের কোন গত্যন্তর নাই।
আমার বাবা ১৯৪৬ সালে ম্যট্রিক পাস। মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডী পেরুনোর সুযোগ পান নি। বড় বোন ছিলেন অতি-সুন্দরী, এখনও। অথচ তাঁকে গ্রামের রেওয়াজ অনুযায়ী বিয়ে না দিয়ে অতি কষ্টে পড়াতে থাকেন। এভাবে শুরু। বাবা-মা’র এই বিরাট পরিবারে এমনকি মেয়েরাও সবাই ফ্রম দ্য এন্ড অফ দেয়ার স্টুডেন্ট লাইফ, চাকুরী করে। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে তাঁরা দাপটের সাথে চাকুরী করে। আমাদের পরিবারে ব্যবসায়ী নাই।
আমার অত্যন্ত কষ্ট লাগে আমরা আমাদের সন্তানদেরকে সেভাবে বড় করতে পারছিনা যেভাবে আমাদের বাবা-মা আমাদের গড়ে তুলেছেন। আমার বোনেরা পড়ালেখা, ছোট ভাইবোনদের সামলানো, বাড়িতে অব্যাহত মেহমানদের চাপকে সামলেছেন, ঘরের কাজ করতেন। অবশ্য আমরা ছেলেরা পুত্র-সন্তান হয়ে বসে থাকি নাই। উপরে সে কথা কিছুটা বলা আছে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা, যাদের বাবা-মা’রা এক একজন এলিট, তাঁরা পড়ালেখার পাশাপাশি ঘরের কাজ করবে – এটি ভাবতেও পারে না। ঠিক যেভাবে আমাদের জ্ঞাতি ভাই-বোনেরা ভাবত, তাঁদেরতো কোন অভাব নাই, কেন তাঁরা কাজ করবে ! পার্থক্য এতটুকু যে , আমাদের সন্তানেরা উঠে যাবে; অর্থাৎ এলিট হয়ে উঠবে।
এই ‘ক্যরিয়ারিজম’ কে আমি ভয় পাই। আমি চাই সন্তানেরা পৃথিবীর যোগ্য নাগরিক হোক, লড়াকু হোক। চাইনা তাঁরা ‘যোগ্য পৃথিবীর নাগরিক’ হোক। যেভাবে সিদ্ধার্থ বলেছিল, সত্যকে গ্রহন ও অনুসরণের পরিবর্তে সে সত্যকে খুঁজে নেবে।
যাহোক, নিজের কষ্টের অতীতকে স্মরণ করে, স্বীকার করে আমি উদ্দীপ্ত হই, আলোড়িত হই। স্বপ্ন দেখি সবাই বড় হওয়ার পরিবর্তে, বড় হয়ে উঠুক। যেভাবে উঠেছেন আমার বাবা, মা, আমরা ভাইবোনেরাসহ অনেকে…। এই ছড়া/কবিতাটি কতোবার মা’র মুখে শুনেছি, ‘এমন জীবন করিবে গঠন, মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন…।’
১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×