somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কাল্পনিক_ভালোবাসা
বহুদিন আগে কোন এক বারান্দায় শেষ বিকেলের আলোয় আলোকিত উড়ন্ত খোলা চুলের এক তীক্ষ্ণ হৃদয়হরনকারী দৃষ্টি সম্পন্ন তরুনীকে দেখে ভেবেছিলাম, আমি যাদুকর হব। মানুষ বশীকরণের যাদু শিখে, তাকে বশ করে নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিব সারাটি জীবন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যার এবং সামহোয়্যারইন ব্লগের বন্ধু ও অভিভাবক হারানোর ব্যাথা। (ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে)

১৫ ই মে, ২০২০ রাত ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েক দিন আগে সংবাদ পত্রের মাধ্যমে জানতে পারলাম ড. আনিসুজ্জামান স্যারকে ক্রমাগত শারিরিক অবস্থার অবনতির জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবরটা শুনেই মনের ভেতর কেমন যেন করে উঠল। সত্যি বলতে বর্তমান সময়ে আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, চারিদিকে এত খারাপ সংবাদ তাতে কেন যেন মনের শক্তি কমে যাচ্ছে। তাই সেদিনই কোন অজানা আশংকায় বুকটা দুরুদুরু করে উঠেছিলো। পরে কোন একটা সংবাদ মাধ্যমে শুনেছিলাম স্যারের অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল, কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কারন বর্তমানে আমরা ক্রমাগত অনুকরন বা অনুসরন করার মত মানুষগুলোকে হারিয়ে ফেলছি, আমাদের মাথার উপর বটবৃক্ষ হয়ে থাকা ছায়াগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।




আজ বিকেলে (১৪ই মে) আমি কি যেন একটা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ জানা আপুর ফোন পেলাম। ফোনের ওপাশে জানা আপুর কন্ঠস্বর শুনেই বুঝলাম কোন খারাপ সংবাদ অপেক্ষা করছে। যারা জানা আপাকে কিছুটা কাছ থেকে চেনেন তাঁরা জানেন, আপু কত শক্ত একজন মানুষ, কত হাজারো ঝড় তিনি একাই হাসিমুখে সামলেছেন, কেউ হয়ত কিছু বুঝতেও পারে নি। কিন্তু সেই মানুষটা যখন ফোনে বাচ্চাদের মত কাঁদেন এবং অসহায়ত্ব প্রকাশ করে, তখন সেটা ভীষন কঠিন একটি পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়ায়। আপু কান্নাজড়িত কন্ঠে বললেন, জাদিদ, আমরা আমাদের একজন বড় অভিভাবককে হারিয়েছি।

সাথে সাথে বুঝলাম, স্যার আনিসুজ্জামান স্যার আর আমাদের মাঝে নেই। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন চমৎকার একজন মানুষ। তিনি ছিলেন এই সামহোয়্যারইন ব্লগের একজন অকৃত্তিম বন্ধু ও অভিভাবক। স্যারের সাথে জানা আপার ভীষন আন্তরিক একটি সম্পর্ক ছিলো। যে কোন সমস্যায় তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন, অনুপ্রেরণাও দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের, লড়াইয়ের। একটা সময় যখন কোন নিরাপত্তা জনিত সমস্যা না থাকার কারনে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লগ দিবস উদযাপিত হতে বাঁধা ছিলো না, সেই সময় তিনি সময়ে তিনি সবগুলো ব্লগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতেন।



ব্লগ ডে উদ্বোধন করছেন স্যার। এই দিন স্যার ব্লগার হিসেবে নিবন্ধনও করেছিলেন। আমি আইডিটি খুঁজে পেলে সংযুক্ত করে দিবো।।

ব্লগকে কেন্দ্র করে যত অপপ্রচার হয়েছে, ব্লগারদের হয়রানী, নিরাপত্তার অভাব এবং সর্বপরি সাম্প্রতিক সময়ে ব্লগ বন্ধ করে দেয়ার বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন সোচ্চার। স্যার ভীষন ভালোবাসতেন জানা আপাকে। সময় পেলেই তাঁর খোঁজ খবর নিতেন, বাসায় বেড়াতে যেতেন। খুব পছন্দ করতেন জানা আপুর হাতের রান্না। এমন একজন প্রিয় মানুষের মৃত্যূর খবরে ভেঙ্গে পড়াই স্বাভাবিক। তাঁর এই বিদায় সত্যি এমন এক শূন্যস্থান তৈরী করল, যা হয়ত কখনই আর পুরণ হবে না।



স্যার ব্যক্তিজীবনে কি ছিলেন, এটা আর এই পোষ্টে নতুন করে উল্লেখ করে বলার কিছু নেই। তিনি ছিলেন একজন চমৎকার শিক্ষক, সমাজ-মনস্ক মানুষ, প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী অনন্য এক ব্যক্তিত্ব। সাহিত্য- গবেষণা, লেখালেখি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার আত্মজীবনীতে তিনি যে সমস্ত বিষয়গুলো রেখে গেছেন, সেগুলোকে বাঙালি জাতি চিরকাল স্মরণে রাখতে হবে।

এই জাতির প্রয়োজনেই তাঁর আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার প্রয়োজন ছিলো। আমরা এই মহান মানুষটির আত্মার শান্তি কামনা করি। তিনি যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক, শান্তিতে থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০২০ রাত ৩:০৪
৪৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত সপ্তাহে যে ৫টি মুভি দেখলাম

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই মে, ২০২১ রাত ১২:২৯



১। রেয়ার উইন্ডো (Rear Window)
মুভিটি ১৯৫৪ সালে মুক্তি পায়। কাহিনী ১৯৪২ সালের শর্ট স্টোরি 'ইট হ্যাড টু বি এ মার্ডার' থেকে নেয়া হয়েছে। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার জেফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুতুম প্যাঁচা

লিখেছেন এ কাদের, ০৭ ই মে, ২০২১ ভোর ৪:৩৩

=
উতুম প্যাঁচা
হুতুম প্যাঁচা
ঠোটটা চিপা
মূখটা ভোচা,
ওরে উতুম
হুতুম প্যাঁচা
করিস কিরে
জোপের মাচা
ও উতুম তুই
এদিক তাকা
ডান চোখটা
একটু দেখা।
ও উতুম তুই
ওদিক তাকা
বাও চোখটা
আবার দেখা।

...বাকিটুকু পড়ুন

মহামারীতে মানুষের প্রাণ ভারত, ফাইজার, মডর্নার হাতে ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৭ ই মে, ২০২১ সকাল ৭:৪০



টিকা ম্যানুফেকচারিং'এ ভারতের অসফলতা ও বড় বড় দেশের সাথে ফাইজার ও মডের্নার কনট্রাক্ট বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে; জীবন রক্ষাকারী টিকা লাইসেন্সের মাধ্যমে উৎপাদন করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাঠ ফাটা রোদ্দুর, ঠোঁট ফাটা শহর

লিখেছেন মাহাদী হাসান প্রেত, ০৭ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৪৫

হাওড়া স্টেশন থেকে তামিলনাড়ুর কাটপাডি স্টেশনের দূরত্ব ১৭০০+ কিঃমিঃ। প্রথম শ্রেণীর যাত্রী হিসেবে ৩০ ঘন্টার এই জার্নিটা বেশ উপভোগ্য। মাঝখানে উড়িষ্যা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে নেমে একটু হাঁটাহাটি করেছি, স্টেশন থেকে স্থানীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাগল-৩ (রম্য কবিতা)

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ০৭ ই মে, ২০২১ বিকাল ৪:২৩


পাগলের সিক্যুয়ালঃ
১। পাগল-১ (ছড়া)
২। পাগল ভরা বঙ্গ দেশ
৩। পাগল-২ (ছড়া)

পাগল-৩ (কবিতা)
নূর মোহাম্মদ নূরু
আজিকার এ কাব্যে, পাগলেরা ভাববে!
কিসে কি যে হয়ে গেলো গুরু নাম জপবে !
পাগল খেদাও অভিযান চলিতেছে চলবে
জানি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×