বিদেশে বাংগালী হুজুর পাওয়া কঠিন । আব্বু কেমন করে জানি একজন পেয়ে গেলেন। বিদেশ মানে আবু ধাবীর এক ছোট এলাকায়। মেইন সিটি থেকে ৩০০ কিমি দূরে।
নতুন বাংগালী হুজুর ঠিক করা হয়ছে আমাদের দুই ভায়ের জন্য। উদ্দেশ্য ধর্মকর্মে আমাদের পারদর্শী করে তোলা। দুই ভায়ের মধ্যে আমি হাড় দুষ্টু। ভাইয়া সুবোধ ছেলে। অতএব দুষ্টুমির পুরোটাই আমি সামাল দি
হূজুর আসলেন। হুজুরের যে জিনিসটি চোখে পরল তা হল তার মুখে একটা বড় তিল, ঐখানে আবার তিনটে দাড়ি গজিয়েছে। আমার ছোট্ট মনে প্রশ্ন তিল থেকে কেমনে দাড়ি গজায়??
প্রথমেই আরবী হরফ শেখানো শুরু হল। এমনিতে লেখাপড়া ভাল লাগেনা, তারপর আবার আরবী। ভাবলাম কেমনে হুজুররে ফাকি মারা যায়? অতএব শুরু করলাম আমার বজ্জাতগিরি। হুজুর বলত, বল আলিফ, আমি বলতাম পানি খাব। অনুমতি দিলে বাসায় আম্মু না দেখা মত লুকিয়ে পড়তাম। শুরু হত তালাশী। ধরা পড়ে আবার পরতে বসতাম। হুজুরকে কিছু খেতে দিলে, বলতাম আমার খিদা পায়ছে। বেচারা পরত বিপদে
আমাদের বিশাল লন ছিল, তাতে আম্মু প্রচুর ফুলের গাছ লাগাতেন। হুজুর এর একটা অভ্যাস ছিল, ঐখান থেকে ফুল ছেড়াঁ। একদিন ফুল ছিড়ঁতে দেখে আমি চিল্লাই বললাম, আম্মু হুজুর সব ফুল ছিড়াঁ ফেলছে। বেচারা তো ভয়ে শেষ। তারপর থেকে হুজুর আমারে বেশ ভয় পেত। উনি প্রায় সময় বলত, তোমার মত ইবলিশ আমি জীবনেও দেখি নাই।
তবে একথা সত্য, আমার আরবী শেখার হাতেখড়ি তাঁর হাত ধরেই। হুজুর এখন কই জানিনা। তাঁকে পেলে আমি অবশ্যই ক্ষমা চাইব। আল্লাহ পাক তাঁকে সুস্থ রাখুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

