somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃতিবিরুদ্ধ

০৮ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভোরবেলায় গ্রামে এসে যখন বিছানায় শুয়ে দু-চোখ বুঝলাম, শুরু হলো হৃদয়ে প্রেমের উস্কানি দেওয়া ফাল্গুনের বৃষ্টি, বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে মোহের মতো ভালোলাগায় বুঁদ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল কোকিলের সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর শুনে; সঙ্গে টিয়া, দোয়েল, টুনটুনি, চড়ুইসহ নানা পাখির সঙ্গত। নাগরিক জীবনে পর্যাপ্ত পাখির ডাক শুনতে না পাওয়ার অভাব ওরা যেন এক সকালেই পুষিয়ে দিতে চাইল! হঠাৎ পাশের বাড়ি থেকে ডেকে উঠল একটা ছাগল, ‘ম্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ....ম্যাঁ অ্যাঁ ম্যাঁ অ্যাঁ........!’

পাখিদের সুরেলা-শ্রুতিমধুর কণ্ঠস্বর ছাপিয়ে অবিরাম আমার শ্রবণেন্দ্রিয়ে আঘাত করতে লাগল ছাগলের কর্কশ কণ্ঠস্বর।

আমি বিছানা থেকে নেমে ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে দিলাম, কম্বলের মোলায়েম পশমের আলত স্পর্শের মতো শরীরে আদর বোলাল শীতল বাতাস। ছোট আমগাছের ডালে বসা একটা টিয়া পাখির দিকে দৃষ্টি পড়ল, গলার নিচের পালক বিন্যাস করছিল, আমাকে দেখতে পেয়ে পালক বিন্যাস বাদ দিয়ে থমকে তাকাল, তারপর ঘাড় নেড়ে নেড়ে আমাকে দেখতে লাগল, আমিও তাকিয়ে রইলাম টিয়ার দিকে। হঠাৎ টিয়া পাখিটা বলে উঠল, ‘সুপ্রভাত দাদা!’

আমিও বললাম, ‘সুপ্রভাত। ভালো আছো তোমরা?’
টিয়া অনুযোগের সুরে বলল, ‘ভালো আর থাকতে পারছি কই দাদা, বড় বিপদে আছি!’
‘কেন, তোমাদের আবার কী হলো? তোমরা গাছের ফল-মূল, মাঠের ফসল খাবে। মনের সুখে উড়ে বেড়াবে আর গান গাইবে।’
‘তেমন হলে তো আর কোনো চিন্তাই ছিল না দাদা।’
‘কেন, কী হয়েছে?’
‘এখন আর আগের মতো নির্ভয়ে মনের সুখে কথা বলতে পারি না, গান গাইতে পারি না।’
‘কেন?’
‘ওই যে শুনছেন না ছাগলটা ম্যাঁ ম্যাঁ করছে?’
‘হ্যাঁ শুনছি, ছাগল তো ম্যাঁ ম্যাঁ করবেই।’

‘ও শুধু ম্যাঁ ম্যাঁ করলে তো কথাই ছিল না। দিন-রাত্রির ঠিক নেই, স্থান-কাল জ্ঞান নেই, যখন-তখন ম্যাঁ ম্যাঁ করে, আর আমাদের পক্ষীকূলকে শাসায় যে ওর ম্যাঁ ম্যাঁ করার সময় আমাদের চুপ থাকতে হবে। আমরা চুপ থাকলেও শান্তি নেই, বলে কি না- তোমাদেরও আমাদের মতো ডাকতে হবে! দিনরাত বয়ান দিতে থাকে যে ওদের মতো না ডাকলে নাকি আমাদের পরকাল উচ্ছন্নে যাবে। বলেন দাদা, এই কী কোনো কথা! আমাদের বাপ-দাদা চৌদ্দগুষ্ঠি যে ভাষায় কথা বলত, গাইত; আমরাও সেই ভাষায় কথা বলি, গান গাই। অথচ এখন নাকি আমাদের পূর্ব-পুরুষের ভাষা ভুলে ছাগলদের ভাষা শিখতে হবে, পূর্ব-পুরুষের সংস্কৃতি ভুলে ছাগলাচার শিখতে হবে! আমাদের পক্ষীকূলের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য আছে। এই কী ভোলা সম্ভব, বলেন দাদা?’

আমি দু-দিকে মাথা নেড়ে বললাম, ‘না, না, তা কখনোই নয়। তোমরা পক্ষীকূল পৃথিবীর সম্পদ। তোমরা তোমাদের ভাষা-সংস্কৃতি ভুলে গেলে পৃথিবী বৈচিত্র্যহীন হয়ে যাবে।’

‘প্রাণের কথা বললেন দাদা। কিন্তু এই ছাগলগুলোকে এসব কথা বুঝাতেই পারি না। ওদের মুখে কেবল একই কথা- আমাদের মতো ডাকতে হবে, আমাদের আচার পালন করতে হবে।’

টিয়া আমার দিকে এগিয়ে এসে ফিস ফিস করে বলল, ‘জানেন দাদা, ছাগলগুলোর কোনো সংস্কৃতি নেই, ওরা ওদের প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য সব ধ্বংস করেছে! ওরা নিজেদের পূর্ব-পুরুষদের ঘৃণা করে, ওরা শিকড়বিহীন উন্মুল এক প্রজাতি!’

ছাগলটি অবিরাম ডেকেই চলেছে। আমি মাথাটা জানলার দিকে আরও এগিয়ে দূরে দাঁড়ানো ছাগলটার দিকে তাকালাম, লালচে বালির মতো গায়ের রঙ, বেশ লম্বা, চেহারায়-চোখে আগ্রাসী ভাব, থুতনিতে কিছু দাড়ি। অবিরাম ডেকেই চলেছে, ‘ম্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ....ম্যাঁ অ্যাঁ ম্যাঁ অ্যাঁ........!’



রাজবাড়ী
০৪.০৩.২০২৪
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০২৪ রাত ১১:৪৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই যোদ্ধা!

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৭


এই লোকটির নাম আল আমিন। সে বিশেষ একটি দলের হয়ে জুলাই মঞ্চে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেয় মাঝেমধ্যে। এর সম্পর্কে গুরুতর একটি অভিযোগ উঠেছে, সে নাকি ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের দাপুনিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি যা জানো, আমি তা জানি না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



তোসার সাথে কথা চালাচালি হয় না মেলাদিন;
বসন্তদিনে অস্ত গেলেই বেশ জমিয়ে,
আড্ডা হতো চিলেকোঠার বারান্দায়।
তোমার মতো স্মৃতিশক্তি প্রখর না হলেও
ভালোই হতো স্মৃতিচারণ।
কতো যে স্মৃতিসমষ্টি- দগদগে-... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৩

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী প্রতিষ্ঠান বিটিভির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছে বেসরকারী ব্যক্তি কাজি জেসিন!

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৫২




আশির দশককে বলা হয় বিটিভির নাটকের স্বর্ণযুগ । সেই সময়ে বিটিভিতে মহাপরিচালক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান,এম এ সাঈদ , জামিল চৌধুরি প্রমুখ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×