somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেবি মিল্ক ব্যাংক, ধার্মিকদের ভাইবোন ভীতি

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা জানি মায়ের দুধের বিকল্প নাই। অথচ নানা ধরণের কারণে অনেক শিশু মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয়।
৫০-৬০ দশক দিকে বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে জানা যায় মানব শিশুর জন্য মাতৃ দুগ্ধের কোন বিকল্প নেই।
অনেক মা দের প্রাকৃতিক কারনে দুধ কম হয়, অনেক মাতাদের দুধ অতিরিক্ত হয় , ফেলে দিতে হয়।

কিন্তু বর্তমান যুগে আমাদের দেশে নাগরিক সমাজ এখন আর আগের মত নেই।
এদেশের ধর্মপ্রান মুসলিম সমাজও আর আরব মরুভুমির অসভ্য বেদুইনদের মত বা পশুপালনকারি গোত্রভিত্তিক নেই,
হিন্দুরাও প্রাচীন ভারতের মত যৌথ পরিবার ভিত্তিক নেই। বরং দিন দিন একক পরিবারকেন্দ্রিক। প্রতিটি পরিবার অন্য আত্নিয় পরিবার থেকে আবাসিক অর্থনৈতিক ভাবে স্বতন্ত্র হয়েগেছে। হচ্ছে। কর্মস্থল দূরে হওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন নবদম্পতিরা। মানুষের প্রডাক্টিভিটি ও সেবা ও বিভিন্ন আয় অনেকগুন বেড়েছে, বাড়ছে।
বর্তমানে পরিবারগুলোর এই স্বতন্ত্রতা ডাইভারশান এবং এককেন্দ্রিকতা এখন একটি কঠিন বাস্তবতা।
উচ্চপদে ও মাঝারি পদে মহিলাদের কর্মসংস্থান বাড়ছে। সিংগেল পেরেন্ট, সিংগেল মাদার বাচ্চা ফ্যামেলীর সংখাও দিন দিন বাড়ছে।
বেবি কেয়ার বেবি সিটিং প্রতিষ্ঠান বাড়ছে। বাচ্চাপালন মায়ের দুধের প্রাপনিয়তা কমে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।

কিছু মা দের বিভিন্ন কারনে শিশুরা সমস্যায় পরে। এছাড়া সিজারিয়ান মায়েদের ওটিতে বা আইসিইউতে থাকলে বাচ্চা মায়ের দুধের অভাবে মরেই যাবে। কম ওজনের দুর্বল আর্লি বর্ন সংকটাপুর্ন বেবি মানুষের দুধ বাদে অন্য কিছু দিলে নির্ঘাত মৃত্যু। কিছু মা দের প্রাকৃতিক কারনে দুধ কম হলে প্রাচীন আমলের মত ফ্রীতে 'দুধ মা' দাই মা পাওয়া যায় না। অনেক টাকা দিলেও পাওয়া যায় না, যেখানে কাজের মানুষও পয়শা দিলে পাওয়া যায় না, আবার দাই মা?
সবচেয়ে সমস্যায় পরে হাসপাতালের নবজাতক। বিভিন্ন রোগাগ্রস্থ বা মা মরা বেবিদের হিউমেন মিল্ক বাদে অন্য কিছু দেয়া বিপদজনক

এমনিতেই শিশুকে প্রথম ছয় মাসে গরু দুধ দেয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। পানিতে মিশিয়ে দেয়া যায়, কিন্তু গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়। আর বাজারে পাওয়া বেবিমিল্ক ফর্মুলাগুলো নির্ভরযোগ্য না মাতৃদুগ্ধের ধারকাছে না। সেসব দুধ বিদেশী, ব্যায়বহুল। এছাড়াও সবার সেই সামর্থ থাকবে সেরকমও না। ঢামেকে ডাক্তার-নার্সরা এ অবস্থায় ওয়ার্ডের অন্য মাতার দুধ খাইয়ে জীবন বাচায়, ডোনার মাতাকে ধমক দিয়ে হলেও
হাসপাতালে যারা কাজ করেন তারা জানেন প্রসুতি ওয়ার্ডে অপরিচিত শিশুদের দুধ খাওয়ানোর ট্রেন্ড অনেককাল আগে থেকেই ছিল, কোন শিশু হয়ত মায়ের দুধ পাচ্ছে না, কান্না করছে, ওয়ার্ডের অন্য কোন মা হয়ত ঐ বাবুকে খাইয়েছে, বা পাত্রে সংগ্রহ করে খাইয়েছে। উভয়পক্ষই হাসিমুখে সম্মত এটা নতুন কিছু না।
মিল্ক ব্যাংক এর মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে অন্যান্ন উন্নত দেশের মত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেয়েছিল হাসপাতাল ও স্বাস্থ বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

মুল ব্যাপারটা হলো, যেসব নবজাতকের জীবন সংকটাপন্ন, মা হারা, মা অসুস্থ, কুড়িয়ে পাওয়া শিশু ইত্যাদি এই সব বাচ্চাদের প্রয়োজনের কথা ভেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারা ডোনার আর রিসিভারের নাম বার কোডে ডিজিটালি রেজিস্ট্রির ব্যবস্থাও করেছিল,

দুঃখ লাগে ওয়াজ শুনে পিএইচডি করা মুমিন ভাইরা ভবিষ্যতে কাকে বিবাহ করা যাবে/যাবে না, বিবি তালাকের ফতোয়া নিয়ে যতটুকু চিন্তিত তার কিঞ্চিৎ পরিমান যদি বর্তমান নিয়ে চিন্তা করতো তাহলে দেশের এই অবস্থা থাকার কথা না।

ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু একটি মন্তব্যে বলেছেন:
বাংলাদেশে উক্ত ‘মিল্ক ব্যাংক’ স্থাপনের হলে
একই মায়ের দুধ পানের কারণে ভবিষ্যতে ভাইবোনের
মধ্যে বিয়ে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা চরমভাবে সামাজিক
অরাজকতা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী,
ভাই ও বোনের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ।


ওনার মন্তব্য বেশ কয়েকজন সামু ব্লগার সমর্থন করতে দেখা গেছে।

কিন্তু কেন?

জীবন রক্ষার কারনে কাউকে রক্ত দেয়া হলে দাতা গ্রহিতা 'রক্তের সম্পর্ক' হয়ে যায় না।
অনুরুপ ভাবে জীবন রক্ষার কারনে এক মায়ের দুধ অন্য বাচ্চাকে দেয়া হলে তারা ভাইবোন হয়ে যায় না
জীবন রক্ষার কারনে কাউকে প্লাজমা, প্লেইটলেট, বোন ম্যারো এমনকি কিডনি দেয়া হলেও দাতা-গ্রহিতা শালা দুলাভাই হয়ে যায় না।
গরু/শুকর থেকে ইন্সুলিন, হরমোন। সাপে কাটা বিষ নিউট্রাল করতে ঘোড়া থেকে নেয়া এন্টি ভেনম গ্রহন করলেও গরু ঘোড়ার আত্নিয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


ধার্মিকদের মিল্ক ব্যাংক, ভাইবোন ভীতি সমস্যা হওয়ার কথা না।
এটি বানিজ্যিক মিল্ক ব্যাংক হবে না। হচ্ছিল নন প্রফিট ব্যাবস্থা। ভলান্টরি ডোনার। ফ্রী রিসিপিয়েন্ট বা নামমাত্র মুল্য। নামমাত্র প্রসেসিং প্রিজার্ভেশন ফি।
আর দুধ গ্রহিতা হবে বেশিরভাগ হতদরিদ্র মাতার সংকটাপন্ন নবজাতক। দুচারটা দিন। মাতা কিছুটা সুস্থ হলে আর লাগবে না।




মিল্ক ব্যাংকে দুধ থাকবে কয়েক সপ্তাহ, ম্যাক্সিমাম ১ মাস, সর্বচ্চ ২ মাসের বেশী থাকার কোন সম্ভাবনা নেই।
আমাদের দেশে বিয়ে হয় ২ থেকে ৬ বছরে ডিফারেন্সে। গ্রামগঞ্জে ১০ বছর মত ডিফারেন্সে বিয়ে হয়। বিয়ে মিক্সিং চান্স ০%
এছাড়াও বিয়ের ক্ষেত্রে আরো নানা ধরণের বাছাই ক্রাইটেরিয়া থাকে সেগুলা উত্তরণ করে একই ডোনার হতে প্রাপ্ত দুধ খেয়ে বড় হওয়া ছেলে-মেয়ের বিয়ে হবে ব্যাপারটা বহু দুরের ব্যাপার। সম্ভাবনা মোটেই নেই। তাহলে এত ভয় কিসের?






আর মিল্ক ডোনার দুধ মাতা যারা থাকবেন তারা রক্তদানের মত যখন তখন যে কোন সময় বা বার বার বছর বছর মিল্ক ডোনেট করতে পারার কথা না। প্রাকৃতিক ভাবে উচ্চ দুগ্ধ ক্যাপাসিটির সম্পন্ন এবং ইচ্ছুক মহিলারা দিবেন। একজন ডোনার মাতা হয়তো জীবনে একবারই দিতে পারবেন কয়েক সপ্তাহ ব্যাপি। এছাড়া মিল্ক ব্যাঙ্কের ধারনা আসার অনেক আগে থেকেই মাতা হাসপাতালে থাকা কালিন অতিরিক্ত দুধের অধিকারি মাতাদের দুধ অনুমতি নিয়ে / অনুমতি ব্যাতিরেকে অতিরিক্ত দুধ পাম্প করে রেখে দেয়া হত, আগে অবস্য ফেলে দেয়া হত।

সমস্যাটা বড়। ধার্মিকদের বড় ভয় দুধ ভাই দুধ বোন যদি বাইচান্স বিয়ে হয়ে যায়, খোদার আরস কেপে উঠে আকাশ ভেংগে মানুষ আহত নিহত হতে পারে। আর বাচ্চা অমুসলিমদের দুধ খেয়ে ফেলে? তাহলে তো জাত কুল ধর্ম কর্ম সবই শেষ!

দূর্নীতি, খাদ্যে ভেজাল, ঘুষ দিয়ে বিদ্যুৎ বিল কমানো আয়কর কমানো, ধর্ষণ, হারাম ইনকাম খাওয়া নিয়ে ধার্মিকদের কোন বক্তব্য নাই, সব চিন্তা মিল্ক ব্যাংক নিয়ে।
কোন ব্যাংকে কোন সঞ্চয়পত্রে ইন্টারেস্ট/মুদারাবা বেশি দেয়, সেই ব্যাংক খোঁজ করা পাব্লিক ও দেখলাম মিল্ক ব্যাংকের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

ধার্মিকদের জীবন রক্ষাকারি শিশুখাদ্য দুধ ভীতি প্রবল।
কিন্তু ধার্মিকরা খাদ্যে ভেজাল দিয়ে মুনাফা করার সময় কোন ভীতি টিতি কাজ করে না।
বাংলাদেশে বানিজ্যিক মিল্ক ব্যাংক চালু হয়ে গেলে ৯০% এর উপর মুসলমানের দেশে মুমিন মুসলমানদের আসল চেহারা দেখা যেত।
আর সেখানে ছাগলের দুধে ওয়াসার পানি মিশিয়ে 'হিউম্যান মিল্ক' বলে তারা চালিয়ে দিয়ে মুনাফা শুরু করতো সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:২০
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জরাথ্রুষ্টবাদঃ পারস্যর বা মধ্য এশিয়ার প্রথম একেশ্বররবাদী ধর্ম

লিখেছেন শের শায়রী, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:৩০



রহস্যময় জরাথ্রুষ্ট। গ্রীক উপাখ্যানেও তার নাম আছে, জরাথ্রুষ্ট নামের অনেক অর্থ আছে, প্রাচীন পার্সিয়াবাসী তারা নামের অর্থ করেছিল “উটের পিঠে আরোহী বার্তা বাহক”। পার্সিয়ার এই ধর্ম প্রচারককে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান কেন বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু?

লিখেছেন রায়হানুল এফ রাজ, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৫০



জাপানী সম্রাট হিরোহিতো বাঙ্গলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু’! এটি শুধু কথার কথা ছিলো না, তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার লেখা প্রথম বই

লিখেছেন ফারহানা শারমিন, ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:১৩



ছোটবেলা থেকেই প্রচন্ড রকম কল্পনাপ্রবণ আমি। একটুতেই কল্পনাই হারিয়ে যাই। গল্প লেখার সময় অন্য লেখকদের মত আমিও কল্পনায় গল্প আঁকি।আমার বহু আকাংখিত বই হাতে পেয়ে প্রথমে খুবই আশাহত হয়েছি। আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির আয়নায়

লিখেছেন নিভৃতা , ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- নয়

লিখেছেন করুণাধারা, ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:০২



আগের পর্ব: নতুন জীবন- আট

অবশেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমার বোন পেট্রার জন্মকে স্বীকৃতি দেয়া হল। আমাকে জানানো হল আমার একটা বোন হয়েছে। আমি বোন দেখতে গেলাম, দেখি মায়ের পাশে ছোট একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×