
সজীব ভাইয়ের ফোন,কিরে এই প্রচন্ড গরমেও তুই বাড়ি এলি না যে?
আমি বললাম, বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রচন্ড গরম কি একটি উপলক্ষ। সজীব ভাই বললেন, অবশ্যই এই প্রচন্ড গরম বাড়ি আসার জন্য একটি বড় উপলক্ষ।গরমে আম-কাঁঠাল পাকবে আর সেই আম কাঠাল খাওয়ার জন্য বাড়ি আসবি না। আমি বললাম,আম-কাঠাল খাওয়া একটি উপলক্ষ হতে পরে তাই বলে প্রচন্ড গরম কি করে একটি উপলক্ষ হয়! সজীব ভাই ধমক দিয়ে বললেন,সব সময় বেশি কথা বলিস আমি আসতে বলেছি তুই আসবি। এতক্ষনে আসল কথাটি বললেই তো হত।
পরেদিন সকালে বাড়ির উদ্দেশ্য বাসে উঠে বসলাম।খুলনা হয়ে যশোরে যাব,এই প্রচন্ড গরমেও কারও কোন কাজ থেমে নেই,বাস ভর্তি মানুষ।বাস কোন স্টান্ডে থামলে সাথে সাথে বিভিন্ন রকমের হকাররা বাসে উঠে পড়ছে। এমনিতে গরমের জ্বালা তার উপর জ্বালা হকারের।
বসুন্দিয়া বাস স্টান্ডে আসতেই এক সাথে তিনজন বাসে উঠে প্রায় একই সাথে বলতে লাগল,এই লিচু পাকা টসটসে লিচু নিবেন। ৫০টি মাত্র ২০ টকা!
কেউ কিনল কি কিনল না বুঝতে পারলাম না। দুজন নেমে গেছে এক জন এখনও আছে বাস আস্তে আস্তে চলতে শুরু করেছে। ছেলেটার বয়স কত আর হবে খুব বেশি হলে দশ। এই বয়সেই জীবিকা অর্জনে নেমে পড়েছে।আমার সামনে আসতে বললাম, কত করে লিচু?
নেন ভাইজান ৫০টি মাত্র ২০ টাকা। লিচু গুলো ছোট পলিথিনের ব্যাগে বাধা।লাল টকটকে তবে একটু ছোট ছোট।বাজার হিসেবে দাম খুবই কম। ১০০ টি লিচুর দাম ৪০ টাকা পড়ে।আমি ছেলেটিকে বললাম কম হবে না? না ভাইজান এক দাম।
ছেলেটিকে দেখে কেমন মায়া হল । ওর হাতে থাকা ছয়টি প্যাকেটই কিনে নিলাম। মনে হল ও খুব খুশি হয়েছে। মানুষকে কত সহজেই খুশি করা যায়।
বাস ঝিকরগাছা বাস স্টান্ডে থামলে নেমে পড়লাম। এখন প্রায় দুপুর মাথার উপরে উত্তপ্ত সূর্য শরীরটাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।একটা জায়গা দেখে লিচু গুলোর প্যাকেট নিয়ে বসে পড়লাম। এই লিচু নিবেন লিচু পাকা টসটসে লিচু।৫০টি মাত্র ৩০ টাকা। এরই মধ্যে অনেক খরিদদার হাজির তারা আমার লিচু দেখছে। কেউ বলছে, ভাই কম হবে না? আমি হাসি মুখে বললাম এক দাম। হঠাৎ সামনে সজীব ভাই এসে হাজির।
কিরে নীল লিচুর ব্যবসা শুরু করলি কবে থেকে?
এই তো কিছুক্ষন আগে থেকে সজীব ভাই।ছয় প্যাকেট ছিল এখন মাত্র এক প্যাকেট আছে আপনি নিতে পারেন।
নিলাম এখন বাসায় চল তোর এই ছাগলামি আর ভাল লাগে না। খেয়েছিস সকালে।
না খাইনি এখনো। এখন তো আমি দুবেলা খাই আর এক বেলে উপোস থাকি।
এই পাতলা শরীরে আবার ডায়েড করছিস! ডায়েট না সজীব ভাই এটা দ্রব্য মূল্যর উর্ধ্বগতীর বিরুদ্ধে আমার মত সাধারন জনগনের একটি নিরব প্রতিবাদ।
দেখলে না এক হাওড় ডুবল আর চালের দাম হু হু করে বেড়ে গেল। আমাদের এত বড় দেশ একটি জেলা ডুবলে কি হয়? তার জন্য সব কিছুতে ওই এক কারন দেখাতে হবে। আসলে এসব খোড়া যুক্তি দেখিয়ে এক শ্রেনীর ব্যবসায়ী অকারনে মুনাফা লুটছে। আর সরকার দেখেও না দেখার ভান করছে।আমার তো মনে হয় এ দেশে এক বছর কোন ধান উৎপাদন না হলেও চালের কোন ঘাটতি পড়বেনা।
হ্যা বুঝেছি এখন তোকে আর বক বক করতে হবে না। তাড়াতাড়ি বাড়ি চল। রাতে জমিয়ে গল্প করা যাবে।ও হ্যা ভুলেই গেছি দু তিন দিন পরে তো রমাজান চল কিছু বাজার করে নিয়ে যায়।
সজীব ভাইয়ের সাথে বাজার করতে গিয়ে ভালই অভিজ্ঞতা হল। আসন্ন রমজান উপলক্ষে সব কিছুরই দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে গেছে। এক দোকানদারের কাছে জানতে চাইলাম ভাই সব কিছুর এত দাম কেন?
দোকানদার তার ক্লোজাপ দিয়ে মাজা দাত বের করে বলল, বোঝেন নাই রোজা আইতাছে।
রমাজন উপলক্ষে যেখানে সকল মুসলিম দেশে কে কত ছাড়ে পন্য বিক্রি করতে পারে সেই প্রতিযোগীতা করে সেখানে এ দেশে প্রতিযোগীতা চলে কে কত মুনাফা লুটতে পারে। সত্যি আজব আমার দেশ। রমজান উপলক্ষে যে যত পার মুনাফা লুটে নাও এ সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য!
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১৭ দুপুর ১২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




