somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাল্পনিক_ভালোবাসা
বহুদিন আগে কোন এক বারান্দায় শেষ বিকেলের আলোয় আলোকিত উড়ন্ত খোলা চুলের এক তীক্ষ্ণ হৃদয়হরনকারী দৃষ্টি সম্পন্ন তরুনীকে দেখে ভেবেছিলাম, আমি যাদুকর হব। মানুষ বশীকরণের যাদু শিখে, তাকে বশ করে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিব সারাটি জীবন।

ভ্যাপসা গরমে এক রাশ স্বস্তির পরশ- মোহিতো।

২৪ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সাম্প্রতিক সময়ে প্রচন্ড গরম পড়েছে। বছরের এই সময়ে যে গরম পড়ে তার নাম ভ্যাপসা গরম এবং গরমের বিভিন্ন শ্রেনী বিভাগে এই ভ্যাপসা গরমই সবচেয়ে কুখ্যাত। ফলে এই গরমের যন্ত্রনায় স্বাভাবিক লজ্জা ধর্মও বজায় রাখা বেশ কঠিন হয়ে গেছে। এই সময়ে উচিত বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং পানি জাতীয় বিভিন্ন খাবার বেছে নেয়া।
শৈশব থেকেই আমার টুকটাক রান্নাবান্নার শখ ছিলো যা বিভিন্ন পর্যায়ে বন্ধুবান্ধব,পরিবার ও অন্যান্যদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়ে পেশাদার পর্যায় যাওয়ার সাহস যুগিয়েছে। আর এই পেশাদার প্রেক্ষাপটে যাওয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি ঢাকার একটি বিখ্যাত পাঁচ তারকা প্রতিষ্ঠানে culinary arts কল্যুইনারি আর্টস নিয়ে কিঞ্চিত পড়াশোনা করছি। যাইহোক, আজকে আপনাদেরকে কিছু সামার ড্রিংক্স বা গরমের সময় খাবার উপযোগী পানীয় সম্পর্কে জানাবো যা ভ্যাপসা গরমে আপনার দেহে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে এই পানীয় দারুন কার্যকরী। যদিও এই পানীয়গুলো বিদেশী তথাপি দেশীয় ফল ব্যবহার করে আমরা এইগুলো সহজেই তৈরি করতে পারি।
আজকে যে পানীয়টি আমরা তৈরী করব, তার নাম মোহিতো। অনেকেই অনেকেই একে ভার্জিন মোহিতও বলে থাকেন। মোহিতো মুলত একটি কিউবান মিক্সড ড্রিংক্স বা ককটেল। অনেকরকম ককটেল আছে, তারমধ্যে মোহিতো হচ্ছে মুলত হাইবল শ্রেনীর ককটেল। হাইবল হচ্ছে এমন এক ধরনের মিক্সড ড্রিংক্স যেখানে সামান্য পরিমানে এ্যালকোহলকে বেসড বানিয়ে অন্যান্য উপাদান বেশি করে দেয়া হয়। প্রকৃত মোহিতো তৈরি করতে প্রয়োজন হোয়াইট রাম, ব্রাউন সুগার বা ক্ষেত্র বিশেষে আখের রস, লেবুর রস, সোডা ওয়াটার এবং পুদিনা পাতা। সমস্ত পৃথিবীতে এই কিউবান পানীয়টি দারুন জনপ্রিয়। যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নন এলকোহলিক তাই আপনাদেরকে নন এলকোহলিক মোহিতো বানানো সম্পর্কে জানাবো। আজকে বলব, লেমন মোহিতো সম্পর্কে।
আসুন জানি প্রয়োজনীয় উপাদান সম্পর্কে।

সাবকন্টিনেন্টাল পদ্ধতিঃ
১। ছোট কিউব করে কাটা ৫/৬ টুকরো লেবু। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট কলম্বো লেবু বা বাতাবী লেবু যেটায় রস এবং গন্ধ বেশি সেটা নেয়াই উত্তম।
২। আখের চিনি/ দেশি চিনি/ না পেলে সাধারন চিনি।
৩। ১০/১২ টা পুদিনা পাতা।
৪। স্প্রাইট/ সেভেন আপ।
কিভাবে করবেনঃ
মোহিতো শ্রেনীর ড্রিংসগুলো সাধারনত তুলনামুলক লম্বা গ্লাসে সার্ভ করা হয়। এতে দেখতে সুন্দর লাগে এবং টেস্টও কিছুটা ভালো হয়। যেমন:



তবে বেশি লম্বা গ্লাস না পেলে সাধারন পানি খাওয়ার গ্লাস নিন। গ্লাসে প্রথমে দুই/ আড়াই চা চামচ চিনি ঢালুন, গ্লাস লম্বা হলে চিনির পরিমান একটু বাড়িয়ে দিন। তারপর পুদিনা পাতা দিন এবং শেষে দিন লেবুর টুকরো গুলো। সব দেয়ার পর একটা মাডলার নিয়ে ভালো করে মাডলিং করে নিন। মাডলিং মানে হচ্ছে পিষে নেয়া।


মাডলার

মাডলার আপনি যে কোন সুপার শপেই পাবেন। আর যদি তা না চান, তাহলে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে রুটি বেলার বেলুনের ডাট গ্লাসে ঢুকিয়ে ভালো করে পিষে নিন। দেখবেন, লেবু আর পুদিনার রস বের হয়ে একটা সুন্দর গন্ধ বের হচ্ছে। এই অবস্থায় গ্লাসের দুই/তৃতীয়াংশ বরফ দিন। যদি ইউরোপিয়ান স্টাইলে খেতে চান, তাহলে বরফ কুচি দিন, আর যদি আমেরিকান স্টাইলে খেতে চান, তাহলে আস্ত বরফ কিউব দিন। এরপর স্পাইট বা সেভেন ঢালুন।
তারপর, গার্নিসিং বা সাজানোর জন্য একটা কয়েক পিস গোল গোল লেবু আর পুদিনা পাতা নিতে পারেন। গ্লাসে সাইডে গোল করে লেবু লাগিয়ে পাশে একটা পুদিনার ডাল দিয়ে দিতে পারেন। তারপর স্ট্র দিলেই আপনার ড্রিংস রেডি।



এরপর চুমুক দিন!! হঠাৎ দেখবেন আপনার সামনে নীল সমুদ্র। সাদা বালির বিচ। অদ্ভুত সুন্দর বাতাস।
ভালো করে চেয়ে দেখুন, কে যেন সাতার কেটে আপনার দিকেই আসছে। ;)

এছাড়া অন্য আরো একটি পদ্ধতি আছে। তবে তার জন্য আপনার কিছু জিনিস আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখতে হবে, অথবা কিনে নিয়ে আসতে হবে। যেমন জিনজার এ্যলে, সুগার সিরাপ বা সিম্পল সিরাপ। এইগুলো চাইলে ঘরেও বানানো যায়।
১। পুদিনা পাতা নিন, ১৫/২০ টা,
২। চিনি – এক টেবিল চামচ
৩। ৬ চা চামচ লেবুর রস
৪। ৩ চা চামচ সিম্পল সিরাপ বা চিনির সিরাপ।
৫। পরিমান মত জিঞ্জার এ্যাল বা ক্লাব সোডা বা সেভেন আপ।।

প্রথমে গ্লাসে পুদিনা পাতা, চিনি আর লেবুর রস ভালো করে পিষে নিন। এরপর গ্লাসে বেশি করে বরফ দিন। এরপর চাইলে ১০/১৫ চা চামচ জিঞ্জার এ্যল দিয়ে উপরে সামান্য পানি দিয়ে ভালো করে নেড়ে তা্রপর চুমুক দিন, পানি দিতে না চাইলে সোডা ওয়াটার দিন। অথবা জাস্ট বরফ দেয়ার পর সেভেন আপ দিয়ে দিন। এরপর নাড়ুন আর চুমুক দিন।

ব্যাস হয়ে গেলো!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:৪৫
৪৩টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯

মাননীয় "যদি-কিন্তু" সাহেবের বিদায়ী ভাষণ
একটি কাল্পনিক রম্য রচনা

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

একদিন সকালবেলা, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জাতি খবরের কাগজ খুলে দেখল, দেশের সবচেয়ে বড় পদটির জন্য মনোনীত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×