somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উন্নয়নের নামে দুর্ভোগ: চট্টগ্রামের নাগরিক বাস্তবতা

২২ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চট্টগ্রাম শহর — দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র, সমুদ্রবন্দরনির্ভর অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কিন্তু এই শহরের মানুষ আজ উন্নয়নের ভারে ক্লান্ত। বোধশক্তি হওয়ার পর থেকেই দেখা যায় শহরের একটানা “উন্নয়ন” কার্যক্রম—রাস্তা খোঁড়া, ড্রেন নির্মাণ, ফ্লাইওভার, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ইত্যাদি। দিন যায়, মাস যায়, বছর পেরিয়ে যায়, তবুও যেন কাজের শেষ নেই।

বর্তমান বাস্তবতায় চট্টগ্রাম শহর বিশ্বের অন্যতম ধীরগতির নগরীতে পরিণত হয়েছে। এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টারও বেশি। অফিসগামী মানুষ সময়মতো কাজে পৌঁছাতে পারে না, শিক্ষার্থীরা ক্লাস মিস করে, অসুস্থ রোগী আটকে পড়ে যানজটে। উন্নয়নের গতিতে শহরের জীবন যেন থমকে গেছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সমন্বয়ের অভাব। একটি সংস্থা রাস্তা সংস্কার শেষ করলেই আরেকটি সংস্থা একই জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাজ শেষ না হতেই ওয়াসা পানি লাইনের অজুহাতে খনন শুরু করে; তাদের পর আসে বিদ্যুৎ বা টেলিফোন বিভাগ। এক প্রকল্পের পর আরেক প্রকল্প, অথচ কোনোটিই স্থায়ী সুফল দেয় না।

রাস্তা প্রশস্ত করার নামে দু’পাশে খনন করে রেখে দেওয়া হয় কোমরসমান গর্ত, মাসের পর মাস ঠিকাদারদের দেখা মেলে না। জনদুর্ভোগে নগরবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এতে শুধু সময় নয়, নষ্ট হয় কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদও।

অর্থনীতির ভাষায় উন্নয়ন তখনই সফল, যখন তা মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটায়। কিন্তু চট্টগ্রামের চিত্র তার উল্টো। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বেকারত্ব দুই দিক থেকেই সাধারণ মানুষ দিশেহারা। নুন আনতে পানতা ফুরায়, অথচ এক শ্রেণির মানুষ রাতারাতি বিত্তবান হয়ে যাচ্ছে। সরকারের মুখে উন্নয়নের বড় বড় বুলি, কিন্তু মাঠে নামলে বাস্তবতা ভয়াবহ।

চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যদি সঠিক সমন্বয়, জবাবদিহিতা ও পরিকল্পনার আওতায় না আসে, তবে এই শহর উন্নয়নের নয়, বরং ‘দুর্ভোগের শহর’ হিসেবেই ইতিহাসে জায়গা করে নেবে। এখনই সময় উন্নয়নের গতি নয়, দিক পরিবর্তনের — যেখানে মানুষই হবে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ৯:৫০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস ভাড়ি হবে লাশের গন্ধে

লিখেছেন ফেনা, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১


ছবিঃ গুগল

আলোচনাটা আপাদত একটা ফাইলে করে টেবিলে তুলা থাক। এসো আগে আমরা একটু ধ্বংস ধ্বংস খেলি।
শত বছর হতে চলল পাইনা বাতাসে তেমন লাশের গন্ধ। জাহানের বাতাসটা ভরে উঠুকনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×