
সংবাদ পত্রে ডকু-ড্রামাটির কথা পড়ার পর থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম কবে দেখতে পারবো তার জন্য। ১৬ নভেম্বর হলে রিলিজ হবার খবরে এবং তা ছুটির দিন হ্ওয়ায় প্রথম শো দেখার জন্য আগের দিন থেকে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখলাম। পেটের মোচড় থাকায় বের হতে কিছুটা দেরি হওয়ায় উবেরের মটর সাইকেল ডাকার পর দেখি গাড়ি চলে এসেছে। ভুলে মোটোর বদলে উবেরএক্স এ চাপ দিয়েছি গাড়ি আসার পর বুঝতে পারলাম। কাজেই ১০০ টাকা আক্কেল সেলামি।
টিকেট কাউন্টারের সামনের লম্বা লাইন আর ততধিক ধীর গতি। অর্ধেক ঢাকা যেন বসুন্ধরা সিটিতে চলে এসেছে। টিকেট যদি পাইও, প্রথম কয়েক মিনিট বাদ যাবে। সামনের সুন্দরী রমনীও এটাই দেখবেন, তবে ১১:৩০ এর শো না, ১টার শোতে। পাশের সারির একজন জিজ্ঞাসা করছে 'মিস্টার বাংলাদেশ কি বাংলাদেশী সিনেমা?' তার পাশে আরেক জনের জিজ্ঞাসা 'বোহেমিয়ান র্যাপসডি কি হিন্দি?' আমার সিরিয়াল আসতেই পিছন থেকে আমাকে ডিঙিয়ে টিকেট বিক্রেতাকে একজনের প্রশ্ন 'আপনি বললেন ক্রাইম অফ গ্রিন্ডাল রিলিজ হয় নাই, এইতো লিফলেটে লেখা এটা চলছে' 'এটা তো বিস্ট'... ইত্যাদি। অবশেষে হল ২ এ প্রবেশ এবং এক রাশ মুগ্ধতা।
অ্যাপেলবক্স ফিল্মস আর সিআরআই (সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন- আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান) পাঁচ বছর ধরে একটি অসাধারণ ডকুমেন্টারি তৈরী করেছে। যদিও পত্রিকায় পরিচালক হিসেবে রেজাউর রহমান খান পিপলুর নাম দেখলাম, মনে হল ছবিতে রেদোয়ান সিদ্দিকের নাম ও লেখা ছিল। আবহ সংগীত মনে দাগ কেটে যাবে। ক্যামেরার কাজ খুব ভাল, টুঙ্গিপাড়ার কিছুকিছু শট অপার্থিব মনে হয়েছে। তবে অনেক জায়গায় মনে হয়েছে আরেকটু আলোতে শুটিং করলে ভাল হতো।
দেশের মানুষের স্বার্থে দলকে সময় দিতে যেয়ে সন্তানদের সময় দিতে না পারার কারনে তাদের (সজীব ওয়াজেদ আর সায়মা ওয়াজেদ) বোর্ডিং স্কুলে পাঠানোর ঘটনার বর্ণনা শোনার দেয়ার সময় চোখের পানি ধরে রাখা কষ্টকর। ডকুমেন্টারিটিতে রয়েছে দুর্লভ কিছু স্টিল ছবি আর ভিডিও ফুটেজ। শেখ কামালের বিয়ে নিয়ে নিন্দুকদের মুখে অনেক বাজে কথা শুনেছি, কিন্তু তাদের দুজনের বিয়ের হাস্যজ্জ্বল ছবি অন্য কথা বলে। শেখ জামালের বিয়ের ভিডিওতে বঙ্গবন্ধুকে একজন বাবা হিসাবে দেখা নতুন অভিজ্ঞতা। বঙ্গমাতার আরেক নাম যে রাণু তাও নতুন। ডকুমেন্টারির শিরনামে শুধু শেখ হাসিনার নাম থাকলেও পুরো সময়টা জুড়ে তার সাথে শেখ রেহানার উপস্থিতি ভাল লেগেছে।
পুরো ডকুমেন্টারিতেই ইংরেজি সাবটাইটেল দেয়া। তবে এন্ড ক্রেডিটে ইংরেজির সাথে বাংলাও থাকলে আমার আরো ভাল লাগতো।
হল মালিক ব্যবসার কথা চিন্তা করে হয়ত ভিআইপি বা প্রিমিয়াম হলে না দিয়ে সাধারণ হলে রিলিজ করেছে। আমার মনে হ্য় ভিআইপি বা প্রিমিয়াম হলেও ডকুমেন্টারিটি ভাল ব্যবসা করতে সক্ষম। সামনের সারির সামান্য কিছু সিট ছাড়া হল প্রায় ভর্তি ছিল। এমন একটি শোএর মাঝে পপকর্ন বিরতি খুব অশালীন মনে হয়েছে।
ছবি সুত্র: অ্যাপলবক্স ফিল্মস এবং ডেইলি স্টার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

