somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্তিত্ব

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অস্তিত্ব
শাসনতন্ত্র ছুঁড়ে ফেলে দাও আদিগন্ত অন্ধকারে বিবিধ বিধান...
উত্থান প্রণেতার ভুল করেনি কবুল কেউ
তবু সিদ্ধান্তে পৌঁছাই, বাঁধি আঁট-ঘাট,
প্রসঙ্গ ও প্রেক্ষিত ফেলে উঠে চলে যাই-
সাংকেতিক লিপি পাঠ শেষে বাস্তবতা খায় ঠোক্কর
লুব্ধস্বরে ডাকে না কেহই তবু আসে ভোর,
সিদ্ধান্তে পৌঁছাই...
উপনীত হলাম আমি কাহার সকাশে?

হঠাৎ আকাশে বিমান আবির্ভুত...
চক্রব্যূহ, অগ্নিবলয়, ফাঁদ অতিক্রম করে
সংকেত-বার্তা এল কোন প্রদেশের, আলো!
সকল প্রমাদ ভুলে পুনশ্চ ভুল,
ঠুনকো সঠিক, সত্য শতখন্ডিত হয়...
কুয়াশালীন দূরের বাতিঘর ক্রমশ স্পষ্টতর হতে থাকে
অর্থাৎ অগ্রসরমানতা রয়েছে এখনও,
এগুচ্ছি পেরিয়ে সম্মুখ যত ঘটনা ও ঘটনার বাঁক, কীসের অন্বেষণে?

ঝরে বিদ্রুপ...
নিশ্চুপ মেনে নিয়ে সকল বয়ান
ভবিষ্য-ভূতের খোঁজে বাড়ালাম পা;
পথ যায় সরে, ক্রমশ প্রলম্বিত, দীর্ঘতর হয়,
সদা সতর্ক থাকি চোখ-কান রাখি খোলা,
অন্য সকলের মতো দেখি বুঝি সব সমূহ সময়,
ইতিহাস, প্রচন্ড গড্ডল, প্রবাহিত বায়ু-জল-ধূলি,
পথিমধ্যে শোনা ফিস্-ফিস্ ধ্বনি, পশুদের কথোপকথন...
স্বীকার্য অনেক বিষয় করেছি অস্বীকার ফলে মনোবিকলন।

অসংলগ্ন চরণ লিপিবদ্ধ করেছি স্ব-ইচ্ছায়।
কোথা থেকে যেন উড়ে আসেন ঈশ্বরী
ঋতুস্রাবে তিনি ভেজান মৃত্তিকা ফলে
বসন্ত স্বভাবে প্রস্ফুটিত ফুল, বৃক্ষমগ্নতা
সজীব সবুজ পাতার সমাহার, বাহার, দ্যুতি বিচ্ছুরণ...
স্তম্ভিত! থমকে দাঁড়াই
সামান্য ঋণী থেকে যাই দৃশ্যের কাছে
দৃশ্যান্তরের সকল চলচ্ছবি স্থবির হয়ে যায়
শ্লেষাত্মক বোধ জাগে, জাগে ব্যাধি-ঘোর....

সম্মুখে উদ্ভাসিত বিস্তৃত দ্বার আধো উন্মীলিত,
সমুজ্জ্বল আলো, আভা ঠিকরে বেরুচ্ছে...
ইচ্ছে হয়...
কিন্তু ইতস্তত ঢুকতে যাব যেই-
উৎকীর্ণ লিপি পড়ে চোখে- ‘প্রবেশ নিষেধ’।

প্রেতের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছি অতৃপ্তি সহকারে
এ-যাবৎ কাল...
ক্ষুধা, রিরংসা, ঘাম,
শারীরীক নুন, কায়দা কানুন
অনুপুঙ্খ জেনে গেছি সব...
আসমুদ্রহিমাচল দেখে শিখে নেয়া তোমার উপদেশে।
অনুযোগ কেন ঝরে?
বিভিন্ন চরিত্রের আত্মশ্লেষ শুনি, সতীর্থের অভিজ্ঞতা,
কী-উপায়ে ঘটেছিল কী, আর্তি, প্রবেশ-নির্গমণ-
একে-একে বিবৃত করে যান বন্ধুপ্রবর টীকা-টিপ্ননীসহ।

আমি তাই ঘুমন্ত পরীর গোটানো ডানা ধরে মারি মৃদু টান কৌতুহলে...
আশ্চর্য! সে ওঠে না... জেগে উঠি আমি সাথে স্বপ্ন অভিজ্ঞান
হাঁপ ছেড়ে বাঁচি, ঘাম ছেড়ে সেরে গেল জ্বর...
সার্কাস তাবু হতে আসে হ্রেষা ধ্বনি, নুপুর নিক্কণ
ভুল সুরের গান ভেদ করে কুয়াশা ও শীত, ভোরের আজান
তন্দ্রালু সিংহের গর্জন আর বৃংহিত...
প্রতিটি মিথ মিথ্যার বিপক্ষে দাঁড়ায়, আশ্রয় চায়।

কোকাকোলা, কফি, কোকেনের ঢেউ সুদূরের পল্লীতে...
নবান্নেও অন্ন সংকটে থাকে তারা...
ছিপি খুলতেই সোডার বুদ্বুদ,
ফেনায়িত জল ঝরে পড়ে নথিভুক্ত হতে থাকে অদৃশ্য ইঙ্গিত
সেই কবেকার লুপ্তস্বর, মাতালের গান...
প্রতœ কথা শুনি, স্মৃতি হাতড়াই
স্মারকলিপি করি পাঠ কিন্তু কোনো ব্রতই পালন করি নাই।

অনন্তের শকট বুঝি যায় ছুটে...
বিলম্বিত অসহায় যাত্রীর বোধ, অকালবোধন
পরিবর্তীত পরিস্থিতি দাবি করে অভিযোজনের
বিভিন্ন বিষয় আর বিষয়ান্তরের ভারে পর্যুদস্ত হয়ে
প্রতিটি বিপ্রতীপ বোধ সযতেœ করেছি লালন...
সূর্যগ্রহণের কালে বিভ্রান্ত পশুদের ডাক...
থেমে গেছে হৃদস্পন্দন
আমার পালিত বিড়ালের ছানা মরে গেছে গতকাল ইঁদুরের আক্রমনে...
আক্রোশে জ্বলে ওঠে জ্বল-জ্বলে চোখ, মা, রাতের বিড়াল।

ফের করো শুরু, অনেকেই বলেছেন শুভকামনায়
পরিপক্ক কীটদষ্ট ফল পারোতো পুঁতে ফেলো, করহ রোপণ...
চক্রবৃদ্ধি হার সমূহ পাপের...
প্রজন্মের প্রতিটি ফোঁকরে হঠকারীতা,
মিথ্যাচার, অযৌক্তিক ঈর্ষা, স্নায়ু-বিক্ষেপ...
রুগ্ন আপেল বিক্রেতা বলে হাসি মুখে, নিয়ে যান...
অসুখের পরে ভুলে গেছি সব অপ্রকাশ্য, অনুক্ত বিষয়
কিন্তু প্রীত নয় কেউ, শৃঙ্খলতা বাঁধ ভেঙে যায়
প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেল ঘর-সংসার...
ভাবলেশহীন তাকিয়ে থাকত যারা অপলক-
কে কোথায় আছে নিজ-নিজ জীবনসমেত!
খুলে রেখে দ্বার, ভুলে গিয়ে পণ, অবচয়?

মসৃণ কালো শোক,
রানওয়ে ছেড়ে চলে গেল শুভ্র বিমান মেঘের নিকটে...
বিমান বালিকার নিঃশব্দ হাসি নৈঃশব্দকে করে প্রকটিত,
অন্ধকারে বসে থাকে ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া হতবুদ্ধি নামাজি যুবক
মুখ তুলে আমাকেই প্রশ্ন করেন- নিরাময় হবে কি সময়?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:৪৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×