শিক্ষা আর স্বাস্থ্যের মতো দেশ দেখাও মানুষের দরকার। কেননা, আমাদের এই বাংলাদেশে রয়েছে ৬৪ জেলা-এই ৬৪ জেলায় দর্শনীয় স্থানের যে অভাব নেই। এসব ঘুরে দেখতেও বহুদিন লেগে যায়। ঘুরে দেখলে অনেক কিছু জানা যায়, শেখাও যায়। তাই সকলের জন্য শিক্ষা, সকলের জন্য স্বাস্থ্য যেমন খুবই সঙ্গত, সংকল্প, সকলের জন্য ভ্রমণ তেমনই আরেকটি ন্যায্য প্রার্থনা ও প্রয়োজন। দেশ দেখায় আনন্দ, নিজের দেশ না দেখা যত দুঃখের, সে তুলনায় দেশ দেখে বেড়ানোর সুযোগ আর কতটুকু? সে সামর্থ্যই বা কজনেরই থাকে? এ জন্যই দরকার সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সহানুভূতি ও সহযোগিতা। যেমন-ভ্রমণার্থীদের জন্য কম ভাড়ায় রেল ভ্রমণ, কমদামে বাসের টিকিট, কম দামে বিমানের টিকিট, সস্তায় ঘর ভাড়া দরকার এই সব। এ সব শুনতে অবাস্তব লাগলেও এই সব স্বপ্ন এখন যে দেখতেই হবে। বিশেষ করে তাদের যারা দেশের ভালো চান, মানুষের ভালো চান! দেশের এক অংশের মানুষের সঙ্গে আরেক অংশের মানুষের দেখা-সাক্ষাৎ চেনা-পরিচয় না হলে, দেশের সবাই সবাইকে না জানলে সে দেশের ভবিষ্যৎ কী? খিদের জ্বালায় ভাত না পেয়ে বউয়ের ওপর ক্রোধান্ধ বেকার স্বামীর ছুঁড়ে ফেলা মাটির হাঁড়িটির যা ভবিষ্যৎ! রেলে, সরকারি বাসে ও বিমানে ভ্রমণার্থীদের জন্য স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ার ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক টিকিট চালু করা কী যায় না? কম দামে এককালীন টিকিট কিনে তিন থেকে ছ’মাস বা সারাবছর ঘুরে বেড়ানোর এ রকম ব্যবস্থা অনেকের হয়তো কাজে লাগবে না, কিন্তু ভ্রমণাসক্ত অনেকেরই খুব কাজে লাগবে। রেল, বাস বা বিমান সংস্থারও এতে লোকসানের আশংকা নেই। কারণ ষান্মাসিক বা বার্ষিক টিকিটের ক্ষেত্রে ছ’মাসের বা সারা বছরের টিকিটের দাম, তা সে যত কনসেশনই দেয়া হোক, এক সঙ্গে আগাম পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে তিন মাসে একবারের বেশি বা কখনওই এত কি.মি র কম বা বেশি ট্র্যাভেল করা যাবে না- এই ধরনের কিছু বিধি-নিষেধেও থাকতে পারে। এইভাবে পর্যটন করপোরেশনও নতুন পরিকল্পনা করতে পারেন। এদিকে বেশকিছু বেসরকারি সংস্থা মাত্র দু-পাঁচটা হোটেল রিসোর্ট বানিয়ে সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত আরো রিসোর্টের নাম-গান শুনিয়েই নিছক লাভের ব্যবসা করছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সুযোগ অনেক অনেক বেশি। তার কারণ, তাদের রাতারাতি লাভের লোভ নেই, আগে থেকেই অনেকগুলো জায়গায় তাদের ট্যুরিস্ট মোটেল আছে। তাছাড়া দেশ জুড়ে পর্যটনের প্রসার তাদের নীতি ও কর্তব্য। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান শফিক আলম মেহেদি কর্তব্য মনে করেই ওয়েব সাইটের মাধ্যমে দিকে দিকে বাংলাদেশের ট্যুরিস্ট এলাকার তথ্যাদি ছড়িয়ে দিচ্ছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য প্রতিযোগিতায় কক্সবাজার ও সুন্দরবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময়ে দেশের মধ্যে বাড়ছে পর্যটনের প্রবণতা, বেড়াবার ইচ্ছা ও রুচি। তাই ট্যুরিস্টরা দলে দলে কক্সবাজার, টেকনাফ দেখে বঙ্গোপসাগর হয়ে পাড়ি দিচ্ছে সেন্টমার্টিন। তবে সকলের জন্য ভ্রমণ ব্যবস্থা করতে হলে চাই কম ভাড়ায় যাতায়াত ও সস্তায় ঘর ভাড়া। এ বিষয়টি পর্যটন করপোরেশনকে বিশেষভাবে ভেবে দেখতে হবে। কথাটা এজন্য বলছি যে, দেশ না দেখার দুঃখের মধ্যে স্বাধীনতার শক্তি যেন ঢাকা পড়ে না যায়। কেননা, স্বাধীনতা মানে দেশ দেখে বেড়ানো। যে দেশে জন্মেছি, সেই দেশে।
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।