somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন বাবা-মা’র কথা মনে পড়ে

১৪ ই মে, ২০১১ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্মৃতি-
ব্যথাগুলো থিতিয়ে যায়, বাহ্যতঃ মনে হয়, নাই।
সব ব্যথা আছে, থাকে, থামেনি কোন কষ্টবোধ কোনদিন।
কোন্ ব্যথা হারায়না কোনদিন?
মরমের ব্যথা যত যন্ত্রণা থেকে থেকে জ্বলে উঠে
প্রিয়জনের বিয়োগ-ব্যথা – বাবার, মায়ের।
কখনো ভুলতে পারিনি সেসব প্রিয়জনকে
যাদের শুইয়ে দিয়েছি মাটির বিছানায়
শেষ মুহূর্ত অবধি কাছে থাকার অদম্য আগ্রহে
চিরতরে হারানোকে প্রলম্বিত করার নিস্ফল আকাঙ্খায়
নেমেছিলাম যাদের ক্ববরে
তাঁদের স্মৃতি প্রতি মুহুর্তে জ্বলছে অন্তরের ভাটায়।
‘রাতের সব তারাই থাকে দিনের আলোর গভীরে’র মতো
কাব্যময় হয়ে নয়।
এ স্মৃতি, এ জ্বালা – করুণ, কঠোর, অসহ্য!
জীবনের ধারা তবুও বয়ে চলে নদীর মতো
দুঃখের স্রোতকে সুখের সব অনুভবকে ফেরী করে
বন্দরে বন্দরে।
ইচ্ছা করে খুলে দেখি মাটির সে গহ্বরগুলো
দেখি, কীভাবে তাঁরা শুয়ে আছে, কেমন আছে
দেখতে ইচ্ছা করে কিভাবে তাঁরা নাই হয়ে আছে।

মা-
বর্ষা আসলে মায়ের কথা মনে পড়ে
অঝোর ধারায় যখন বৃষ্টি পড়ে
তখন রোমান্টিসিজমে উজ্জীবিত হইনা
স্মৃতির ভারে দুঃখে
মাঝে মাঝে ভেংগে পড়ি। শংকিত থাকি
কেউ না দেখে ফেলে অবাধ্য অশ্রুবিন্দু।
মা বলেছিলেন, ‘তুই আয়। আমি যেন তলিয়ে যাচ্ছি।’
সব কাজ ফেলে ছুটে গিয়েছিলাম ঢাকায়।
ছিলাম মায়ের পাশে। এটেনডেন্টের বেডে না শুয়ে
আম্মার পাশে ফ্লোরে বিছানা পেতে থাকতাম
যেন কোন অস্ফুট ডাকেও উঠে বসতে পারি।
ভাবিনি এত দ্রুত ফুরিয়ে যাবেন তিনি।
ঘুম থেকে উঠে কখনো বলতেন,
‘তোমাকে দেখেতো আমার অমুক ছেলের মতো মনে হচ্ছে।’
রুমে সবসময়ে আমাকে দেখে
হয়তোবা ভাবতেন, তিনি আমার বাসায় আছেন।
মাঝে মাঝে বলতেন-
‘কিরে, বউ কোথায়? ফ্যকাল্টিতে গেছে নাকি?’
সোজা হয়ে শুতে পারতেন না।
দিন-রাত হেলান দিয়ে বসে থাকতেন।
ইশারায় নামাজ পড়তেন।
জিজ্ঞাসা করেছিলাম, মা, কার কথা আপনার মনে পড়ছে?
প্রতিবারই বলেছেন,
‘তোর বাবা আর আমার বাজানের কথা’।
কর্মস্থলে ফিরার পরের দিনই মায়ের ইন্তিকাল ঘটে।
বিদায় নেয়ার সময়ে মায়ের দুআ চাইলাম।
মাথায় হাত রেখে অনেক দুআ করলেন।
জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া ….।

বাবা-
অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারার যন্ত্রণা
শুধু অনুভব করা যায়, বোঝানো যায়না।
বাবা ছিলেন সুপুরুষ, আদর্শ মানুষ।
তরুণ বয়সে সংগঠনবাদীতার অন্ধ আবেগে
থাকতে পারিনি তাঁর মৃত্যুকালীন সময়ে।
এ দুঃখ, কষ্ট সীমাহীন। এই অপরাধবোধ
নিত্য পোড়ায় আমাকে।
আগে কখনো বাবার প্রসঙ্গ আসলে
চুপ করে থাকতাম বা উঠে যেতাম নীরবে।
বিয়ের আসরে আমার অঝোর ধারায় কান্না দেখে
কন্যাপক্ষ ভেবেছিল, কোন পূর্ব সম্পর্কের বিষয়
হবে হয়তোবা। ঘরের সবাই বুঝেছিল -
ও, বাবার জন্য কাঁদছে।
এখন আর ফ্লোরে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদি না।
কিন্তু দুঃখ কি গেছে? এতটুকুও নয়।
শুধু আরো গভীরে প্রোথিত হয়েছে।
বাবার স্মৃতি নিয়ে কিছু লিখতে
আমি অপারগ।
কাঁচা-পাকা চুল-দাঁড়ির এই মধ্যবয়সী লোকটিও
তাঁর বাবা-মায়ের কাছে এখনো
ছোট্ট শিশুটি মাত্র। যদি আবার শিশু হতে পারতাম!
স্মৃতিই একমাত্র সহায় ….।

অনুভব-
মাঝে মাঝে মনে হয়, জুমানজি’র এলানের মতো
যাদুর জগতের মায়ার আবেশ কেটে গেলে
একদিন চেঁচিয়ে উঠবো, ‘আই এ্যম হোম …
মাম-ডেড, আই এ্যম হোম … ’।
কেউ একজন বকা দিবেন অন্যজন প্রশ্রয় দিবেন।
তা নিয়ে তাঁরা কিছুক্ষণ ঝগড়া করবেন।
আমিও চাই শিশু হতে, কৈশোরকে ফিরে পেতে
বড়দের উপর অন্যায় আবদার করতে।
জানি, জীবনের এই ধারা একমুখী
ফিরতি কোন ট্রেন নাই। পথ শুধু সামনের দিকে।
আমিও যে কখনো ছোট ছিলাম, শিশু ছিলাম
এগারো জনের এক বর্ধিষ্ঞু পরিবারে
অতি আদরের একজন ছিলাম – সেটি খুঁজে পাই
যখন বাবা-মা’র কথা মনে পড়ে।

২৪/০৪/২০১১ চ.বি.।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"জয় চেরনোবগ"

লিখেছেন উদাসী স্বপ্ন, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৩:৫৯


ইউরোপের অনেক রেস্টুরেন্টের বারে ফানবোর্ডে লেখা থাকে "ড্রিংক বিয়ার সেভ ওয়াটার"। এই লেখাটা প্রথমবার দেখে বেশ হাসি আসলেও বারটেন্ডার যখন বললো আফ্রিকার অনেক দেশে বিশুদ্ধ পানির দাম বীয়ারের চেয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভৌতিক কাহিনী - জ্বীন সাধনা [প্রথম পর্ব]

লিখেছেন নীল আকাশ, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:১৩



ভর দুপুরবেলা। রিক্সা থেকে নেমেই তাড়াহুড়া করে কুরিয়ার সাভির্সের একটা দোকানে ঢুকল রুমি। ছোট কাগজে লেখা একটা গোপন নাম্বার দেখাতেই দোকানদার ওর হাতে একটা মাঝারি সাইজের প্যাকেট তুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা)-২

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৪

বিভিন্ন সময়ে তোলা ক্যানন ক্যামেরার ছবি। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের ।



হীম পড়েছে তো হয়েছেটা কী-টক খেতে কী মানা
পকেট থেকে বের করো তো পয়সা দু'আনা,
কিপটে মানুষ ফাঁকি বাজি-কত কিছু জানো
যেমন করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিরল কাঁটার বাতাস

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪০


আমার গাড়িতে একটা লাশ। আমি গাড়িটা চালিয়ে যাচ্ছি। হ্যাঁ, আমিই বহন করে নিয়ে যাচ্ছি লাশটাকে। লাশটা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে না। একজন মানুষ যখন মারা যায়, তার রক্ত, বীর্য, ঘাম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই বৈশাখে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১০




বৈশাখ মাস।
দুপুরে ভাত খেতে বসে দেখি, সুরভি রুই মাছ রান্না করেছে পটল দিয়ে। আমার প্রচন্ড রাগ লাগল। রুই মাছ কেউ পটল দিয়ে রান্না করে?
সুরভি হাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×