বছর পঞ্চাশেক পরে এক উত্তরসুরি শুধিয়েছিল তার পূর্বসূরিকে
সবটাই পড়েছি, উজ্জল নক্ষত্রের মত সময়ের সন্তানদের গল্প, যেন অসংখ্য নকশি কাঁথার মাঠ
কিন্তু সে মাঠের পরে আর কিছু তো লেখা নেই, ভেবেছিলাম হয়ত দিগন্তে মিশেছে সেরকম উল্লেখও নেই ।
বরং ৭১ এর পরের সময়টা কিছুটা অস্পষ্ট, মনে হয়েছে ক্ষমতা, বিরোধের যেন এক দুষিত লড়াই কিন্তু দিগন্তে তো মেশেনি,
তবে পরের ইতিহাসটা?
- তারপর আর ইতিহাস নেই
- আমি জানি তুমি বলবে কলম বদ্ধ সময়ই তো ইতিহাস
- মহাকালের সাগরে সময় তো বরাবর সাঁতরায় সে তো কোন ব্রজেন দাস নয় যেন তীরে উঠেই একটি মেডেল তার চাই ।
- আমাদের সময়ে সাতারু সময় থেমে গিয়েছিল অনেকটা গাবতলির পরিবহন বাসের মত
- তারপর মিশেছিল একটা কাল দিগন্তে।
- আমি জানি তোমার ক্ষোভ কি নিয়ে। তুমি পাওনি দিগন্তের ওপারের কথা, শুধু পেয়েছো এপারের কথা
- এপারের গল্পে ছিল সূর্য সেন তাজউদ্দীন ভাসানি; বীর্যবান পুরুষের প্রসব ঘটানোর কথা।
- রাজনীতির গ্যালারিতে সে সময়টা যদিও প্রসবকাল, তবে নিশ্চিত ভীষণ গৌরবের
- তখনকার দিনের মিছিলের প্রথম সারিতে ছিল সব অধ্যাপকেরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্ররা, বুদ্ধিজীবীরা আর ভালবাসতে জানা তরুন প্রেমিকেরা।
- অন্ডকোষহীন কোন প্রেমিক, পৌঢ় ছাত্র, স্বার্থপর রাজনীতিক সেদিন মিছিলে ছিল না ।
- সেদিন মিছিলে ওসমানী তার স্ট্যানগান থেকে যতগুলো বারুদ ছুড়েছিল, তার সবকটিতেই ছিল লাল গোলাপ কিংবা ক্যামেলিয়ার সৌরভ । কোন দুর্গন্ধময় বারুদ অথবা নিরীহ মজুরের শুকিয়ে ওঠা কাল রক্তের গন্ধ তাতে ছিল না ।
- কারন তখন দেশটির প্রসবকাল। বারুদের গন্ধ প্রসূতির জন্য একেবারেই ভাল নয়।
- তারপর সেইসব সিংহী তেজী বীর্যে জন্মেছিল এক শান্ত কন্যা, নাম বাংলাদেশ ।
- ৭১ এর পর সে কন্যা বাড়ছিলও বেশ। তবে কখনও লকলকিয়ে কখনও কিছুটা খুড়িয়ে, একটি পরিপক্ক বাঁশের মাচার তখন ছিল বড্ড অভাব।
- জিয়াউর মুজিবের পর অভিভাবক শুন্য হয়েছিলো কন্যা। খুঁটিহীন মৃত্তিকায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে বাড়ছিল সে।
- একসময় সে যুবতী হয়েছিল। উপচে পড়া উর্বশী রুপ ছিল তার কেননা খোঁড়া যুবতীদেরও যৌবন থাকে। যৌবনের চিহ্ন তো জঙ্ঘায়, বীর্যে, জন্মে, সৃষ্টিতে; পদপৃষ্ঠে নয়।
- আমিও দেশকে যুবতীই দেখেছিলাম। তার রুপের স্তুতিকারিদের দলে আমিও ছিলাম তবে রক্ষাকারীদের দলে নয়।
- যুবতী অজস্রবার ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। প্রতিবার ধর্ষণের পরে হাঙ্গরেরা তাকে নষ্টা পতিতা বলত। তাই হাঙ্গরদের সন্তানেরা বাড়ছিল বায়ান্ন হাজার বর্গ মাইলের বাইরে নিরাপদ আশ্রমে।
- এইসব হাঙ্গর-কুমীর রাজনীতিকদের অনেকের নুন্যতম শিক্ষাও ছিল না। ওদের অনেকেই জানতোনা ধর্ষণেরও কিছু নিয়ম থাকে। ঐ সব উলঙ্গ রাজনীতিকরা শুধু নিয়ম বদলাতে জানতো। আরও উল্লাসের আসায় ওরা বারবার সামরিক আইন, সংবিধান বদলাত।
- আইন বিষয়ে ওদের কেউ কেউ জানতো তবে ওরা সকলেই আইনভঙ্গকারী কাপুরুষ ছিল
- ওরা জানত ওরা একটি সাঁকোর উপর হাঁটছে আর একটি একটি করে তার খুঁটি উপড়াচ্ছে যেন ওরা, সাঁকোটি ভেঙ্গে পড়ার অপেক্ষায়।
- আমি জানি না ওরা হিটলার কিংবা বেনিতো মুসলিনি অথবা চেঙ্গিস খানের মত ধংস চেয়েছিল কিনা। তবে ধ্বংসেরও তো একটা সীমানা প্রাচীর থাকে। তবে কাপুরুষতায় নেই।
- তাই ওদের কেউ কোনোদিন বলতে পারিনি মুজিবের মত করে, আমিই মুজিব বলছি। অথবা তাজউদ্দীনের মত করে, আমিই তাজউদ্দীন বলছি। জিয়াউরের মত করে, আমিই জিয়াউর বলছি
- ওরা জানত এক একটি জ্বলন্ত সূর্যের পাশে দীপহীন কুপি কতটা ম্লান। যদিও ওরা বলেছিল ওদেরও দীপ আভা ছিল কিন্তু ওরা অন্যের ঘিয়ে জ্বলছিল আর আমরা ঘি হয়ে যন্ত্রণায় পুড়ছিলাম।
- আমাদের সময়েও কবিরা, লেখকেরা, পরিব্রাজক, ইতিহাসবিদেরা জন্মেছিল
- তবে দীপহীন কুপির গল্পটা কেউ লিখতে চায়নি। আর কাপুরুষেরাও অনুরোধের স্পর্ধা করেনি
- কারণ ওরা জানত এক একটি জ্বলন্ত সূর্যের পাশে দীপহীন কুপি কতটা ম্লান
- তাই তারপর আর ইতিহাস নেই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

