দক্ষিণ আমেরিকা। গভীর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে আমাজানের একটা শাখা নদী। এখানেই পানি খেতে এসেছিল পোকারিটা। পোকারি কি চেনো? এক জাতের শূকর। এতই পিপাসা পেয়েছে যে চারপাশে ভালোভাবে খেয়াল করার কথাও ভুলে বসে আছে। এমনিতে কিন্তু জলে মুখটা ডুবানোর আগে অন্তত বার দুয়েক চারপাশটা ভালোভাবে দেখে নেয়। কোন খানে কে আবার তার নধর শরীরটা দিয়ে ভোজের আয়োজন করার জন্য বসে আছে, কে জানে। যেই না পানিতে মুখ দিয়েছে অমনি কক করে তার গলাটা চেপে ধরে টেনে নিল জলদানব। পানির মধ্যে শরীর ডুবিয়ে কখন যে কাছে চলে এসেছিল টেরই পায়নি পোকারিটা। জলদানবটা কি জানো? অ্যানাকোন্ডা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ।
আমাজনের জঙ্গলসহ দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, ইকুয়েডর, পেরু, ভেনিজুয়েলা, কলম্বিয়া, বলিভিয়া আর ত্রিনিদাদের বনে দেখা মিলবে বিশালকায় এ প্রাণীর। কয়েক জাতের অ্যানাকোন্ডা দেখা গেলেও অ্যানাকোন্ডা বলতে আমরা আসলে গ্রিন অ্যানাকোন্ডা বা সবুজ অ্যানাকোন্ডাদেরই চিনি। অ্যানাকোন্ডারা কি আসলেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ? অনেকে যে আবার অজগরের কথা বলে! আগের দিনের অভিযাত্রী কিংবা আমাজনের জঙ্গলে বাস করা অধিবাসীর মধ্যে যেসব গল্প চালু আছে, সেগুলো সত্যি বলে ধরে নিলে অ্যানাকোন্ডার ধারে-কাছে ভেড়ার সাহস হতো না অজগরদের। তাদের বর্ণনায় কখনো কখানো ৫০ ফুট ছাড়িয়ে আরো অনেক লম্বা হয়ে গেছে কোনো কোনো অ্যানাকোন্ডা। তবে এত বড় অ্যানাকোন্ডা থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যে অ্যানাকোন্ডাটি ধরা পড়েছিল তার দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট। ওজন দুশো কেজিরও বেশি। কিন্তু বিশ্বাস করবে কি না জানি না, এ পর্যন্ত সবচেয়ে লম্বা যে অজগরটির দেখা পাওয়া গেছে তার দৈর্ঘ্য ৩৩ ফুট। কি গোল বাধিয়ে দিলাম? অ্যানাকোন্ডার আসল কেরামতি তার চওড়া ও ভারী শরীর। এদিক থেকে অজগর তার কাছে নস্যি। তাই সাপ দুনিয়ার রাজার খেতাব জুটেছে তার কপালেই।
কপাল ভালো থাকলে বনের গাছে কিংবা ঝোপ-জঙ্গলের মাঝখানেও পেয়ে যেতে পারো এদের। কিন্তু বেশির ভাগ সময় অ্যানাকোন্ডারা কাটায় পানিতেই। আমাজন আর ওরিনকো নদীর শাখা-প্রশাখাগুলোতে নিয়মিতই ঘুরে বেড়ায় আর শিকারের জন্য ওত পেতে থাকে এরা। পানিতে থাকা বিভিন্ন ধরনের প্রাণী যেমন_মাছ, কচ্ছপ, ভোঁদড়, কুমিরজাতীয় প্রাণী কেইমেন শিকার করে মহানন্দে। আবার পানি খেতে জলে নেমে এর পেটে যায় পোকারি, হরিণ, ক্যাপিবারা, তাপির এমনকি আমাজন জঙ্গলের রাজা জাগুয়ারও। অবশ্য সাধারণত জাগুয়ারকে ঘাঁটায় না অ্যানাকোন্ডা। নিজেরও তো জানের ভয় আছে! ডাঙায় শিকারেও সমান দক্ষ এরা।
অ্যানাকোন্ডা হলো বোয়া গোত্রের প্রাণী। এরা প্রথমে শিকারকে পেঁচিয়ে ধরে। যতক্ষণ প্রাণীটা দম আটকে হাড়-মাংস এক হয়ে মারা না যায় ততক্ষণ বিশাল শরীর দিয়ে চাপ দিতে থাকে। তারপর বিশাল হাঁ করে গোটা প্রাণীকে কোঁত করে গিলে নেয়। অ্যানাকোন্ডার খাবার হজম হতে কিন্তু বেশ সময় লাগে। একবার বড় একটা শিকার পেটে গেলে অনেক সময় হ্না এমনকি এক মাস খাওয়া-দাওয়া না করে চোখ বুজে কাটিয়ে দেয়। যদি প্রতিদিন একটা করে খাবার দরকার পড়ত, তাহলে কি অবস্থা হতো একবার কল্পনা করে দেখো! নির্ঘাত আমাজনের জঙ্গলে প্রাণীর অভাব পড়ে যেত।
তোমরা যারা সিনেমা কিংবা বইয়ের পোকা তারা অ্যানাকোন্ডার নাম শুনলেই যদি আঁতকে ওঠো, তাহলে খুব একটা দোষ দেওয়া যাবে না। কারণ ১৯৯৭ সালে হলিউডের ছবি অ্যানাকোন্ডাতে সাপটির এমন ভয়াবহ কাণ্ডকীর্তি দেখার পর ভয় পাবে না এমন বুকের পাটা কয়জনার আছে! অ্যানাকোন্ডা ছবিটি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে পরে অ্যানাকোন্ডাদের নিয়ে আরো কয়েকটি ছবি তৈরি হয়। অনেকের আবার অ্যানাকোন্ডার সঙ্গে পরিচয় তিন গোয়েন্দার ভীষণ অরণ্য বইটির মাধ্যমে। এখানে চিড়িয়াখানার জন্য অ্যানাকোন্ডা ধরতে গিয়ে কী ঝামেলাই না পোহাতে হয় কিশোর, মুসা, রবিনদের। তাদের বন্ধু মিরাটোকে মেরেই ফেলে অ্যানাকোন্ডা। তবে অ্যানাকোন্ডাদের নিয়ে এত মাতামাতি আর আতঙ্ক ছড়ালেও বাস্তবে মানুষ মারার রেকর্ড নেই অ্যানাকোন্ডার।
মজার ঘটনা হলো, বেশির ভাগ প্রাণীর বেলায় পুরুষরা নারীদের চেয়ে বড় হলেও অ্যানাকোন্ডা নারীরা গায়ে-গতরে পুরুষ অ্যানাকোন্ডার চেয়ে বড়। সাধারণত একবারে ডিম থেকে দুই-তিন ডজন বাচ্চার জন্ম দেয় অ্যানাকোন্ডা মা। একটা বাচ্চা লম্বায় হয় আনুমানিক দুই ফুট। জন্মের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এরা দক্ষ সাঁতারু হয়ে ওঠে। শিকারও শুরু করে দেয় এ সময় থেকেই। ছোটকাল থেকেই স্বাবলম্বী_কি বলো?
সুত্রঃ- এখানে ক্লিক করুন।
আলোচিত ব্লগ
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন
একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।