somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জন্মান্তর (উপন্যাস: পর্ব-সাত)

২২ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসায় ফিরে কম্পিউটারে বসতেই শাশ্বতীদির লেখাটার কথা মনে পড়ে। ইউটিউবে পণ্ডিত রবিশংকরের সেতার ছেড়ে ব্লগে ঢুকে পড়তে শুরু করি-



জন্মান্তর (পর্ব-দুই)



ভাবীর ব্লাউজের ওপরের বোতামটা আগে থেকেই খোলা ছিল, তরিৎ বেগে সে অন্য বোতামগুলোও খুলে ফেললো আর আমার হাতদুটো নিয়ে তার অনাবৃত ফর্সা নরম স্তনে ঘষতে লাগলো। আমি তখন তার বুকের দিকে তাকাতে পারছি না, তাকিয়ে আছি মেঝেয় লুটিয়ে থাকা শাড়ির আঁচলের দিকে। সে বিছানা থেকে নেমে মেঝেতে হাঁটুমুড়ে বসে আমার ঊরুর কাছে মুখ নিয়ে লুঙ্গির গিঁট ধরে টান দিতেই আমি উঠে দাঁড়ালাম লুঙ্গির ঢিলা গিঁট বাম হাতের মুঠোয় চেপে।

আমি অনুভব করলাম আমার পা কাঁপছে, গা কাঁপছে। অনুনয়ের সুরে বললাম, ‘আমাকে ছেড়ে দাও ভাবী, আমি বাড়ি যাব।’

ভাবীও উঠে দাঁড়ালো, ‘আমি যেতে দিলে তো তুমি যাবে!’ বলেই ডান হাত দিয়ে আমাকে জাপটে ধরলো আর বাম হাত আলতোভাবে রাখলো আমার ডান গালে।

আমি জোর করে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে গেলে সে চাপাস্বরে গর্জে উঠলো, ‘কোথায় যাবে তুমি? এখন আমার কথা না শুনলে আমি চিৎকার করে পাড়ার মানুষ জড়ো করে বলবো যে তুমি আমাকে ধর্ষণ করতে এসেছো!’

ভাবীর এই কণ্ঠস্বর, এই রূপ আমার অচেনা; ভাবী যেন ক্ষুধার্ত বাঘিনী!

ভাবীর কথা শুনে আমি ভয়ে-বিস্ময়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম, সে তার বুকখোলা ব্লাউজটা শরীর থেকে খুলে ছুড়ে ফেললো মেঝেতে, মুহূর্তেই খুলে ফেললো শাড়ি-ছায়াও। ভাবী সম্পূর্ণ নগ্ন, কোমরে সুতোটিও নেই। জানালার পর্দা ভেদ করে আসা আদুরে আলোয় আমি অবাক হয়ে দৃষ্টি বুলাতে লাগলাম তার সারা শরীরে, এর আগে আমি এমনিভাবে কোনো নগ্ন নারীকে দেখিনি। একবার মাত্র সুবলের ঠাকুমাকে দেখেছিলাম অর্ধনগ্ন; ভাঙা মাজার বুড়ি পরনের কাপড় কোমরে তুলে বাঁশতলায় ঘোড়ার মতো দাঁড়িয়ে প্রসাব করছিল! কিন্তু এভাবে সম্পূর্ণ নগ্ন নারীকে কখনো দেখিনি, তাও আবার যুবতী। ভাবীর শরীর দেখে আমার ভীষণ লোভ হলো, সম্ভোগ করার জন্য নয়; মনে হলো, আহারে, আমার তো নারীর মন আছেই, এমন একটা শরীরও যদি থাকতো! থাকতো যদি অমন দুটি সুডৌল স্তন, আমি যত্নে আগলে রাখতাম আমার বর আর সন্তানের জন্য; থাকতো যদি অমন ঝিনুকের মতো যোনি, আমিও ওই ঝিনুকে মানব মুক্তো ফলাতাম; সার্থক হতো আমার জীবন, নারী জীবন! কতো রাতে বিছানায় শুয়ে কল্পনায় নিজের বুকে অমন দুটি কোমল স্তন ধারণ করেছি, শিশ্নের জায়গায় ভেবেছি যোনি; তারপর….তারপর সেই কল্পিত দেহের ওপর টেনে নিয়েছি আমাদেরই পাড়ার রায়হান ভাইকে!

ভাবী আমার জামার বোতাম খুলতে লাগলো একটা একটা করে, আমার দৃষ্টি ঘুরতে লাগলো তার মুখে আর বুকে। আমার গা থেকে জামাটা খুলে চেয়ারের ওপর রাখতেই আমি তার হাত ধরে মুক্তি পাবার শেষ চেষ্টা করলাম, ‘ভাবী, আমি দেখতে ছেলেদের মতো হলেও মনে-প্রাণে আমি আসলে মেয়ে। তোমার দোহাই লাগে ভাবী, আমাকে ছেড়ে দাও।’

কথা শেষ হওয়ামাত্র ভাবীর বাম হাতের হ্যাঁচকা টানে আমার কোমর থেকে লুঙ্গিখানা পা বেয়ে নেমে গেল মেঝেতে। তার দু-চোখের দৃষ্টি নিবদ্ধ আমার উত্থিত সরু শিশ্নের দিকে। আমার শেষ কথাটি শোনামাত্র ভাবীর মুখে আঁধার জমেছিল, কিন্তু উত্থিত শিশ্ন যেন তার মুখে আলোর রোশনাই ছড়িয়ে দিলো! শিশ্নের ডগায় আদুরে চিমটি কেটে, ঠোঁটে খুশির দুষ্টু ঝিলিক ছড়িয়ে বললো, ‘মিথ্যুক!’

তারপর প্রায় পাঁজাকোলা করে আমাকে বিছানায় তুলে ভাবী তার শরীর রাখলো আমার শরীরের ওপর। দীর্ঘসময় পর খাবার পেলে অভুক্ত মানুষ যেমন খাবারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তেমনি ভাবীও চুমু-লেহনের বর্ষণে তার মুখের লালায় ভাসাতে লাগলো আমার মুখমণ্ডল আর গলা। কিছুক্ষণ পর সে আমার শরীর বেয়ে নেমে গেল নিচের দিকে, আমার তলপেটে সুড়সুড়ি দিলো, তারপর শিশ্নে চুমু খেয়ে বললো, ‘এতো ছোটো কেন, একটা বড়ো সাইজের কাঁচামরিচের মতো!’

ভাবী আমার কাঁচামরিচটা মুখে পুরে নিলো, সুড়সুড়ির প্রবলতায় আমার শরীর থেকে থেকে কেঁপে উঠলো!

আমার মনোলিঙ্গ নারীর হলেও জৈবলিঙ্গ যেহেতু পুরুষের তাই ধর্ম অনুযায়ী জৈবলিঙ্গ জেগে উঠেছে। কিন্তু আমার মনোলিঙ্গের কোনো সাড়া নেই, সে খাঁচায় বন্দী পাখির মতো ছটফট করতে লাগলো মুক্তির অপেক্ষায়।

দুই হাত বুকের ওপর ভাঁজ করে রেখে সুড়সুড়ির প্রবলতায় আমাকে চোখ বুজে থাকতে দেখে ভাবী বিরক্ত হয়ে বললো, ‘অমন ভ্যাদামাছের মতো উল্টে আছো কেন, কখনো ব্লু-ফিল্ম দ্যাখোনি?’

সত্যিই আমি তখনো পর্যন্ত ব্লু-ফিল্ম দেখিনি। আজকের দিনের মতো তখন তো আর হাতে হাতে মোবাইল-ইন্টারনেট ছিল না। তখন সিনেমা-ই দেখতে হতো হলে গিয়ে নয়তো ভিসিআর ভাড়া করে এনে। ব্লু-ফিল্ম না দেখলেও শারীরিক সম্পর্কের বিষয়ে আমি অবগত, আর জৈবলিঙ্গের ধর্ম অনুযায়ী শরীরও তখন ভাবীকে জড়িয়ে ধরতে চাইছে; কিন্তু মন চাইছে রায়হান ভাইকে জড়িয়ে ধরতে! তবু শরীরের ধর্মে সায় দিয়ে আমি এক হাতে ভাবীর চুল মুঠি করে ধরলাম, আরেক হাতে স্পর্শ করলাম ভাবীর নগ্ন মসৃণ কাঁধ।

এরপর ভাবী চিৎ হয়ে শুয়ে আমাকে তার শরীরের ওপর তুলে নিলো। আমার ডানহাত তার স্তনের ওপর রেখে বললো, ‘অ আ কিচ্ছু জানো না, সব শিখিয়ে নিতে হবে দেখছি! হাত দিয়ে চাপ দাও, কামড় দাও।’

তখন আমার মনোলিঙ্গ মূর্ছা গেছে; আর জৈবলিঙ্গের প্রভাবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো ফুঁসে উঠেছে আমার শরীর; ঠোঁট আর জিভ চুম্বন-লেহন করছে ভাবীর ঠোঁট-গাল-গলা, হাত মন্থন করছে কোমল স্তন; কামাগ্নির উত্তেজনায় আমি লাভার মতো ধাবিত ভাবীর শরীরের সকল গিরিখাদে। এরপর ভাবী নিজেই উদ্যোগী হয়ে আমার শক্ত পুরুষাঙ্গ অবগাহন করালো তার অথৈই যোনিসরোবরে! ভাবীর দেহসমুদ্রে আমি এক আনাড়ি দাঁড়ি, তার যোনিসরোবরে আমার অসহায় কৃশ কামদাঁড়! ভাবীর পীড়াপীড়িতে আমি একপ্রকার ঘোরের মধ্যে অযাচিত কামযাত্রা শুরু করলাম, একজন চৈত্তিক নারী হয়ে একজন দৈহিক নারীর সঙ্গে মিলিত হলাম অযাচিত রতিরঙ্গে!

পর্বতশিখরে আরোহণের পর ক্লান্তির ভারে দেহ যেমনি নুয়ে পড়ে ভূমিতে তেমনি অল্পক্ষণের মধ্যেই রতিপাতের ক্লান্তিকর দীর্ঘ তপ্ত শ্বাস ফেলতে ফেলতে আমি মুখ থুবড়ে পড়লাম ভাবীর স্তনযুগলের ওপর। ভাবী তখন উত্তাল সমুদ্র, আমাকে রণেভঙ্গ দিতে দেখে ডানহাতের মুঠোয় আমার চুল আর বাঁ-হাতে মুখ ধরে বললো, ‘কী হলো?’

ভাবীর বাম স্তনে থুতনি আর তার চোখে লাজুক চোখ রেখে বললাম, ‘আর পারবো না ভাবী, আমার ইয়ে হয়ে গেছে….!’

ভাবীর মুখে হতাশা ঘনীভূত হলেও আমার মাথায় আদর বুলাতে বুলাতে বললো, ‘কী আমার পুরুষরে, ষাট বছরের বুড়োও বোধহয় তোমার চেয়ে বেশিক্ষণ করতে পারবে! যাও ওই জগ থেকে একটু জল খেয়ে আবার এসো।’

আমি ভাবীর শরীরের ওপর থেকে নেমে পাশে বসলাম, ‘আবার!’

‘তয়, আমার তো কিছুই হয়নি!’

আমি মিনতির সুরে বলরাম, ‘আমি আর পারবো না ভাবী।’

ভাবী চাপাস্বরে আমাকে ধমক মারলো, ‘যা বলছি তাই শোনো, বোকার হদ্দ কোথাকার!’

আমি বিছানা থেকে নেমে গিয়ে টেবিলে রাখা জগ থেকে দুই ঢোক জল খেলাম। আমার দেহ-মন আমাকে পালাতে বললো, কিন্তু ভাবী যদি রেগে গিয়ে কোনো কাণ্ড করে বসে! তাই জল খেয়ে আমি অসহায়ের মতো ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলাম।

ভাবী অধৈর্য, ‘কী হলো, এসো!’

আমি ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালাম বিছানার কাছে, ‘প্লিজ ভাবী, আমাকে এখন যেতে দাও।’

ভাবী বিরক্ত, ‘বারবার এক কথা বোলো নাতো!’

শোয়া থেকে উঠে বসে সে আমার হাত ধরে বিছানায় তুলে শুইয়ে দিলো আমাকে। আমার শরীরের ওপর এক পা তুলে বুকে স্তন ঠেকিয়ে মুখের কাছে মুখ এনে বললো, ‘প্রথম প্রথম এমন তাড়াতাড়ি-ই হয়, অভ্যাস হয়ে গেলে অনেক সময় থাকতে পারবা; লজ্জা পাবার কিছু নেই।’

বলেই আমার ঠোঁটে বিলম্বিত চুম্বন করলো, তারপর কয়েকবার গালে আর কপালেও চুমু খেলো। গাল-থুতনি-গলা চপল জিভ দিয়ে চেটে, দাঁত দিয়ে কামড়ে লালায় ভিজিয়ে দিলো, বুক কামড়ে ধরলো। এরপর তার ডানহাতের আঙুলগুলো নিপুণ নৃত্যে আমার শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গে সুড়সুড়ি দিতে দিতে নেমে গেল নিচের দিকে। তার আঙুল, ঠোঁট আর জিভের কুশলী আদরে অল্পক্ষণের মধ্যেই পুনরায় জেগে উঠলো আমার শিশ্ন। তারপর অবাধ্য ছেলেকে ঘাড় ধরে শাসন করার মতো পুনরায় সে আমার শিশ্ন তার যোনিসরোবরে প্রবেশ করিয়ে আমার শরীরের ওপর ওঠ-বস করতে লাগলো। আমি কেবল অবাক হয়ে ভাবীকে দেখতে লাগলাম, দেখলাম তার অদ্ভুত মুখভঙ্গি, শুনলাম তার বিস্ময়কর কণ্ঠস্বর; এতোদিনের চেনা ভাবীর সঙ্গে কামোন্মত্ত ভাবীকে কিছুতেই মেলাতে পারলাম না; অমন হাসি-খুশি, স্নেহশীল, মিশুক স্বভাবের ভাবীর এ কোন রূপ! সব মানুষের ভেতরেই কি জৈব কামনাপীড়িত এই হিংস্র রূপটি লুকোনো থাকে?

কিছুক্ষণ পর আমার শরীরের ওপর থেকে নেমে ভাবী পুনরায় আমাকে টেনে নিলো তার শরীরের ওপর। এবার আমার শিশ্ন আপনা-আপনি-ই চিনে নিলো তার যোনিসরোবর। ভাবীর মুখে কখনো অস্ফুট কখনো স্ফুট শব্দ। প্রবল কামোত্তেজনায় দুই হাতে সে আমাকে জাপটে ধরে তার বুকের সাথে পিষতে লাগলো, পাগলিনীর মতো আমার মাথার চুল হাতের মুঠোয় টানতে লাগলো, উন্মত্তের মতো আমার কাঁধে আর ঘাড়ে কামড়ে দাঁত বসিয়ে দিলো! আমার পিঠ খামচে ধরে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বললো, ‘জোরে শাহিন, আরো জোরে! ঝড় তোলো, আমাকে লণ্ডভণ্ড করে দাও!’

আমি তাকে কী লণ্ডভণ্ড করবো, আমি তো নিজেই তখন লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছি! ভাবী যেন সর্বগ্রাসী রাক্ষুসে পদ্মা আর আমি পদ্মার ভাঙনে উপড়ে পড়া এক অসহায় সুপারিগাছ, মূলোৎপাটিত হয়ে অথৈ জলে কেবলই হাবুডুবু খাচ্ছি! পারলে সে যেন তার শরীরে আমাকে লোশনের মতো নিঃশ্বেষ করে ফেলে আর কী!

‘আগুন, আগুন আমার শরীরে, তুমি নিভিয়ে দাও শাহিন, নিভিয়ে দাও!’ সুখের আতিশয্যে ভাবীর চোখের কোনা দিয়ে জল গড়াতে লাগলো। তার গালে চেপে ধরলো আমার গাল।

এবারো অল্পক্ষণের মধ্যেই রণেভঙ্গ দিয়ে আমি মুখ থুবড়ে পড়লাম ভাবীর নরম স্তনচূড়ায়! সে আমার শিশ্নের শিথিলতা অনুভব করে আকর্ষিক প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতায় দুই হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে আমাকে তার শরীরের ওপর থেকে ফেলে দিলো আর আমি নিভাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার শরীরের জলন্ত আগুনের ফুলকি ছিটকে বেরোলো মুখ থেকে, ‘হিজড়া মাগি কোথাকার একটা! যা দূর হ আমার সামনে থেকে!’

আমি কোমল দেহশয্যা থেকে পতিত হয়ে কোনোক্রমে একটা পা মাটিতে রেখে মেঝেতে পড়ে যাওয়ার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করলাম, দু-হাত দিয়ে বিছানার চাদর আঁকড়ে ধরে তাকিয়ে রইলাম ভাবীর অতৃপ্ত কামোন্মত্ত ক্রুদ্ধ চেহারার দিকে। ঘন ঘন তার শ্বাস পড়তে লাগলো, স্তন দুটো কামারের হাপরের মতো ফুঁসতে থাকলো; সারা মুখে যেন বজ্ররেখা, কণ্ঠস্বরে বজ্রপাত, ‘যা যা হিজড়া মাগি, আমার সামনে থেকে যা!’

আমি একই অবস্থানে থেকে দাঁতে দাঁত চেপে রইলাম, দু-চোখে আমার ক্ষোভের আগুন। হঠাৎ-ই আমাকে অবাক করে ভাবী ডুঁকরে কেঁদে উঠে প্রচণ্ড আক্রোশে বামহাতে খাঁমচে ধরলো নিজের ডান স্তন আর দাঁতে কামড়ে ধরলো ডানহাতের আঙুলগুলো! এই আকর্ষিক পরিবর্তনে আমি বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে, অনাকাঙ্ক্ষিত এই কান্নার দৃশ্য আমার ক্ষোভের আগুনে জল ঢেলে দিলো। ভাবীকে আর বর্ষার সর্বগ্রাসী পদ্মার মতো মনে হলো না, তাকে দেখে মনে হলো জল বিনে কাতর গ্রীষ্মের শুষ্ক অসহায় পদ্মা! তার প্রতিটি অশ্রুবিন্দু আছড়ে পড়লো আমার বুকে, আমার অক্ষমতা অপরাধ আর অনুশোচনার মতো যেন পোড়াতে লাগলো আমাকে। জীবনে প্রথমবারের মতো চৈত্তিকভাবে পুরুষ না হবার জন্য আফসোস হলো আমার; মনে হলো, আহারে, আমি যদি দৈহিক এবং চৈত্তিকভাবে একজন পরিপূর্ণ সমর্থ পুরুষ হতাম, তাহলে এই স্বামী পরবাসী অতৃপ্ত অসুখী নারীকে পরিপূর্ণ তৃপ্ত এবং সুখী করতে পারতাম!

সেদিনই বিকেলবেলা ভাবী আমাদের বাড়িতে এলো; বাড়িতে তখন আমি, মা আর মেজোবুবু। বাবা অফিসে আর ছোটবুবু তখনো কলেজ থেকে ফেরেনি। হঠাৎ-ই ছোটবুবুর কলেজ থেকে ফেরার সময় বিকেল থেকে গড়িয়ে সন্ধ্যায় ঠেকেছে, কেননা ছোটবুবু তখন নতুন প্রেমে মজেছে। আমি বারান্দার চেয়ারে বসে থাকলেও ভাবীকে দেখেই সঙ্কোচে নিজের ঘরে চলে গেলাম। ভাবী এসেই রান্নাঘরের বারান্দায় মোড়া টেনে বসলো। মা রান্নাঘরের মধ্যে কোনো কাজ করছিলেন, আর মেজোবুবু রান্নাঘরের বারান্দায় বসে ভাত খাচ্ছিল, তিনজনে একথা-সেকথা বলছিল। মেজোবুবুর খাওয়া শেষ হলে টিউবয়েলে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ওর ঘরে গেল। ততোক্ষণে ভাবীও রান্নাঘরের বারান্দা থেকে আমাদের শোবার ঘরের বারান্দায় উঠে এসেছে। মেজোবুবু ঘর থেকে ভাবীর উদ্দেশে বললো, ‘ভাবী, দেখ, লুডু বোধ হয় শাহিনের ঘরে।’

ভাবী আমার ঘরে এলো। আমি বিছানায় আধশোয়া হয়ে সমরেশ মজুমদারের ‘কালবেলা’ উপন্যাসে মুখ গুঁজে ছিলাম। ভাবী আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ‘লুডু কোথায়?’

ভয়-সঙ্কোচ-দ্বিধা আমার কণ্ঠ চেপে ধরলেও আমি যথাসম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে তার দিকে না তাকিয়েই বললাম, ‘বুক শেলফের নিচের তাকে।’

ভাবী শেলফের তাক থেকে লুডু এবং গুটি নিয়ে বললো, ‘আসো লুডু খেলি।’ অন্যদিনের মতোই তার স্বাভাবিক প্রস্তাব, যেন দুপুরে তার সঙ্গে আমার কিছুই হয়নি!

আমি এক মুহূর্তের জন্য আড়চোখে ভাবীর দিকে তাকিয়ে আবার বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজলাম। কী চেহারায় কী কথায়, ভাবী একদম সাবলীল, দুপুরে যে আমাদের মধ্যে অমন একটি কাণ্ড ঘটলো, তা যেন গত জীবনের ঘটনা! কিন্তু আমি ভাবীর মতো সহজ হতে পারলাম না, দুপুরের ঘটনার পর থেকে আমার মন ছেয়ে আছে বিষন্নতায়, আমি নিশ্চিত মুখেও পড়েছে বিষন্নতার ছায়া। কোনোরকমে বললাম, ‘আমি খেলবো না।’

বলে একবার আড়চোখে ভাবীর দিকে তাকালাম, ভাবী ঠোঁট টিপে হেসে বললো, ‘পারো না তো, তা খেলবা কী!’

ভাবী ঢিলটা কোথায় ছুড়লো তা আমি বেশ বুঝতে পারলাম। লুডু খেলায় আমি দারুণ পটু, সহজে হারি না; তবু আমি প্রতিবাদ না করে বাঁকা কথাটা হজম করলাম দুপুরের পরাজয়ের কারণে। হঠাৎ ভাবী তার ব্লাউজের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে এক টুকরো কাগজ বের করে আমার কোলের কাছে ছুড়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কাগজের টুকরোটা আমার কোল থেকে গড়িয়ে পড়লো বিছানায় আর আমার দৃষ্টি ভাবীর শেষ ছায়াটুকু অনুসরণ করার পর ফিরে এলো ভাঁজ করা ছোট্ট কাগজের টুকরোটার ওপর। ঘরে আমি একা, অন্য কারো আসার সম্ভাবনাও নেই; তবু দ্রুত কাগজখানা তুলে বইয়ের মাঝখানে নিয়ে খুলে তাতে চোখ বুলালাম-‘কাল কলেজে যাবার সময় অবশ্যই আমার সঙ্গে দেখা করবে, আমি তোমার সঙ্গে যাব, আমার ব্যাংকে একটু কাজ আছে। যদি আমাকে নিয়ে না যাও, তাহলে আমি তোমার বুবুদেরকে….!’

একবার পড়া শেষ হলে আবার পড়লাম, তারপর আবার….! তিনবার পড়ার পর ভাবীর বুকের গন্ধ-স্পর্শ লাগা চিরকুটটা মুখে পুরে চিবিয়ে পিষতে লাগলাম আর আমার চোখে ভাসতে লাগলো দুপুরের দৃশ্যগুলো!

পরদিন সকালবেলা কলেজে যাবার সময় ভয়ে ভয়ে ভাবীদের বাড়ির সদর দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। ভাবী চিরকুটের শেষে লিখেছে, ‘যদি আমাকে নিয়ে না যাও, তাহলে আমি তোমার বুবুদেরকে….।’ কী বলবে ভাবী? সে নিজেই তো আমাকে…..; অথচ এখন কিনা বুবুদেরকে বলে দেবার ভয় দেখাচ্ছে! ভাবীর পেটে তলে তলে এতো শয়তানি! এখন আবার তাকে নিয়ে ব্যাংকে যেতে হবে, যদি না নিয়ে যাই তাহলে কি সে সত্যিই বলে দেবে বুবুদেরকে? নিয়ে যাব কী যাব না এই নিয়ে আমার ভেতরে দ্বিধা। আকাশ মেঘলা, আবহাওয়া তপ্ত নয়, তবু আমি রীতিমতো ঘামছিলাম! হঠাৎ সদর দরজা খুলে গেল আর বেরিয়ে এলো হাসিমুখের ভাবী; পরনে একটা জলপাই রঙের শাড়ি, গায়ে একই রঙের ব্লাউজ-হাতে চুড়ি। ভাবী তাহলে সেজে-গুঁজে তৈরি হয়েই ছিল, নিশ্চয় জানালা দিয়ে আমাকে দেখে বেরিয়ে এসেছে। আমার দিকে ভ্যানিটি ব্যাগটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো, ‘ধরো এটা, না ডেকে এখানে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছো কেন?’

আমি কোনো উত্তর না দিয়ে ভাবীর বাড়িয়ে দেওয়া ব্যাগটা ধরলাম। সে সদর দরজায় তালা দিয়ে আমার হাত থেকে ব্যাগ নিয়ে চাবির গুচ্ছ ব্যাগের ভেতর রেখে বললো, ‘চলো।’

দু-জনে পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করলাম, আমি মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটছি আর মাঝে মাঝে আড়চোখে তাকাচ্ছি তার দিকে। সে-ও মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে আমার দিকে। একটুখানি হাঁটার পরই আমরা রিক্সা পেয়ে গেলাম, রিক্সায় ওঠার আগে রিক্সাওয়ালা জিজ্ঞাসা করলো, ‘কনে যাবেন?’

ভাবী বললো, ‘আগান, তারপর বলছি। যা ভাড়া তাই দেব, আপনাকে ঠকাবো না।’

রিক্সা চলতে শুরু করলে আমি অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম। ভাবী আমার বামহাতে চাপ দিয়ে ফিসফিস করে বললো, ‘কী এভাবে চুপ করে থাকবা, কথা বলবা না?’

আমি না তাকিয়ে বললাম, ‘আমরা কোন ব্যাংকে যাব?’

‘ব্যাংকে কি মানুষের টাকা গোনা দেখতে যাব!’

আমি অবাক হয়ে তার দিকে মুখ ফেরালাম, ‘মানে! তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

সে আমার মাথাটা তার দিকে টেনে কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে বললো, ‘প্রেম করতে!’

আমি বিস্ময়ে তাকালাম ভাবীর দিকে, তার হাত আমার ঘাড়ে। সত্যিই ভাবীকে তখন সুন্দর লাগছিল, খোলা চুল বাতাসে উড়ছিল। দারুণ সুগন্ধ ছড়াচ্ছিল তার শরীর! আমার মনোলিঙ্গ পুরুষের হলে সত্যিই আমি নিজেকে সঁপে দিতাম তার কাছে, তার দেহ-মনে এতো মায়া যে কেবল পাথুরে হৃদয়ের পুরুষই তাকে উপেক্ষা করতে পারে! আমি আবার জানতে চাইলাম, ‘আমরা কোথায় যাচ্ছি?’

ভাবী রিক্সাওয়ালার উদ্দেশে বললো, ‘চাচা, বেড়িবাঁধের দিকে যান।’

আমার প্রতিবাদী প্রশ্ন, ‘বেড়িবাঁধে কেন?’

ভাবী তার হাতের মুঠোয় আমার চুল ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে ফিসফিস করে বললো, ‘বললাম না প্রেম করতে!’

‘আমি কলেজে যাব।’

‘আজ আর কলেজে যাওয়া হবে না চান্দু, সারাদিন আমাকে সময় দিতে হবে।’

‘আমাকে নামিয়ে দাও, আমি কলেজে যাব।’

ভাবী আবার আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো, ‘অবাধ্যতা করলে রাস্তার লোকজনের সামনে তোমাকে চুমু খাব কিন্তু!’

এ কোন ভাবী? গতকাল দুপুরের পর থেকে ভাবীকে যেন প্রতি মুহূর্তে নতুন লাগছে! আমি চুপ করে বসে রইলাম রিক্সায়। ভাবী আমার অসহায়তা দেখে মিটিমিটি হাসতে লাগলো। শহর ছাড়িয়ে বেড়িবাঁধের ফাঁকা রাস্তায় ওঠার পর কে জানে কোন আনন্দে সে নিচু গলায় গেয়ে উঠলো, ‘এতো দিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুণে দেখা পেলেম ফাল্গুনে।’

ভরা বর্ষায় বসন্তের গান! গাইবে না কেন, ভাবীর হৃদয়ে তখন বইছে বসন্তের মাতাল হাওয়া, মুখে ফুঠেছে পলাশ-শিমুল! কী আছে তার মনে বুঝতে পারছি না, আজ আবার কোন কাণ্ড করবে কে জানে! আমি পদ্মার উত্তাল বুকের দিকে তাকিয়ে থাকলেও আমার কান ভাবীর সুরে। গলায় বেশ সুর আছে, হতে পারে বিয়ের আগে সে গান গাইতো।

সকালের নির্জন বেড়িবাঁধ, বিকেলের দিকে জোড়া জোড়া প্রেমাতুর যৌবন ভিড় করে বেড়িবাঁধে; অনেকে বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবার নিয়েও আসে। আমরা রিক্সা থেকে নামলাম একটা মেহগনিগাছের নিচে, ভাবী রিক্সাভাড়া মিটিয়ে আমার হাত ধরে রাস্তার কোনারদিকের ঘাস দেখিয়ে বললো, ‘চলো, ওখানে বসি।’

আমি বসলাম রাস্তার ঢালের দিকে পা ছড়িয়ে; ভাবী বসলো আমার ডানপাশে গা ঘেঁষে, এতোটাই ঘেঁষে যে আমি তার শরীরের উত্তাপ অনুভব করছিলাম। আমি পদ্মার বুকে দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে বললাম, ‘আমাকে এখানে নিয়ে এলো কেন?’

‘বললাম না প্রেম করবো!’

‘ভাবী আমার এসব ভাললাগে না।’

ভাবী আমার ডানহাত তার দুই হাতের মধ্যে নিয়ে বললো, ‘কালকের ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত। হঠাৎ করে তোমাকে ওই পরিস্থিতে ফেলা আমার উচিত হয়নি, স্যরি।’

তখন আর ভাবীর মুখে সেই হাসিখুশি ভাবটি নেই, বেশ গম্ভীর। বললো, ‘কালকে হঠাৎ বাড়ি ফাঁকা পেয়ে আমার দেহমন হঠাৎ-ই অশান্ত হয়ে উঠেছিল, মাথায় দুষ্টুবুদ্ধির ভূত চেপেছিল। গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম যে কখন তোমাকে পাব, না পেলেও তোমাদের বাড়িতে গিয়ে তোমাকে ডেকে আনতাম, এমন রোখ চেপে গিয়েছিল! কাল কেন অমন হয়েছিল কে জানে! তীব্র কামনার ঘোরে ছিলাম আমি। অতৃপ্ত হয়ে অসভ্যের মতো তোমাকে যা-তা বলেছি; প্লিজ শাহিন, তুমি কিছু মনে কোরো না।’

আমি চুপ করে রইলাম। ভাবী বললো, ‘বিয়ের কুড়িদিন পর তোমার ভাই ইতালি চলে গেল, সে-ও আজ দেড় বছর। আসার নামগন্ধও নেই মুখে, সে ভালই আছে….! কিন্তু আমি? আমারও তো মন আছে, বারুদ ভরা শরীর আছে, শরীর আর মনের কিছু চাহিদা আছে; কিন্তু সে-সব বোঝার মতো মন তোমার ভাইয়ের নেই। সে আমাকে ওখানে নেবে না, আবার বছরে একবার আসবেও না। এই নিয়ে চিঠিতে ঝগড়া হয়; মাসে একবার টিএন্ডটি অফিসে গিয়ে ফোন করি, ফোনেও ঝগড়া হয়। আমাকে জানিয়েছে বছরখানেক পর একবার এসে ঘুরে যাবে, তারপর একটানা চার-পাঁচ বছর থেকে একেবারে চলে আসবে। এখানে এসে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। অথচ বিয়ের আগে বলেছিল ইতালিতে সে ভাল চাকরি করে, আমাকেও ওখানে নিয়ে যাবে। বছরখানেক পর কেন দেশে আসবে জানো? আমাকে গর্ভবতী করতে! আমার প্রতি ভালবাসার টানে নয়, আমার শরীরের টানেও নয়; প্রয়োজনে। আমি যেন বাচ্চা উৎপাদন করার একখণ্ড জমি, বীজ পুঁতে দিয়েই সে চলে যাবে! আমার শরীর-মনের যেন কোনো চাহিদা নেই! কী করবো আমি? যে স্বামী স্ত্রীর শরীর-মন বোঝে না, তার জন্য শরীর আগলে অপেক্ষা করতে করতে বুড়ি হবো? সে তো ওখানে ঠিকই সাদা মাগিদের সঙ্গে শুচ্ছে, শরীর জুড়োচ্ছে! কিন্তু আমি? অনেক অপেক্ষা করেছি, আর পারবো না।’

এটুকু বলে থামলো ভাবী; আশপাশে কোনো মানুষ নেই, নেই মানুষের সাড়াশব্দও। আছে কেবল ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর গাছে বসা একটা-দুটো পাখির ডাক। ভাবী শক্ত করে আমার ডানহাতটা ধরে আছে, আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। মানুষের সাথে দিনের পর দিন মেলামেশা করলে কিংবা কথাবার্তা বললেও আমরা তার ভেতরের কথা কতোটুকু জানতে পারি? হয়তো খুব সামান্য-ই। ভাবীর ভেতরে এতো ব্যথা, এতো না-পাওয়া ছিল তা আমি কখনো বুঝতে পারিনি। হাসি-খুশি ভাবীকে দেখে মনে করেছি সে তো দারুণ সুখী, বর বিদেশ থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা রোজগার করে পাঠায়, আর সে শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে মহা সুখে থাকে!

ভাবী আমার কাঁধে মাথা রেখে বললো, ‘জানো, কতোদিন মনে হয়েছে তোমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়াই, কিন্তু সরাসরি কিছু বলতে পারিনি। আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়েছি, কিন্তু তুমি এমন ছেলেমানুষ যে সে-সব বুঝতেও পারোনি!’

ভাবী এবার কাঁধ থেকে মাথা তুলে বললো, ‘শাহিন, তোমার চাল-চলন দেখে অন্যরা যা-ই বলুক, তোমাকে আমার ভাল লাগে; তুমি খুব সহজ-সরল। তোমার প্রতি আমার মায়া জন্মে গেছে, আমি ভালবেসে ফেলেছি তোমাকে।’

হায়, কী সর্বনাশের কথা! আমার ভাললাগে আমাদেরই পাড়ার রায়হান ভাইকে, শাড়ি পরে সেজেগুঁজে রায়হান ভাইয়ের হাত ধরে ওর সঙ্গে ঘুরতে বেরোতে ইচ্ছে করে, ওকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে এবং আদর পেতে ইচ্ছে করে, শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দিতে ইচ্ছে করে ওর মুখের ঘাম, ওর কোলে মাথা রেখে শুয়ে রাত জেগে পাহাড়া দিতে ইচ্ছে করে পূর্ণিমার চাঁদ! দেহটা পুরুষের হলেও মনে-প্রাণে তো আমি নারী, অথচ অন্য একজন মনো-দৈহিক নারী কিনা বলছে সে আমাকে ভালবাসে! এখন এই নারীকে আমি কী বলবো!

ভাবী তার ডানহাত আমার বামগালে রেখে মুখটা তার দিকে ঘুরিয়ে বললো, ‘কালকের ঘটনার জন্য আমি খুবই লজ্জিত, তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। ওই ঘটনাকে মনে রেখে তুমি আবার ভেবো না যে আমি কেবল দৈহিক ক্ষুধা মিটানোর জন্য তোমার ভালবাসা প্রার্থনা করছি, সত্যিই আমি ভালবেসে ফেলেছি তোমাকে। আমার স্বামী-সংসার যেমন আছে থাকুক, কিন্তু তোমার সঙ্গে আমার ভালবাসার গোপন সম্পর্কটাও থাকুক না শাহিন, তাহলে আমি মনে শান্তি পাব। এটা তোমার আর আমার গোপন সংসার, যতোদিন বেঁচে থাকবো যত্ন নেবো এই সম্পর্কের, আগলে রাখবো এই সংসার। আর ভবিষ্যতে তুমি যদি কখনো আমাকে বিয়ে করতে চাও, তবে বর্তমানের এই লোক দেখানো সাজানো সংসার ছেড়ে আমি তোমার কাছেই চলে আসবো। আমার দৈহিক প্রয়োজনে যেমনি তোমাকে প্রয়োজন, তেমনি মানসিক প্রয়োজনেও।’

ভাবী আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো আমার মুখ থেকে কিছু শোনার অপেক্ষায় আর আমি তাকিয়ে রইলাম রাস্তার ঢালের ঘাসের দিকে, যেখানে ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছিল। আমাকে মৌন থাকতে দেখে ভাবী বললো, ‘কথা বলছো না কেন শাহিন?’

‘ভাবছি কী বলবো।’

‘এতো ভাবাভাবির কী আছে!’

‘ভাবী, তুমি তো কাল দেখলেই আমি শারীরিকভাবে অক্ষম।’ আমি মনের কথাটা না বলে কেবল শরীরের কথাটাই বললাম।

‘ও তেমন কিছু না, প্রথম প্রথম অমনই হয়। আমি অহেতুক উত্তেজিত হয়ে তোমাকে বকেছি। অভ্যস্ত হলে ঠিক হয়ে যাবে।’

ওহ! আমি কী বলবো? আমি কি সব খুলে বলবো ভাবীকে? কিন্তু সব শুনে আবার যদি কালকের মতো রণচণ্ডী রূপ ধারণ করে! ভাবী এবার আমার ডান গালের সঙ্গে তার বাম গাল স্পর্শ করে বললো, ‘প্লিজ শাহিন, আমাকে বোঝার চেষ্টা করো। দেহ-মনের এই জ্বালা আমি আর সইতে পারছি না।’

ভাবী তার ঠোঁট দুটো চেপে ধরলো আমার গালে। আমি ভাবীর মাথাটা ধরে সতর্ক করলাম, ‘ভাবী, লোকজন চলে আসতে পারে।’

ভাবী আমার কাঁধে মাথা রেখে বাহুবেষ্টনে আমাকে জড়িয়ে ধরলো, অল্পক্ষণ পরই একটা মোটরসাইকেলের আগমনী বার্তা কানে আসায় আমাকে ছেড়ে সোজা হয়ে বসলো। শাঁই করে মোটরসাইকেলটি বেরিয়ে গেল আমাদের পিছন দিয়ে।

ভাবী আমার কাঁধে মাথা রেখে বামহাত দিয়ে পিঠ জাপটে ধরলো। আমি তাকিয়ে রইলাম পদ্মার বুকের ওপর দিয়ে শূন্যে আর আমার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো জল। মানুষের ভালবাসা পেলে আমার কান্না পায়। কিন্তু আমাদের সমাজে যে ছেলের স্বভাব কিছুটা মেয়েদের মতো বা যে ছেলে চৈত্তিকভাবে নারী, বেশিরভাগ মানুষ স্নেহ-ভালবাসা দেবার পরিবর্তে তাকে নিয়ে কৌতুক করে; ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে মজা পায়। অথচ একজন নারী আমাকে নিয়ে মজা না করে অসহায়ভাবে আমার ভালবাসা প্রার্থনা করছে, আমার চোখে জল আসবে না তো কী চোখ দিয়ে আগুন ঝরবে! কিন্তু এখন আমি যদি বলি যে ভাবী আমিও তোমাকে ভালবাসি, যতোদিন বেঁচে থাকবো তোমার-আমার গোপন প্রণয় অটুট থাকবে। তবে তা মিথ্যে বলা হবে, তার সাথে প্রতারণা করা হবে, প্রতরণা করা হবে নিজের সত্তার সঙ্গেও। প্রতারণা আমি করতে পারবো না, তার চেয়ে ভাবীকে সব খুলে বলাই শ্রেয়।

আমার দীর্ঘ মৌনতা দেখে ভাবী বললো, ‘কী হলো, তুমি কিছু বলবে না?’

আমি দৃষ্টি সংকুচিত করে আমার কাঁধে মাথা রাখা ভাবীর মুখের দিকে তাকালাম; তার হৃদয়ে যে স্বপ্ন-আশা-ভালবাসার দীপ জ্বলছে, তার রোশনাই ছড়িয়েছে মুখেও; কী করে আমি এই দীপ নিভিয়ে দিই, মুখের রোশনাই ঢেকে দিই অন্ধকারে! কিন্তু দীপ নেভানো ছাড়া তখন ভিন্ন কোনো পথও খোলা নেই আমার সামনে।

অবশেষে আমি সত্যের পথই ধরলাম, ‘কী বলবো ভাবী, আমিও যে তোমার মতোই নারী!’

‘ধ্যাৎ, বাজে কথা বোলো না!’

‘বাজে কথা নয় ভাবী, সত্যি বলছি, নিজেকে আমি নারী-ই মনে করি।’

ভাবী এবার আমার কাঁধ থেকে মাথা তুলে মুখের দিকে তাকালো, চোখে-কপোলে জল দেখে খানিকটা ধাক্কাও খেল।

‘কাঁদছো কেন তুমি?’

আমি ভাবীর চোখে চোখ রাখলাম, ‘তোমার ভালবাসা পেয়ে, আমি তো তোমার এই ভালবাসার প্রতিদানে কিছুই দিতে পারবো না। কিন্তু তোমার এই ভালবাসাটুকু আমার সারাজীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকবে ভাবী।’

‘মানে?’

‘ওই যে বললাম, আমি নারী। তোমাকে সব খুলেই বলি, আমি তো এসব কথা কারো সঙ্গে শেয়ার করতে পারি না, আমার ভেতরে কথা গুমরে মরে। জানো, সারাক্ষণ আমার শরীরের সাথে মনের ঝগড়া হয়; মন চায় আমার শরীরটাও তোমার মতো হোক। আমারও তোমার মতো শাড়ি পরতে ইচ্ছে করে, গয়না পরতে ইচ্ছে করে, কপালে টিপ পরতে ইচ্ছে করে, চোখে কাজল দিতে ইচ্ছে করে, ভীষণ সাজতে ইচ্ছে করে; আমিও তোমার মতোই এমন একজন পুরুষের স্বপ্ন দেখি যে তার হৃদয় উপুড় করে আমাকে ভালবাসা দেবে, আমিও যাকে হৃদয় উজার করে ভালবাসতে পারবো। সবাই ভাবে আমি মেয়েলি স্বভাবের ছেলে, আমায় নিয়ে হাসাহাসি করে। কিন্তু তুমি বিশ্বাস করো ভাবী, আমার শরীরটা পুরুষের হলেও মনটা নারীর; মনে-প্রাণে আমি একজন নারী।’

ভাবী বিস্ময়াবিভূত চোখে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কথা শুনলো। আমি আবার বললাম, ‘এই কথাগুলো আমি কাউকে বলতে পারি না জানো, এমনকি আমার পরিবারের কারো কাছেও না। বাবা-মায়ের ছেলের স্বপ্ন ছিল, তাইতো প্রথম তিনটি সন্তান মেয়ে হবার পর আবার তারা সন্তান নিয়েছেন। আমাকে পেয়ে তারা নিশ্চয় খুব খুশি হয়েছেন, আমাকে ঘিরেই তারা স্বপ্ন বোনেন। বাবা-মা আঘাত পাবে বলে আমি তাদেরকে কিছু বলি না, কিন্তু কোনো একদিন তাদেরকে এই সত্যের মুখোমুখি হতেই হবে। তারা এই আঘাত কী করে সামলাবে আমি জানি না। বাবা-মায়ের কথা ভেবে আমার ভীষণ খারাপ লাগে। আমি জানি যে বাবা-মা আমার কথা শুনে যতো না আঘাত পাবে আর চেয়ে বেশি আঘাত পাবে পাড়া-পড়শির সুচালো কথায়।’

আমি অপেক্ষায় রইলাম ভাবীর প্রতিক্রিয়া কী হয় তা দেখার জন্য, ভাবী খুব স্বাভাবিকভাবে আমার পিঠে স্নেহের হাত রেখে বললো, ‘এটা বোধ হয় এক ধরনের অসুস্থতা। তুমি বাড়িতে খুলে বলো, তুমি যদি বলতে না পারো আমি বলি। ডাক্তার দেখালে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

‘এক সময় তোমার মতো আমিও তাই ভাবতাম, ভাবতাম এটা এক ধরনের অসুখ; নইলে পুরুষ হয়ে জন্মেছি, অথচ নারীর প্রতি আমার কোনো আসক্তি নেই কেন, কেন পুরুষ-ই আমাকে আকর্ষণ করে। সে-জন্যই কিছুদিন আগে আমার পরিচিত একজনের সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলেছি। তিনি একজন উন্নয়নকর্মী, কাজ করেন হিজড়া আর যৌনকর্মীদের নিয়ে। আর তিনি নিজেও আমারই মতো দৈহিকভাবে পুরুষ, চৈত্তিকভাবে নারী। তার কাছ থেকেই জানতে পারি যে এটা কোনো অসুস্থতা নয়, আমার প্রকৃতি-ই এমন; আমার জৈবলিঙ্গ পুরুষের, কিন্তু আমার মনোলিঙ্গ নারীর।’

একটু থেমে আবার বললাম, ‘জানো ভাবী, ওই বড়ো ভাইয়ের সঙ্গে কথা না বললে আমি বুঝতেই পারতাম না যে আমাদের শরীরও একটা মহাবিশ্ব; মহাবিশ্বের মতো শরীরেও রয়েছে অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্র, বিচিত্র এর গতি-প্রকৃতি, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া! আমরা সাধারণ মানুষ এসবের কতোটুকুই বা জানতে পারি! এমনি কী বিজ্ঞানীরাও প্রতিনিয়ত শরীর ঘেঁটে উদ্ঘাটন করছে নতুন নতুন বিস্ময়কর সব তথ্য। নারী-পুরুষ উভয়ের শরীরেই থাকে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন আর নারী হরমোন এস্ট্রোজেন। সাধারণত পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন আর নারীর শরীরে এস্ট্রোজেন হরমোন বেশি থাকে। কিন্তু কোনো পুরুষের শরীরে যদি নারী হরমোন এস্ট্রোজেনের মাত্রা বেশি থাকে তাহলে তার চেহারায় এবং আচরণে নারীত্ব প্রকট হয়ে ওঠে, আবার একইভাবে যদি কোনো নারীর শরীরে পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরন হরমোন বেশি থাকে তাহলে তার চেহারা এবং আচরণে পুরুষত্ব প্রকট হয়ে ওঠে। এর জন্য সেই পুরুষ বা নারী কোনোভাইে দায়ী নয় এবং এটা কোনো রোগও নয়। কেবল আমি-ই নই, আমাদের দেশে নাকি বহু মানুষ আছে যারা পুরুষের দেহ নিয়ে জন্মালেও ভেতরে ভেতরে আসলে নারী। কিন্তু সমাজের অপমান-লজ্জা থেকে বাঁচতে তারা তাদের মনোলিঙ্গের কথা গোপন রাখে। কেউ কেউ সামাজিকতার জন্য বিয়ে করে, সন্তান হয়; স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এক সাজানো মিথ্যে সংসার করে যায় আজীবন। কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সংসার করলেও শরীরের তাড়নায় গোপনে পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়। আবার এর উল্টোটাও আছে, অনেকে নারীর শরীর নিয়ে জন্মায় কিন্তু তার মনোলিঙ্গ পুরুষের। এটা অসুস্থতা নয়, কিছু মানুষের প্রকৃতিই এমন হয়, আমিও তাই।’

আমি নদীর দিকে তাকিয়ে কথা বলছিলাম, হঠাৎ ভাবীর দিকে মুখ ফেরাতেই দেখলাম তার দু-চোখ থেকে জলের ধারা নামছে কপোল বেয়ে। ভাবীর হাতের মধ্যে আমার ডান হাত, বললাম, ‘ভাবী!’

ভাবী আমার হাত ছেড়ে দুইহাতে নিজের মুখ ঢেকে হু হু করে কেঁদে উঠলো। আমি অশ্রুসিক্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। ভাবীর নারী হৃদয় আহত হয়েছে, তার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে; এ তার স্বপ্নভঙ্গের কান্না। কাঁদুক, কেঁদে বুকের ভার নামাক।

বেশ কিছুক্ষণ পর আমি ভাবীর মাথায় হাত রাখলাম, ‘ভাবী।’

সে মুখ তুলে তার অশ্রুভেজা চোখ আমার চোখে রাখলো, ‘আমি না জেনে তোমার সঙ্গে সত্যিই খুব অন্যায় করেছি শাহিন, এখন নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।’

‘প্লিজ ভাবী, এভাবে বোলো না। তোমার কষ্টটাও আমি বুঝতে পারি।’

‘শাহিন, তোমার প্রতি আমার যে ভালবাসা জন্মেছে তা তো মিথ্যে নয়, ফুরোবারও নয়। আজ থেকে তুমি আমার সই; যে গোপন দুঃখ-ব্যথা আমরা কারো কাছে প্রকাশ করতে পারবো না, তা একে অন্যের সাথে ভাগ করে নেব। আমরা একে অন্যের সুখের ভাগীদার যেমনি হবো, তেমনি দুঃখও ছোব!’

আমি ভাবীর চোখের দিকে তাকালাম, সেখানে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নেই, আছে আমার জন্য অকৃত্রিম মমতা-ভালবাসা। ভাবী বামহাত দিয়ে আমার কাঁধ জড়িয়ে ধরে গালে গাল ঠেকালো, আমিও ডানহাত বাড়িয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম; একজন চৈত্তিক-দৈহিক নারী আর আরেকজন কেবল চৈত্তিক নারী সই পাতিয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে, গালে গাল ঠেকিয়ে, একে অন্যের নিগূঢ় ব্যথা স্পর্শ করে, সময়ের হিসাব ভুলে কল্লোলিত পদ্মার দিকে তাকিয়ে বসে রইলাম!



(চলবে……)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:২৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×