somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতা বিরোধীচক্র এখনও সক্রিয়

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ৩১ আগস্ট ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনও প্রবলভাবে সক্রিয়। ১৯৭১ সালে যারা ইয়াহিয়ার পা-চাটা কুকুর ছিল, তারা বাংলাদেশের অগ্রগতি ব্যাহত করতে চায়। তারাই ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট ও ১৭ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের অগ্রগতি থামানো যাবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের বক্তৃতায় কিছুটা কঠোরতা থাকলেও ছিল নির্মম সত্যের প্রতিধ্বনি। তিনি এর আগের একটি বক্তৃতায় বলেছিলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির নেই যে, স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশের উন্নতি করেছে।তাত্পর্যপূর্ণ কথা। কিন্তু আমরা ১৯৭২ সাল থেকেই লক্ষ্য করে আসছিলাম যে, স্বাধীনতার চেতনা যেন ভোঁতা হতে চলেছে। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার বাণী’তে আমি রাজাকারের ক্রমবিকাশনামে ধারাবাহিক একটি কলাম লিখেছিলাম। তাতে দেখিয়েছিলাম যে, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্য আগস্টের ট্র্যাজেডির আগেই নানা ছদ্মবেশে, মিষ্টি কৌশলে বাংলাদেশের প্রশাসনে স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রশ্রয় পেয়ে গেছে। জনপ্রিয় কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর ইতিহাসের রক্তপলাশ পনেরই আগস্টএবং চরমপত্রখ্যাত এমআর আখতার মুকুলের মুজিবের রক্ত লালবইতে আছে অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী আমলা-অফিসাররা প্রশাসনে জেঁকে বসেছিল। কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর প্রশস্তি গাইত কিন্তু সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর গুলি খাওয়া বাঘের মতো জেগে উঠেছিল ওরা পাকিস্তানি চেতনায়।
ড. মুনতাসীর মামুনের একটি কলাম থেকে এ কথা জেনে তাজ্জব বনে গেছি যে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ডালিমও বীরউত্তমখেতাব পেয়েছিল। ১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানী লন্ডনে গিয়েছিলেন চিকিত্সার জন্য। তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল ডালিম। মওলানা ভাসানী ডালিমকে বলেছিলেন, এই বুড়া সারা জীবন যা করতে পারে নাই, তুই আর তোর সাথীরা ১৫ আগস্ট সেই কাজ কইরা জালেমের হাত থেকে দেশ বাঁচাইছোস।’
এ কথা ডালিম তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে। এ কথা অবিসংবাদিতভাবে সত্য যে, পাকিস্তান ফেরত বাঙালি আর্মিরা ১৫ আগস্টের বিপর্যয় ঘটিয়েছে। তদুপরি আমাদের দু’জন মুরুব্বী দেশ স্বাধীনের পরপরই স্বাধীনতার মূল্যবোধের বিপরীত বিন্দুতে দাঁড়িয়ে তাদের অভিমত প্রচার করতে শুরু করেছিলেন। এদের একজন আবুল মনসুর আহমদ, অন্যজন মওলানা ভাসানী। দ্বিজাতিতত্ত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে যেখানে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেখানে আবুল মনসুর আহমদ বলতে শুরু করলেন যে, দ্বিজাতিতত্ত্ব মিথ্যা প্রমাণিত হয়নি। এও বললেন যে, বাংলাদেশ কোনো সেক্যুলার দেশ নয়, মুসলিমপ্রধান দেশ। অন্যদিকে মওলানা ভাসানী স্বাধীন দেশে সরাসরি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, যারা মুসলিম বাংলা কায়েম করতে চায়, তাদের আমি দুই হাত তুলে দোয়া করি।
(ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া, বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ)। তত্কালে সোচ্চার কণ্ঠে মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, হিন্দু খাদ্যমন্ত্রী বলেই ভারতে খাদ্য পাচার করছে। হিন্দুরা, তোমাদের দশা বিহারিদের দশা হবে।(শওকত ওসমান, রাজনৈতিক কার্বালঙ্কার-ইতিহাসে বিস্তারিত)।
এসব উল্টো হাওয়ার কথা দেশে স্বাধীনতার মূল্যবোধকে যেমন ভোঁতা করে দিচ্ছিল, তেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বাতাবরণ তৈরি করেছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তাদের জবানবন্দিতে বলেছে যে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রেখে দেশের পরিবর্তন সম্ভব ছিল না। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল তিনি পাকিস্তান ভেঙে একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে সত্যি সত্যি নামে মাত্র বাংলাদেশ ছিল, জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে ফেলেছিল। রাজাকাররা প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্পিকার পর্যন্ত হয়েছে। প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে। রাজনীতিতে টাকা একটি বড় ফ্যাক্টর। অ্যাঙ্গেলস বিত্তের মালিক না হলে মার্কস পুঁজিবইটি লিখতে পারতেন না। এজন্য জামায়াতে ইসলামী বুদ্ধি করে অর্থের উত্স প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা দেশের বেকারত্বকে কাজে লাগিয়েছে।
কিন্তু ঘটনার এক পিঠ বিশ্লেষণ করলে লাভজনক হবে না। শেখ ফজলুল হক মনি তার দুরবিনে দূরদর্শীকলামে লিখেছিলেন, মোনায়েম খানের আমলা দিয়ে মুজিবের প্রশাসন চলতে পারে না।বঙ্গবন্ধুর সরকারকে সচেতন করার জন্যই মনিভাই কথাটি বলেছিলেন। বিদ্বান ও ক্ষুরধার বুদ্ধিমান শেখ মনি ইতিহাসের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলেন, বিপ্লবের পরে প্রতিবিপ্লব আসবে।এই নামে একটি প্রবন্ধ লিখে জানিয়েছিলেন, লেনিনের চেয়ে কেরেনেস্কির জনপ্রিয়তা বেশি ছিল, কিন্তু লেনিনের ছিল প্রশাসনিক বুদ্ধি ও সচেতনতা। প্রশাসনে তিনি তার লোকজন ঠিকমতো সেট করে ফেলেছিলেন। এ জন্য ইতিহাসে লেনিন টিকে গেছেন।
বঙ্গবন্ধুর বেলায় এর ব্যতিক্রম ঘটেছিল। তদুপরি স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের পরস্পর অনৈক্য ও দূরত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছিল। প্রত্যক্ষ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে স্বার্থমগ্নতায় পেয়ে বসেছিল। রাজাকারের সঙ্গে অনেকে অর্থবিত্তের লোভে আত্মীয়তাও করেছিলেন। স্বাধীনতার শত্রুদের ধারাল নখর সম্পর্কে অবচেতন হয়ে পড়েছিলাম আমরা। আমাদের কতক অবিমৃষ্যতায় পেয়ে বসেছিল। এই সুযোগ স্বাধীনতার শত্রুরা নিয়েছিল। তাদের অপপ্রচার ছিল অত্যন্ত ধারাল।
১৫ আগস্টের পরে স্বাধীনতার শত্রুরা রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য পেয়ে চূড়াস্পর্শী সোচ্চার হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি পরপর তিনবার ক্ষমতায় আসার পরও তাদের উদ্ধত-স্পর্ধা অবনমিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মনে রাখতে হবে যে, অতীতে স্বাধীনতাপক্ষের লোকজনের শৈথিল্য স্বাধীনতার শত্রুরা কাজে লাগিয়েছে। এখনো স্বাধীনতার মূল্যবোধে বিশ্বাসী, সংবিধানের চার মূলনীতিতে বিশ্বাসী লোকেরা ঐক্যবদ্ধ না হলে বিপদ ঘটতে বিলম্ব হবে না।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ের অবস্থা নিয়ে আলাদা গুরুত্ব দেয়া দরকার

লিখেছেন অপলক , ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫



পাহাড়ীদের হাতে এখন প্রচুর টাকা। সে টাকার যোগান প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আমরা সমতলের জনগন দিয়েছি। পাহাড়ীরা এখন জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। তাদের মাঝে প্রচুর উচ্চ শিক্ষিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×