somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহক যারা এবং বাস্তবতার আলোকে ব্লগের মুক্তিযোদ্ধারা

২০ শে মার্চ, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিভিন্ন সময় দেখি সবাই বলে মুজাহিদ মিয়া নাকি বদর দিবসে কি কি কইছে আর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামীদের বৃদ্ধাঙুলি দেখাইছে ছবিসহ পেপার কাটিং আনেন নানা মুনি রতনেরা। আরেকটা ছবি পাওয়া যায় রিকশার উপর খারায়া মাইক ধইরা নাকি মুজাহিদ মিয়া আকডুম বাকডুম কলছিলো। এইসকল কম্যকান্ডের জন্যে মুজাহিদ মিয়া যুদ্ধাপরাধী হইলেও আমাদের জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যান। হাজার হাজার মা বোনের রক্ষাকারী হয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের আন্দোলন থেকে শুরু করে মুজিবকন্য হাসিনা ওয়াজেদের চিকিতসা লইয়া দিক নির্দেশনা দাণ করে থাকেন। বর্তমানে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে আজ নিচে আলোচনা করবো। লেখাটি উতস্বর্গ করলাম কারো প্রিয় কারো অপ্রিয় ব্লগের আপোষহীন মডারেটরকে! আর শুভাকাংখিদের নিকট আবেদন থাকবে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর একটা ভাল ছবির লিংক দেয়ার জন্য।


জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর অজানা কথা

১. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী অধ্যাপক কবীর চৌধুরী এখন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা।

২. পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার কথা বলে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় দালাল আখ্যায়িত করে ১৯৭১ সালের ১৭ মে দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় ৫৫জন বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দিয়েছিলো সেই ৫৫ জনের ১জন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। সেই দীর্ঘ বিবৃতির অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলোÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছাত্ররা লেখাপড়া বা খেলাধূলায় ব্যস্ত ছিলো না। তা ছিলো বাংলাদেশ মুক্তি ফৌজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তালো মেশিনগান, মর্টার ইত্যাকার সমরাস্ত্রের গোপন ঘাঁটি। ...................আওয়ামী লীগ চরমপন্থীরা এ সহজ সরল আইন সঙ্গত দাবীকে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার দাবীতে রূপান্তরিত করায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমরা কখনও এটা চাইনি ফলে যা ঘটেছে তাতে আমরা হতাশ ও দু:খিত হয়েছি। (দৈনিক পাকিস্তান: ১৭ মে, ১৯৭১)

৩. ১৯৬৯-৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কবীর চৌধুরী পাক হানাদার সরকারের বিশ্বস্ত অনুচর হিসেবে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছে।

৪. পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার জন্য পাক সরকারের প্রতিষ্ঠিত ইঘজ এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছে ১৯৬১ সালে।

৫. স্বৈরাচারী পাক শাসক আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের পক্ষে জনমত তৈরিতে গর্বিত রাইটার্স গিল্ডের সদস্য ছিলো কবীর চৌধুরী।

৬. কবীর চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের পরপরই বোল পাল্টে আওয়ামী লীগের একান্ত কাছের ব্যক্তি বনে গেছেন, হয়েছেন তাদের বড় থিংকট্যাংক। এই অধ্যাপক আইয়ুব খানের থিংক ট্যাংক হিসেবেও বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে তার জবানিতেই তুলে ধরা হলো তা Ñ “প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বলেছেন, আমরা এখন জাতীয় উন্নতির কথা বলি তখন আমাদের চোখের সামনে বড় বড় শহর, বড় বড় কারখানা এবং এমারতের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু এই গুলোই যথেষ্ট নয়। নৈতিক ও ধর্মীয় উন্নতি ছাড়া কোন জাতির উন্নতিই সম্পূর্ণ হতে পারে না। এই উক্তিতে প্রেসিডেন্ট যে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের উপর জোর দিয়েছেন তা মূলত: ইসলামী আদর্শ থেকেই গৃহীত হয়েছে। (সূত্র: পাকিস্তানী নেশন হুড এনবিআর-প্রকাশিত)।

৭. অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর বড় ভাই কাইয়ুম চৌধুরী পাকিস্তান আর্মির একজন কর্নেল হিসেবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানেই থেকে গেছে। পরে ব্রিগেডিয়ার হিসেবে অবসর নিয়ে এখনও পাকিস্তানেই অবস্থান করছে।

৮. ১৯৬৭-৬৯ সালের ঘটনাÑআনন্দমোহন কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হওয়ার আশায় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের কুখ্যাত গভর্ণর মোনায়েম খানের পা ছুঁয়ে কদমবুচি করেছে। (সূত্র: তৎকালীনÑ মোমেনশাহী ডিসি, পিএ নাজির লিখিত স্মৃতির পাতায়)।

৯. ময়মনসিংহ এ এম কলেজের প্রিন্সিপ্যালের দায়িত্ব পালনকালে তার পৃষ্ঠ-পোষকতায় মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ ছাত্র রাজনীতিতে আমদানি করে হকিস্টিক ও আগ্নেয়াস্ত্র। ছাত্র রাজনীতিতে অস্ত্র আমদানির গুরু এই পাক দালাল।

১০. পাক- দালাল হওয়ায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্দ চলাকালে কবীর চৌধুরীকে সৈয়দ আলী আহসান, আবু সাঈদ চৌধুরী, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, শওকত ওসমান, ড. ইবনে গোলাম সামাদ, আসাদ চৌধুরী, আল মাহমুদ প্রমুখের মত ভারতে যেতে হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্ব পালন করার জন্য বরং সে পাক হানাহাদারদের পা কামড়ে ছিলো এদেশেই দেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথে অতি প্রগতিশীল সেজে গেছে বিরাট মুক্তিযোদ্ধা। হায় আফসোস ১৯৭১ এর ঘাতক দালাল কবীর চৌধুরী স্বাধীন বাংলাদেশের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা। সত্যি সেলুকাস বিচিত্র এদেশ।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪৫


শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক The Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত একটি বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ তিনটি পলায়ন দৃশ্যঃ-

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:০৩

আমার জীবনে দেখা শ্রেষ্ঠ তিনটি পলায়ন দৃশ্যঃ-



(১) ৫ আগস্ট ২০২৪, সেনা তত্বাবধানে শেখ হাসিনার চপ্পল পড়ে দৌড়ে হেলিকপ্টার যোগে পলায়ন দৃশ্য
"১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×