somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এমন ভালবাসা তো চাইনি!! - ৪র্থ পর্ব

১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বে প্রকাশের পর
...........................

দেখলাম একদৃষ্টিতে শ্রাবণী আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বললাম শুনতে চাও? সহ্য করতে পারবে? "আমাকে সব খুলে বলো।" বলল শ্রাবণী।

আমি বললাম, আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়েছিল সে আর কেউ না, রবিন। সে এইকাজ করেছিল শুধু তোমাকে বিয়ে করার জন্য। ওর পক্ষে সব কিছুই সম্ভব ছিল কারণ ও তো নোংরা রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। আমার এ কথা শুনে শ্রাবণী আকাশ থেকে পড়লো। কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থেকে ঝরঝর কেঁদে ফেললো। বললাম, এখন আর দুঃখ করে কোন লাভ নেই।

শ্রাবণী আমাকে চমকে দিয়ে বললো, "আমার বিয়ের ছয়মাস পরে রবিন এক রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়। তারপর থেকে আমি আমার খালার সাথে মিরপুরে আছি।" এই মুহুর্তে আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কি বলা উচিত। দীর্ঘদিন কোন খোঁজখবর না রাখার জন্য রবিনের শেষ খবরটা অবশ্য আমি জানতাম না। সত্যিই শ্রাবণীর জন্য তখন খুব কষ্ট হচ্ছিল।
দেখলাম শ্রাবণী কেঁদেই চলছে। আমি ওকে এ কান্না থামানোর জন্য কোন সান্তনাই দিতে পারলাম না। এভাবে কেটে গেল বেশ কিছু সময়। বললাম কিছু খাবে? ও বলল "না"।

"শ্রাবণী, আমার জাপানের স্কলারশীপটা হয়ে গেছে। আর কয়েক মাসের মধ্যেই আমাকে চলে যেতে হবে। প্রথম অবস্থায় ১ বছরের মত থাকতে হবে। তারপর দেশে ঘুরতে আসতে পারবো।" বললাম, আমি।

ও বললো, "হ্যাঁ সব কিছুই হলো তবে অনেক সময় নিয়ে। "

দেখলাম শ্রাবণী অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে। নিজেই আইসক্রীমওয়ালার কাছ থেকে ২ টি আইসক্রীম নিল। "জানো, তোমার কথা আমি আমার খালাকে সেদিন বললাম। তোমাকে বাসায় যেতে বলেছেন খালা।" শ্রাবণী আমার দিকে তাকিয়ে বললো।

খালা মানে, ছোট খালা? হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে, কণা খালা। বললাম আমি।

শ্রাবণী আমি একটু মতিঝিল যাবো। আমার কিছু কাগজপত্র ইংরেজীতে কনভার্ট করতে হবে। চলো আজ উঠি। শ্রাবণীর মুখ দেখে মনে হয়েছিল ও আরো কিছুক্ষণ বসতে চায় আমার সাথে। আমি বললাম, তুমি কি কিছু বলতে চাও? শ্রাবণী বললো, তোমার যদি কোন আপত্তি না থাকে তবে আমি তোমার সাথে মতিঝিল যেতে চাই।

বললাম, "না সমস্যা মানে, ঠিক আছে চলো।" এই কথাতে ও যেন খুব খুশি হলো। একটা রিক্সা নিয়ে ঢাকা ভার্সিটির ভিতর দিয়ে পৌঁছালাম দৈনিক বাংলা মোড়ের ঢাকা অনুবাদ কেন্দ্রে। রিক্সায় যেতে যেতে শ্রাবণীর সাথে অনেক কথা হলো। ও মাঝে মাঝে বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিল। ও বলছিল, "তোমার জন্মদিনে আমরা সারাদিন রিক্সায় চড়ে সারা রাজশাহী শহর ঘুরে বেড়াতাম। অনেক মজা করতাম। কিন্তু কোথায় চলে গেল আমার সেই সব স্বপ্নের দিনগুলো?"

আমি বললাম, এসব কথা এখন বলে কিই বা লাভ। মাঝখানের অনেক গুলো বছর আমাদের জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিয়েছে। কাজ সারতে সারতে প্রায় বিকাল ৩টা বাজলো। এরই মধ্যে খন্দকার রেষ্টুরেন্টে বসে লাঞ্চ সারলাম। একটা সি এন জি বেবীটেক্সি নিয়ে রওনা দিলাম বাসার দিকে। আমি ফার্মগেটে নেমে গেলাম আর ও চলে গেল মিরপুরে সেই গাড়ীতেই।

আমি নেমে যাওয়ার সময় আমাকে খুব আশ্চর্য করে দিয়ে ওর ব্যাগ থেকে একটা প‌্যাকেট বের করে আমার হাতে দিয়ে বললো, "তোমার জন্মদিনের উপহার।" আমি চলে এলাম বাসায়। প‌্যাকেট খুলে দেখলাম একটি রোমান্সন হাতঘড়ি। ঘড়িটা বেশ সুন্দর আর দামী। ওটা আমি এখন ব্যাবহার করছি।

এভাবে কেটে গেল বেশ কিছুদিন। শ্রাবণীর সাথে আমার প্রায় প্রতিদিন মোবাইলে কথা হয়। বুঝতে পারি ওর এতে ভাল লাগে। এরই মধ্যে কণা খালা আমাকে ওনার বাসায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এভাবে শ্রাবণীর সাথে আমার সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকে। আমি আর শ্রাবণী ভুলে যেতে থাকি আমাদের অতীত। এখন শ্রাবণী আগের মত হাসে, কথা বলে।

আমারও জাপান যাওয়ার দিন ঘনিয়ে আসে। একদিন শুক্রবার সকালে কলিং বেলের আওয়াজ পেয়ে দরজা খুলে দেখি শ্রাবণী আমার দরজায় দাঁড়িয়ে।

বললাম, "শ্রাবণী তুমি?"


চলবে...............

১ম পর্ব ২য় পর্ব ৩য় পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:২৩
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×