লেখাজোকা শামীম বলেছেন: আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাই না ---
০১) যিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, তিনি কেন তার সাহায্যকারী কর্নেল তাহেরকে লটকাইয়া দিলেন ? এইটা কি গণতান্ত্রিক কাম ?
০২) নিজে সামরিক অভু্যত্থান করে ক্ষমতায় এলেন, হ্যা না ভোট নিয়া ফাইজলামি করলেন, তারপরও তিনি কেমনে গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় আইলেন বুজলাম না। বন্দুক ধইরা ক্ষমতায় আসা কি গণতান্ত্রিক ?
০৩) নিজে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাজেজা দিয়া উনি কেন রাজাকারগুলিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করলেন ?
০৪) উনি শহীদ হইলেন কেমনে ? ইসলাম ধর্ম অনুসারে জিহাদের ময়দানে কেউ মারা গেলে তাকে বলা হয় শহীদ। উনি কি কোন ধর্মযুদ্ধে মারা গেছেন ?
০৫) আপনি লেখছেন মৃতু্যবার্ষিকী, এজন্য ধন্যবাদ। কিন্তু উনার দলের লোকেরা উনার মৃতু্যকে শাহাদাৎ বলে। গাল ফুলাইয়া বলে শাহাদাৎ বার্ষিকী। সাধারণত মুসলমানরা ধর্মযুদ্ধে নিহত হলে সেটাকে শাহাদাৎ বরণ বলা হয়। উনি কিভাবে শাহাদাৎ বরণ করলেন ?
০৬) উনি সংবিধানে বিসমিল্লাহ যোগ করেছেন। কিন্তু সংবিধানের মূলনীতির সবগুলোই ইসলামবিরোধী। তাইলে বিসমিল্লাহ বইলা লাভ কি ? এইটা কি একটা ভণ্ডামি না ?
সংবিধানে বিসমিল্লাহ : হাফ প্যান্টের বুক পকেট
০৭) উনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, গণতন্ত্রের প্রবর্তক। তাইলে শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া আইন করে বন্ধ করে রেখেছিলেন কেন ? খুনীদের পুরস্কৃত করেছিলেন কেন ? এই আচরণগুলো কি গণতান্ত্রিক ?
অনেক লোককে জিজ্ঞেস করে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাইনি। আশা করি, আপনি আমাকে হতাশ করবেন না
উত্তর:
লেখক বলেছেন: আমার কাছে কিছু উত্তর আছে , সেটা আপনার পছন্দ হতেও পারে নাও পারে।
১ নং জবাব: কর্নেল তাহের একজন কমুউনিস্ট ছিল। তার জিয়াকে মুক্ত করার বিপ্লবে জড়িত থাকার মুল উদ্দেশ্য ছিল পরবর্তীতে তাকে চাপ দিয়ে সমাজতন্ত্র চালু করা। কিন্তু পরবর্তীতে সে যখন দেখল জিয়া উল্টা আচরন করছে, তখন জিয়ার তাকে ফাসি দেয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। কেন না তার মত কর্নেলরা রাশিয়ার মত রক্তের সাগরের উপর দিয়ে বিজয়ের পক্ষে ছিল। তাকে ফাসি না দিলে হয়তো হাজার হাজার সাধারন জনগনকে প্রান দিতে হত।
২নং জবাব: তিনি বন্দুক হাতে ক্ষমতায় আসেননি। বরং সেনাবাহিনীর দেশপ্রমিক অংশ তাকে দেশ বিরোধিদের হাত থেকে মুক্ত করে দেশের দায়িত্ব দেয় যখন বাংলাদেশ ছিল নেতৃত্বশুন্য তলাহিন ঝুড়ি।
আমার মতামত হল যে দেশের শতকরা ৬০% জনগন অশিক্ষিত সে দেশে গনতন্ত্র থাকা উচিত নয়। আমি নিজেও চাই পরিপূর্ন শিক্ষিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের দেশে গনতন্ত্রের প্রয়োজন নেই।
লেখক বলেছেন: ৩নং জবাব: আমি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করবনা। এই ব্যাপারে সাক্ষ্য ভবিষ্যত দেবে। জিয়া যেহেতু নিজে স্বাধীনতার ঘোষক হয়ে এই কাজ করেছেন, তাই আমি এই ব্যাপারে আরও না জেনে কিছু বলতে চাইনা।
লেখক বলেছেন: ৪ও ৫নং এর জবাব: শহীদ কে তা ঠিক করবেন । আল্লাহ। আমরা শুধু বাহ্যিক কর্মকান্ড দেখে মন্তব্য করি। তার দলের লোকেরা তাকে শহীদ বলে রাজনৈতিক কারনে, কিন্তু আমি তাকে শহীদ বলি কারন যে দেশকে, ধেশের মানুষকে ভালবাসে আর সে জন্য জীবন দেয় তাকে আমাদের শহীদ বলে সম্মান দেয়া উচিত।
লেখক বলেছেন: ৬ নং এর জবাব: এটা একটা শুরু ছিল। আর একজন আর্মী অফিসারের পক্ষে এর চেয়ে বেশি কিছু করার ছিলনা । কারন সে সময় এরকম আলেম আমাদের দেশে ছিলনা যে সাহস করে জিয়ার এসব ভুল চিহ্নিত করবে। এটা ভন্ডামুর কিছু না।
লেখক বলেছেন: ৭নংএর জবাব: দয়া করে এই জবাবটিকে নেগেটিভলি না পজেটিভলি নেবেন।
শেখ মুজিবকে আমি খুবই সম্মান করি। তিনি বাংলার জনগনকে যেভাবে জাগিয়ে দিয়েছিলেন সেরকম পৃথিবীর আর কেউ পারত কিনা সন্দেহ। তিনি দেশকে খুবই ভালবাসতেন। তিনি ইসলামকে ভালবাসতেন। তিনি কমুউনিজমে বিশ্বাসী ছিলেননা।তিনি মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাস করতেণ। তিনি দেশ থেকে ইন্ডয়ার সৈন্য বের করার ব্যাপারে কোন কথায়ই কারও শোনেননি। তিনি ইন্দরা গান্ধিকে দেশে ফিরেই বলেছিলেন আগে সৈন্য সরাও।তিনিই নিজ উদ্যোগে ওআইসি তে যোগ দিয়েছিলেন।
কিন্তু তিনি কিছু ভুল করেছিলেন যেগুলো ছিল ক্ষমার অযোগ্য।
আমি আগেই বলেছিলাম আমি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গনতন্ত্রে বিশ্বাসী নই। সুতরাং আমি তাকেও এই ব্যাপারে সমর্থন করি।কিন্তু তিনি ইএ ক্ষমতা দিয়েছিলেন এমন কিছু ব্যাক্তির কাছে যারা ছিল ভারতের চামচা, চোর- খুনি।লক্ষ করুন:
১. আপনি তোফায়েল, রাজ্জাক, কাদের সিদ্দিকী, নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিনদের কি বলবেণ? কি বলবেন মোশতাক কে?
বংগবন্ধুর ডাকে যখন সমগ্র দেশ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে তখন এই লোকগুলো ইন্ডয়ায় মদের আসর বসিয়েছিল।
বংগবন্ধু নিজেও এদের পছন্দ করতেননা। কিন্তু এদের হাত থেকে বাচতে পারেননি। এরা তাকে ভুল পথে পরিচালিত করেছিল। আপনাকে প্রসংগত বলি, তখন জামায়াত, মুসলিম লীগ আর আওয়ামীলীগ তিন দল ছিল, যার মধ্যে জামায়াত আর মুসলিম লীগের বেশিরভাগ লোক রাজাকারই বোঝা নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তাহলে তিনি কারজন্য বাকশাল করলেণ???
আপনার কাছে প্রশ্নটা রইল শামীম সাহেব।????
আমি মনে করি তার নাম ভাংগিয়ে যারা সন্ত্রাস নৈরাজ্য করছিল তাদের পথে আনতেই তিনি বাকশাল করেছিলেন। আর পরবর্তীতে তার পুত্র কামাল, শেখ মনি আর তোফায়েল-রাজ্জাক-জলিল গংরা অপকর্ম করে বংগবন্ধুর দুর্নাম করেছে। বংগবন্ধু নিজে তাদের নিয়ে যথেষ্ঠ বিব্রত ছিলেন।
মুজিব নিজ সন্তান কামাল আর শেখ মনি সামলাতে পারেননি। আর তাদের পরিনতি বংগবন্ধুকে বরন করতে হয়েছে।
বংগবন্ধুর খুনিরা কেউ কেউ এই কাজ করেছিল শুধু দেশকে রক্ষার জন্য। তাদেরকে আপনি খুনি বলতে পারেননা। তবে বংগবন্ধু আর তার ছোট অবুঝ সন্তানকে হত্যা করাটা ঠিক হয়নি।
আমি যদিও বলছি তারা কিছু কাজ ঠিক করেনি, তারপরও একটা কথা থাকে আর্মিদেরকে এমনভাবে প্রশিক্ষন দেয়া হয় যে তারা যই কাজকে নিজের দায়িত্ব মনে করে সেই কাজ এমনভাবে করে যে তাদের মধ্যে যেন কোন প্রকার অপরাধবোধ বা মায়া কাজ না করে্ । আপনার পরিচিত কোন আর্মী কর্মকর্তা থাকলে জিগ্গাসা করতে পারেন। আর যেহেতু তার আর্মীতে থাকা অবস্থায় এই কাজ করেছে, সুতরাং এটা কোন অপরাধের মধ্য পড়েনা।
আপনার জানার জন্য বলছি, মুজিব মারা যাওয়ার আগে বেশিরভাগ সামরিক কর্মকর্তা (যেমন, ওসমানি) ও অনেক বেসামরিক কর্মকর্তা জানতেন। জানতেন বর্তমান আওয়ামীলাগের অনেক নেতারাও। কিন্তু তারা তাকে সাবধান করেনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

