somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলিশকে নিয়ে আমার একটি বিরল সুখকর স্মৃতি

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৪:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুলিশকে নিয়ে সুখকর স্মৃতি আছে এমন লোক দেশে বিরল।
তবে আমার একটা সুখের স্মৃতি আছে....
গত কোরবানীর ঈদের আগে মিরপুর ১৪ থানায় গেলাম এক কাজে ঈদের আগ মুহুর্ত বিকাল বেলায় বেশির ভাগ পুলিশই বোধ হয় বাইরে ডিউটিতে, থানা মোটামোটি পুলিশ শূন্য।
ডিউটিতে থাকা এক মহা ব্যাস্ত এসআইকে (নাম মনে নাই) সমস্যা বললাম উনি পাশের জন কে কম্পিউটার কম্পোজ করা নির্দেশ দিলে সে বলল বাইরে টহলে যেতে হবে এখনি।
আশেপাশে আর কেউ না থাকায়, এসআই আমাকে বসায়ে রেখে আমার আগের দুইজনকে কাজ শেষে বিদায় করে আমার টা শুরু করলেন। ব্যাস্ততার মাঝেও কাজটা যথেষ্ট আন্তরিক ভাবেই করলেন। সব মিলিয়ে দুই-আড়াই ঘন্টা লাগল। তিনি চাইলে আমাকে আইনের বিভিন্ন ধারা অনুচ্ছেদ দেখিয়ে ৪-৫ দিন ঘুরিয়ে হাজার খানেক টাকা খরচ করাতে পারতেন। তিনি সেটা না বরং আমাকে বসিয়ে রাখার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন যদিও নিজেই দেখতে পাচ্ছি তিনি প্রচন্ড ব্যাস্ত।

কোন রকম হয়রানি না করে দ্রুত কাজ শেষ করায় ভাবলাম তাকে কৃতজ্ঞতা সরুপ কিছু ইয়ে.. ইয়ে মানে স্পীড মানি দেওয়া আমার কর্তব্য যদিও এর জন্য কোন সরকারী ফি লাগে না।

সরাসরি বলা ঠিক হবে ভেবে তাকে আকার ইঙ্গিতে টাকা পয়সার বিষয়টি বুঝাইলাম। এসআই সাহেব দেখি বুঝেও না বুঝার ভান করলেন। আমি অবাক হলাম। তখনি খেয়াল হল রুমটি সিসি ক্যামেরার আওতাভূক্ত। তাই বিদায় নিয়ে বাইরে এসে চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম এখানে কোন ক্যামেরা নাই। এসআইকে যথেষ্ট ভদ্র মনে হওয়ায় মনে খুলে ডাক দিলাম বাইরে আসার জন্য।

তিনি বাইের আসলেন। তার প্রশংসা করে নির্ভয়ে বললাম স্পীড মানি দিতে চাই। তিনি বললেন এর জন্য কোন চার্জ নেই। কোন রকম আগ্রহ না দেখে এবার একটু জোর করলাম....... হা হা হা... মুখের দিকে তাকায়া বুঝতে পারলাম ঘুষ অফার করায় তিনি কিছুটা লজ্জা পাইছেন যদিও আশেপাশে আর কেউ ছিল না।

দেশের সর্বত্র এই লজ্জাটাই খুব বিরল যা খুবই প্রয়োজন।

সরকারী অফিসে ঘুষ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে এই বিরল সুখকর স্মৃতি বিগত জীবনে কোন দিন অনুভব করি নাই। পুলিশের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে তা বোধ হয় কেউ কল্পনাও করতে পারে না। তাই পুলিশের সাথে আমার এটি একটি বিরল সুখের স্মৃতি হিসেবেই থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ভোর ৪:৩৬
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×