somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যগল্প 001

০৪ ঠা মে, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়া দরজায় প্রবল করাঘাতের শব্দ শুনে বিরক্ত হয়ে কম্বলের নিচ ছেড়ে বেরোলেন। আপদ। এই শীতের ভোরে কোন পেঙ্কির পো এলো জ্বালাতন করতে? গবেষণা ছেড়ে গোয়েন্দাগিরি ধরে এক মুসিবতেই পড়েছেন তিনি। দিন নাই রাত নাই পাড়া পড়শীরা নানা পাতি রহস্য নিয়ে ধর্ণা দ্যায় তাঁর দোরে।

দরজা খুলতেই পাশের বাড়ির মালিক জনাব হলুদ কুন্ডু একেবারে হাহাকার করে জাপটে ধরলেন তাঁকে, "সর্বনাশ হয়ে গ্যাছে মিস্টার চৌরাসিয়া, আমার সর্বনাশ হয়ে গ্যাছে!"

চৌরাসিয়া নির্মম হাতে চুল ধরে কুন্ডু মশাইকে আলিঙ্গন থেকে ছাড়িয়ে আনেন। "কী হয়েছে? পালিয়ে গ্যাছে আপনার সুন্দরী বউ কাজের ছোকরার সাথে?"

হলুদ কুন্ডু ফুঁপিয়ে ওঠেন, "না, এখনো না!"

চৌরাসিয়া একখানা রোমশ ভুরু উত্তোলন করেন, "তাহলে?"

হলুদ কুন্ডু কেঁদে উঠে বলেন, "খুন হয়েছে খুন! কে বা কাহারা আমার সাধের বিড়াল সাইমুমকে!"

চৌরাসিয়ার চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। "সাইমুম? আপনার সেই কেলে হুলোটা? রোজ যেটা আমার বাড়িতে খাবার চুরি করতে ঢুকতো সেটা? সেই বজ্জাত ডিপথেরিয়ার ধারকবাহকরক্ষক বিড়াল সাইমুম?"

হলুদ কুন্ডু মাথা নাড়েন।

চৌরাসিয়া বলেন, "আপনি বলবেন না, আমাকে আন্দাজ করতে দিন। কে বা কাহারা সাইমুমের মুন্ডুটা এক কোপে ধড় থেকে আলাদা করে ফেলে রেখে গ্যাছে?"

হলুদ কুন্ডুর চোখ বড় বড় হয়ে যায় বিস্ময়ে। "আপনি ... আপনি কিভাবে জানলেন?"

চৌরাসিয়া চিন্তিত মুখে বললেন, "আমি অনেক ভালো গোয়েন্দা তাই। আপনার চেহারা দেখেই বুঝে ফেলেছি সাইমুমের কপালে কী ঘটেছে। ঠিক আছে, আপনি যান, লাশের চারপাশে চক দিয়ে দাগ কেটে রাখেন, কোন কিছু পরিষ্কার করতে যাবেন না, আমি সকালে উঠে দেখছি কী করা যায়!"

হলুদ কুন্ডু ফোঁপাতে ফোঁপাতে চলে যান। চৌরাসিয়া দরজা বন্ধ করে ভাবতে বসেন।

বিড়াল খুনের ঘটনা এই প্রথম নয়। এ নিয়ে এটা তৃতীয় কেস। প্রথম খুন হয় তাঁর উলটোদিকের বাসার মিসেস অর্ধকুমারীর বাসায়। খুনটা হয় রাতের দিকে, ভোরে টয়লেট সারতে গিয়ে অর্ধকুমারী আবিষ্কার করেন, কে বা কাহারা তাঁর প্রিয় কাবুলি বেড়াল মুন্তাকাকে গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে খুন করেছে। তিনি ভোরবেলায় নাইটি পরা অবস্থায় ছুটে আসেন চৌরাসিয়ার দোরে। পরদিন সকালে তদন্ত করে চৌরাসিয়া কিছু তথ্য টুকে আনেন নোটবইতে, আর পুলিশকে জানাতে বারণ করেন।

দ্্বিতীয় খুনের শিকার হয় পাশের গলির জনাব ছাগেব বুদবুদের প্রিয় শ্যামদেশী বিড়াল খোশবু। ভোরবেলা ছাগেব বুদবুদ এসে কিল মারেন চৌরাসিয়ার দরজায়। চৌরাসিয়া পরদিন সকালে গিয়ে দ্যাখেন, মুন্তাকার মতো জবাই করে নয়, বেশ গভীর কোপ দেয়া হয়েছে খোশবুর গলায়, মুন্ডু প্রায় ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন।

আর এখন খুন হলো হলুদ কুন্ডুর বজ্জাত বিড়াল সাইমুম। তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন।

চৌরাসিয়া পায়চারি শুরু করেন ঘরের মধ্যে।


পরদিন সকালে বাজারের কামারের দোকানে গিয়ে হানা দ্যান চৌরাসিয়া। রমাকান্ত কামার বসে বসে হাঁপরে হাত বুলাচ্ছিলো, চৌরাসিয়াকে দেখে ভুরু কুঁচকে তাকায়।

"আচ্ছা রমা, কেউ তোমার কাছ থেকে তলোয়ার বানিয়ে নিয়েছে গত কয়েকদিনের মধ্যে?" চৌরাসিয়া ফ্লাস্ক থেকে এক চুমুক ভোগান্তি চালান করেন পেটে। দর্শনায় তৈরি ভদকা, অত্যন্ত চমৎকার দ্রব্য, নামে ভোগান্তি হলেও কামে তেমন নয়, চৌরাসিয়া নিয়মিত সেবন করেন।

রমাকান্ত কিছুক্ষণ ভেবে একটা হালখাতা খুঁজে বার করে। সেখানে কিছুক্ষণ খুঁজেপেতে বলে, "হাঁ! এই তো এই পাড়ার কার্বন মাঝি সাহেব দশদিন আগে একটা বানিয়ে নিয়ে গেলেন।"

চৌরাসিয়া হাসেন। "হুমমম। তো, তলোয়ার বানানোর ফরমাশ পেয়ে তোমার অবাক লাগেনি?"

রমাকান্ত গোঁপ চোমরায়। "না। খুশি লেগেছে। পয়সা পেয়েছি অনেক। আমি তো কামার, তলোয়ার বললে তলোয়ার বানিয়ে দেই, বন্দুকের নল বললে বন্দুকের নল, ট্যাঙ্কের চাক্কা বললে ট্যাঙ্কের চাক্কা ...।"

চৌরাসিয়ার মুখ শুকিয়ে যায়। তিনি আরেক বড় ঢোঁক ভোগান্তি গিলে বলেন, "আচ্ছা, তলোয়ারটা কি কার্বন মাঝি সাহেব ধার করাতে এনেছিলেন পরে?"

রমাকান্ত মাথা নাড়ে। "হাঁ! এই নিয়ে তিনবার হলো ধার করাতে আনলেন।"

চৌরাসিয়া সন্তুষ্ট হয়ে হাসেন। "হুমমম। তুমি জিজ্ঞেস করোনি এতো ধার করাতে হয় কেন তলোয়ার?"

রমাকান্ত মাথা নাড়ে। "হয়তো কচুগাছ কচুকাটা করেন, তাই ঘনঘন ধার করাতে হয়।"

চৌরাসিয়া হাসেন। হুমমম।



বাড়ি ফিরে চৌরাসিয়া দ্যাখেন, দরজার গায়ে পিন মেরে একটা খাম সাঁটানো। খুলে দ্যাখেন, বিয়ের দাওয়াত। প্রতিবেশী জনাব কার্বন মাঝির সাথে জনৈকা চুনিয়া আর্কেডিয়ার শুভবিবাহ আগামী রবিবার।

চৌরাসিয়া হাসেন। ভালোই। রহস্যের সমাধান হলো, আর ধরে নেয়া যেতে পারে আর একটা বিড়ালের হত্যাকান্ড ঘটলেই এই সিরিজ খুনের ফ্যাসাদ শেষ হবে। তবে এই অভাগা বিড়ালের স্বত্বাধিকারিণী অন্তত গোয়েন্দার কাছে নালিশ করতে আসবেন না।

গাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়া ভোগান্তির ফ্লাস্কে ফড়াৎ করে চুমুক দ্যান।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘স্বর্ণামতি সেতু’ থেকে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯



আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটা নদী বয়ে গেছে। তার একটা আদুরে নাম আছে, ‘স্বর্ণামতি’। কে, কবে, কেন নদীটির এ নাম দিয়েছে, তা আমার অজানা। তবে নামটি আমার খুবই প্রিয়। এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষড়যন্ত্রঋতু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৯

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সারাবছরই ঐক্যের ঋতু, এখানে রাজনীতিতে শত্রু না থাকলে মিত্র টেকে না। যতদিন হাসিনা ছিল, স্বাধীনতাবিরোধীরা ছিল একটি সুখী পরিবার। বাম জানত ডানকে ঘৃণা করতে হয়, কিন্তু আপাতত স্থগিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×