somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা কি দেশের জন্যে বিদেশ যাই?

২০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রশ্নটা খুবই সাধারণ। এতটাই সাধারণ যে অনেক সময় এটাকে গভীরভাবে ভেবে দেখার প্রয়োজনই অনুভব করি না।

আমরা, বা আমাদের পরিচিত কেউ, যারা দেশের বাইরে থাকেন, তারা কি সত্যিই বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে এই ভাবনা থেকেই বিদেশ গেছেন? নাকি ব্যক্তিগত উন্নতি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীল জীবন, সন্তানের ভবিষ্যৎ এই বিষয়গুলোই ছিল মূল বিবেচনা?

অনেকে বলবেন, “দুটোই।” এই উত্তরটা শুনতে স্বস্তিদায়ক। কিন্তু প্রশ্নটা কি আসলেই এত সহজ?

বিদেশ গেলে দেশের উপকার হয়, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। রেমিট্যান্স আসে, বৈদেশিক মুদ্রা বাড়ে, কিছু জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ফিরে আসে। রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এর প্রভাব স্পষ্ট। কিন্তু এখানে প্রশ্নটা ফলাফল নিয়ে নয়, উদ্দেশ্য নিয়ে।

আমরা কি দেশের উন্নয়নের কথা ভেবে দেশ ছেড়েছিলাম, নাকি দেশ আমাদের সেই সুযোগটা দিতে পারেনি বলেই আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম?

বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ মানুষই বিদেশ যায় নিজের জন্য। ভালো চাকরি, সম্মানজনক আয়, নিরাপদ জীবন, পরিবারের স্বস্তি এগুলো খুব স্বাভাবিক চাওয়া। এতে কোনো অপরাধ নেই। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে আমরা অতিরিক্ত দেশপ্রেমের ভাষায় বৈধতা দিতে চাই।

আমরা বলি, “আমি দেশের জন্যই বিদেশে আছি।” কিন্তু নিজের কাছে সৎ হয়ে প্রশ্ন করলে দেখা যায়, দেশ ছিল না প্রথম অগ্রাধিকার। জীবন ছিল।

এখানেই আসে আরেকটি জটিল বাস্তবতা।

দেখা যায়, আমরা যারা দেশের বাইরে থাকি, তারা অনেক সময় দেশের জন্য আরও বেশি দেশপ্রেম দেখাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, আলোচনায়, মন্তব্যে বাংলাদেশের প্রতি আমাদের আবেগ, ক্ষোভ, আশা অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এটা খুবই স্বাভাবিক। বছরের পর বছর দেশের বাইরে থাকলে দেশকে নিয়ে নস্টালজিয়া তৈরি হয়, স্মৃতি জমে, একধরনের শূন্যতা কাজ করে।

কিন্তু প্রশ্নটা এখানে, এই দেশপ্রেম কি সবসময় বাস্তবতার সঙ্গে সমানুপাতিক? নাকি অনেক ক্ষেত্রেই তা অতিরঞ্জিত?

দূরত্ব অনেক সময় আবেগকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট আপস, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বাস্তব সংকট এসব থেকে দূরে থাকলে দেশকে আমরা প্রায়ই একটি কল্পিত রূপে দেখতে শুরু করি। তখন দেশ হয়ে ওঠে স্মৃতির দেশ, শৈশবের দেশ, অথবা এক ধরনের “হওয়া উচিত ছিল” এমন দেশ।

ফলে বাইরে বসে আমরা অনেক সময় খুব সহজে বড় বড় কথা বলি। কী হওয়া উচিত, কে ব্যর্থ, কে দেশপ্রেমিক, কে নয়। অথচ ভেতরে থেকে প্রতিদিনের বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করা মানুষগুলোর সীমাবদ্ধতা আমাদের চোখের আড়ালেই থেকে যায়।

এটা মানেই এই নয় যে প্রবাসীদের অনুভূতি ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয়। বরং বলা যায়, এই দেশপ্রেমের ভেতরেও একধরনের দ্বন্দ্ব আছে। ভালোবাসা আছে, কিন্তু দূরত্বও আছে। দায়বদ্ধতার কথা আছে, কিন্তু প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নেই।

হয়তো এই প্রশ্নটাই আমাদের নতুন করে করা দরকার।

আমরা কি দেশের জন্য বিদেশ যাই? নাকি আমরা বিদেশ যাই, আর পরে সেই সিদ্ধান্তের অর্থ খুঁজে নিতে দেশের কথা বলি?

এই প্রশ্নের কোনো একক উত্তর নেই। কিন্তু প্রশ্নটা করা জরুরি। কারণ নিজের সঙ্গে সৎ না হলে দেশের সঙ্গেও সৎ থাকা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০১
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×