somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জুলাই মাসের ৫ তারিখের পর থেকে পদ্মা, তিস্তা, ব্রক্ষমপুত্র ও যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ছোট থেকে মাঝারি মানের বন্যার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে

২৯ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জুন মাসের ২০ তারিখে দেওয়া পূর্বাভাষে (আমার ফেসবুকে দেওয়া স্টাটাসে) বলেছিলাম যে "জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বন্যা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে তিস্তা, ব্রক্ষমপুত্র ও যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে।" আমি মোটা-মুটি নিশ্চিত যে পূর্বে ঘোষিত এই বন্যাটি শুরু হতে যাচ্ছে। একটা চাইনিজ প্রবাদ আছে যে যদি কাউকে একদিন মাছ খাওয়াতে চাই তবে সেই ব্যক্তিকে ১ টা মাছ কিনে দাও; আর যদি তাকে নিয়মিত ভাবে মাছ খাওয়াতে চাও তবে তাকে মাছ ধার বড়শি কিনে দিয়ে তা দিয়ে মাছ ধরা শিখিয়ে দাও। আমি চাই আপনারা সবাই জানুন বা শিখে রাখুন কেন এই সম্ভব্য বন্যাটি হতে যাচ্ছে বলে আমি মনে করছি আবহাওয়া বিজ্ঞান বিষয়ের জ্ঞানের আলোকে বা তথ্য বিশ্লেষণ করে।



আপনাদের মানে আছে হয়ত যে জুন মাসের ১১ তারিখে "মাতৃভাষা বাংলায় আবহাওয়া বিজ্ঞান চর্চা: পর্ব ৭ (মেডেন-জুলিয়ান স্পন্দন বা সংক্ষেপে এমজেও চক্র এর মাধ্যমে অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির চক্র ব্যাখ্যা)" এর লেখাটির কথা। এমজেও আবহাওয়া চক্রটিকে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় বাষ্পীভবনের ওপর ভিত্তি করে আটটি দশায় ভাগ করা হয়। এমজেও যখন ২ ও ৩ নম্বর দশায় (ফেস) থাকে, তখন উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরের পানিতে প্রচণ্ড সক্রিয় বাষ্পীভবন হয়ে থাকে। ফলে আকাশ ভর্তি থাকে মেঘে। গ্রীষ্মকালে এমজেওর অবস্থান কিছুটা উত্তর দিকে সরে যায়। ফলে এমজেও যখন ২ ও ৩ নম্বর দশায় (ফেস) থাকে, তখন বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারি বৃষ্টি হয়ে থাকে। জুন মাসের ২৭ তারিখ থেকে এমজেও আবহাওয়া চক্রটি ১ নম্বর দশায় অবস্থান করছে ও আগামী ২ দিনের মধ্যে এটি ২ নম্বর দশায় উপনীত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এমজেও আবহাওয়া চক্রটি জুলাই মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত ৩ নম্বর দশায় থাকার কথা নির্দেশ করতেছে আবহাওয়া পূর্বাভাষ মডেল। ফলে জুলাই মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন বৃষ্টি হবে দেশ-ব্যাপী। বিশেষ করে ভারতের আসাম রাজ্যের ব্রক্ষমুপত্র নদীর অববাহিকায় ও বিহার ও পশ্চিম বঙ্গের গঙ্গানদীর অববাহিকায়। এই কারণে জুলাই মাসের ৩ তারিখের পর থেকে তিস্তা, ব্রক্ষমপুত্র নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে ও জুলাই মাসের ৫ তারিখের পর থেকে যমুনা নদীর পানি অনেক স্থানে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বতিস্তা, ব্রক্ষমপুত্র ও যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলোর অনেক জেলা বন্যা কবলিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

আপনাদের সুবিধার্থে "মাতৃভাষা বাংলায় আবহাওয়া বিজ্ঞান চর্চা: পর্ব ৭" আবারও তুলে দিলাম নিচে:
==============================================================

মাতৃভাষা বাংলায় আবহাওয়া বিজ্ঞান চর্চা: পর্ব ৭ (মেডেন-জুলিয়ান স্পন্দন বা সংক্ষেপে এমজেও চক্র এর মাধ্যমে অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির চক্র ব্যাখ্যা)

বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বেশ কিছুদিন দেশব্যাপী নিয়মিত বৃষ্টির পরে এক থেকে তিন সপ্তাহ প্রায় বৃষ্টিহীন থাকে। এ অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির চক্রটা আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেন এমজেও নামে একপ্রকার আবহাওয়া চক্রের মাধ্যমে (MJO is an eastward moving disturbance of clouds, rainfall, winds, and pressure that traverses the planet in the tropics and returns to its initial starting point in 30 to 60 days, on average.)। আবহাওয়া চক্রটি আবিষ্কার করেন রোনাল্ড মেডেন ও পাউল জুলিয়ান নামে দুজন বিজ্ঞানী, ১৯৭০ সালে। আবহাওয়া চক্রটি বিষুবীয় অঞ্চলের সমুদ্র ও তত্সংলগ্ন আকাশের মধ্যে একটি মিথস্ক্রিয়া।



এমজেও আবহাওয়া চক্রটিকে প্রথমত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়: সক্রিয় বাষ্পীভবন দশা ও নিষ্ক্রিয় বাষ্পীভবন দশা। শীতকালে সকালবেলা পুকুরের পানির তাপমাত্রা পুকুরের পানির উপরের বাতাসের তাপমাত্রা থেকে বেশি থাকার কারণে পুকুরের পানি থেকে ধোঁয়া (বাষ্প) উঠতে দেখা যায়। ঠিক একই কারণে শীতকালে নিঃশ্বাস ছাড়লে মুখ থেকে বের হওয়া আর্দ্র গরম বাতাস ঠাণ্ডা বাতাসের সংস্পর্শে এলে ধোঁয়ার কুণ্ডলির রূপ নেয়। এ ধোঁয়াকে আমরা মানুষসৃষ্ট মেঘও বলতে পারি। ঠিক একই প্রক্রিয়ার সমুদ্রপৃষ্ঠের গরম পানি বাষ্পায়িত হয়ে আকাশে উড়ে যায়। পদার্থবিজ্ঞান বা ভূগোল বিষয়ে পড়েছি, বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে উঠতে থাকলে বায়ুর চাপ কমতে থাকার কারণে বাতাসের তাপমাত্রাও কমতে থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বাষ্পায়িত হয়ে আকাশে উড়ে যাওয়া জলীয়বাষ্পের তাপমাত্রাও কমতে থাকে এবং একসময় ওই জলীয়বাষ্পের কণাগুলো ঘনীভূত হয়ে মেঘের সৃষ্টি হয়। এমজেও আবহাওয়া চক্রটির দশা দুটিকে যথাক্রমে অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি বলা হয়। কারণ সক্রিয় বাষ্পীভবন দশা যখন সমুদ্রের কোনো স্থানে অবস্থান করে তখন ওই স্থানের সমুদ্রের পানি বেশি পরিমাণে বাষ্পায়িত হতে থাকে। ফলে বেশি মেঘের সৃষ্টি হয় এবং বেশি বৃষ্টিপাত ঘটায়। নিষ্ক্রিয় বাষ্পীভবন দশায় বিপরীত ঘটনা ঘটে।



এমজেও আবহাওয়া চক্রটিকে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় বাষ্পীভবনের ওপর ভিত্তি করে আটটি দশায় ভাগ করা হয়। এমজেও যখন ২ ও ৩ নম্বর দশায় (ফেস) থাকে, তখন উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরের পানিতে প্রচণ্ড সক্রিয় বাষ্পীভবন হয়ে থাকে। ফলে আকাশ ভর্তি থাকে মেঘে। গ্রীষ্মকালে এমজেওর অবস্থান কিছুটা উত্তর দিকে সরে যায়। ফলে এমজেও যখন ২ ও ৩ নম্বর দশায় (ফেস) থাকে, তখন বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারি বৃষ্টি হয়ে থাকে। জুন মাসের ২১ তারিখের পর থেকে এমজেও ১ নম্বর দশায় রয়েছে এবং জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ২ নম্বর দশায় প্রবেশ করেতে পারে। জুলাই মাসের ৭ তারিখের পরে এমজেও ৩ নম্বর দশায় প্রবেশ করতে পারে।জুলাই মাসের ১০ তারিখের পরে যখন এমজেও ৪ নম্বর দশায় প্রবেশ করবে তখন বাংলাদেশের ওপর বৃষ্টিপাতের সাময়িক বিরতি দেখা যাবে। দেশব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী (সপ্তাহের উপরে) বৃষ্টিপাত অবস্থা বিরাজ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এমজেও আবহাওয়া চক্রটি আবারো ২ ও ৩ নম্বর দশায় ফিরে আসে।

প্রথম চিত্রে লাল ও নীল লাইনটি কালো বৃত্তের পরিধির ভিতেরে অবস্থান করলে এমজেও আবহাওয়া চক্রটিকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলে গণ্য করা হয়। পক্ষান্তরে লাল ও নীল লাইনটি কালো বৃত্তের পরিধির বাহিরে যত দূরে অবস্থান করবে এমজেও আবহাওয়া চক্রটিকে তত শক্তিশালী বলে গণ্য করা হয়। বর্ষা মৌসুমে লাল ও নীল লাইনটি যখন বৃত্তের পরিধির বাহিরে ১, ২ ও ৪ নম্বর দশায় (ফেজ) অবস্থান করে তখন বাংলাদেশ ও ভারতে ভারি বৃষ্টিপাত হয় ১ থেকে ২ সপ্তাহ ধরে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এমজেও আবহাওয়া চক্রটির অবস্থান দেখে কোনো স্থানের দৈনন্দিন ও সাপ্তাহিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস করে থাকেন। পক্ষান্তরে এল-নিনো ও লা-নিনার অবস্থা দেখে কোনো স্থানের মাসিক বা মৌসুমি আবহাওয়ার পূর্বাভাস করেন। ভারত মহাসাগরের ওপর এমজেও আবহাওয়া চক্রটির সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অবস্থান দেখে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস করা সম্ভব পাঁচ-সাতদিন আগে। একইভাবে এল-নিনো ও লা-নিনার অবস্থা দেখে মৌসুমি বা উপমৌসুমি আবহাওয়ার পূর্বাভাস করা সম্ভব। পরবর্তী পর্বে এল-নিনো ও লা-নিনা চক্র সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করবো।



সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৩:৩৫
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৪৫

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাহিক জীবনে পঞ্জিকা একটি অপরিহার্য বিষয়। তাদের পুজো, বার-তিথি-নক্ষত্র দেখা ছাড়াও পঞ্জিকার গুরুত্ব আছে বাংলা সাহিত্যে। আমার মতে, পঞ্জিকার মতো নির্মল হাস্যরসের ভাণ্ডার বাংলা সাহিত্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা লেখা, কবি হওয়া ও নিজস্ব কিছু চিন্তাধারা

লিখেছেন নীল আকাশ, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৫০



কবিতা লেখা একটা গুণ। একটা বিশেষ গুণ। ইচ্ছে করলেই সবাই কবিতা লিখতে পারে না। কবিতা লেখার জন্য বুকের ভিতরে ‘কবি কবি’ একটা মন থাকতে হয়। বাংলা সাহিত্যে বহু বছর ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×