somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিশর, মমি, পিরামিড,ক্লিওপেট্রা, এবং ছয়টি কবর না দেয়া মৃতদেহের কথা

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উত্তর আফ্রিকার পূর্বপ্রান্তের মরুভূমি ঘেরা কোন দেশের খোজ যদি জানতে চান তাহলে বলা যায় মিশরের কথা।ইংরেজিতে ঈজিপ্ট বাংলায় মিশর ।দেশটি নীলনদ, পিরামিড, ও তাদের রাজা বাদশাদের মমির জন্য বিখ্যাত।

শুনছি ঈজ়িপ্টে প্রথম জ্যামিতি চর্চা শুরু হয়।নীল নদের কারনে প্রতি বছর বন্যায় ঘরবাড়ি জায়গা জমি সব ভেসে যেত।তাই জমি মাপজোকের প্রয়োজনেই সেখানে জ্যামিতি অর্থাৎ ভূমি পরিমাপ ব্যবস্থার সুত্রপাত হয়।আমার একই কারন ই মিশরের লোকেরা দলবেধেঁ থাকতে উদ্ভুদ্ধ হয়েছিল।এক সাথে থাকলে যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগই সহজে মোকাবেলা করা যায়।

পিরামিড

মিশরের রাজাদের বলা হত ফেরো।এটা ছিল তাদের উপাধি।যেমন আমাদের বর্তমান প্রধান্মন্ত্রী শেখ হাসিনার উপাধি দেশরত্ন এবং সাবেক প্রধান্মন্ত্রীর উপাধী জননেত্রী ।মিশরের প্রজাগন তাদের ফেরো বা ফারাও দের দেবতাজ্ঞানে পুজা করত।রাজা বাদশাদের মধ্যে একটি মুদ্রাদোষ লক্ষ্য করা যায়।তারা ক্ষমতায় গেলেই তাদের মধ্যে বিচিত্র খেয়াল এবং খায়েশের উদ্ভব হয়।যেমন আমাদের জননেত্রী প্রায় ১০৩ জন সঙ্গীসাথী নিয়ে বিদেশ ভ্রমন করে এলেন এবং প্রায় বারশ কোটি টাকা দিয়ে একটা বিমান বন্দরের নাম পাল্টালেন।এটাও এক ধরনের বিচিত্র খেয়াল।মিশরের ফেরোদের তেমনি ইচ্ছা ছিল তাদের নশ্বর দেহ যেন মৃত্যু পরবর্তী সময়ে অবিনশ্বর থাকে।এ ব্যাপারে তারা এক আশ্চর্য পদ্ধতি আবিষ্কার করল।যেই পদ্ধতির মাধ্যমে মৃতদেহকে অনেক অনেক দিন অবিকৃত করে রাখা যায়।এভাবে অবিকৃত অবস্থায় করে রাখাকে বলা হত মমি বা মামী।এখন প্রশ্ন হল প্রাচীন লোকগুলো মমি তৈরীর কৌশল কীভাবে জানল? পিরামিড নামক উচু যে বস্তুগুলোর মধ্যে মমি রাখা হত সেই পিরামিড গুলো তৈরী করার আগ থেকেই তারা মমি তৈরী করা জানত।কেউ কেউ মনে করেন ভীনগ্রহের প্রানীরা একবার পৃথিবীতে এসেছিল এবং তাদের আগমন ঘটেছিল এই মিশরে।ফলে মমি এবং পিরামিড বানানোর কৌশল মিশরের মানুষেরা তাদের কাছ থেকে শিখে নেয়।হতে পারে এটা কিছু কল্পনাবিলাসী মানুষের ভাবনা কিন্তু কিছুই অসম্ভব নয়।জগতের খুব সামান্যই মানুষ জানে , অনেক কিছুই এখনো অজানা।


মমি


মমি


এখন আসা যাক পিরামিডের কথায়।পিরামিড প্রায় পাচঁ হাজার বছর আগ থেকেই বানান হয়।আগেই বলেছি এগুলো ছিল সমাধি মন্দির।তৃতীয় রাজবংশের প্রথম ফেরো জোসেফের জন্য প্রথম পিরামিড নির্মিত হয়।মরুভুমির প্রান্তের পাহাড় থেকে পাথর কেটে এগুলো বানানো হয়।।মিশরীয়রা মনে করত যতদিন রাজাদের দেহ রক্ষা করা যাবে ততদিন তারা স্বর্গে বাস করবে। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এখনো তাদের অনেক রাজা স্বর্গে আছেন।


কথা প্রসঙ্গে বলি মিশরীয় এই ফারাও রা ছাড়া আরো ছয়টি মৃতদেহ এখনো সংরক্ষিত আছে,তাদের কবর দেয়া হয় নি।এগুলো হচ্ছে

তেলু মানব


তোলুঁ মানুষ, জাটল্যান্ড, ডেনমার্ক , কিছু লোক কয়লার খনিতে এই মৃতদেহ অবিকৃত অবস্থায় পায় ১৯৫০ সালে।ধারনা করা হয় খ্রিস্টজন্মের চারশ বছরত আগে এরা বাস করত।

বকস্টেন মানুষ, ভারবার্গ, সুইডেন ,১৯৩৬ সালে বকস্টেনের মৃতদেহটি আবিষ্কৃত হয় একটি কয়লা খনিতে।ধারনা করা হয় লোকটা বেঁচেছিল ১৪শ’ শতকে।

জিনজার, লন্ডন, চুলের এবং শরীরের চামড়ার রঙ আদার মত।তাই নাম রাখা হয়েছে জিনজার।ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত।

হুয়ানিতা, দ্য আইস মেইডেন, পেরু, এটি একটি ইনকা মেয়ের মৃতদেহ।পাচশ বছর বয়স।একে বলা হয় বরফকুমারী।

লেনিন, মস্কো ,পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মমি ধরা হয় লেনিনের মৃতদেহকে।রাশিয়ার লেলিনকে মমি করে রাখা হয়েছে আগামীদিনের কমরেড দের অনুপ্রানিত করার জন্য।

কো সামুই, থাইল্যান্ড : ইনি থাইল্যান্ডের একজন মৃত মঠসন্ন্যাসী।তার দেহ ও রাখা হয়েছে মমি করে।

আমরা যদি আমাদের রাজা/রানীদের(আমাদের দেশে এখনো গনতন্ত্ররুপে রাজতন্ত্র চলছে) মমী করে রাখা যেত তাহলে বনেক ভাল হত বলে মনে হয়।অনেক দিন পর বিদেশ থেকে দর্শনার্থী আসত দেখার জন্য।তাতে দেশের কিছু লাভ হত।যারা জীবদ্দশায় দেশের শুধু ক্ষতিই করেছেন তাদের মৃতদেহ যদি কিছু দেশের কিছু উপকার করে তাহলে মন্দ হয় না।

মিশরীয়রা গদের আটার সাথে রান্নাঘরের চুলার উপরে যে কাল কাল জিনিস মাকড়শার জাল বা ইত্যাদিতে ঝুলে থাকে ওগুলো মিশিয়ে তৈরী করল কালি।প্যাপাইরাস নামক নলখাগড়া থেকে কাগজ তৈরী করে ফেলল।তাদের লেখার রীতি ছিল চিত্রঙ্কন পদ্ধতিতে।মিশরীয়দের মধ্যে অনেক ক্রিয়েটিভিটি ছিল বোঝা যায়।

স্ফিংকসের মূর্তি
চতুর্থ রাজবংশের এক ফেরোর নাম ছিল খাফরে।একদা এক অদ্ভুদ খেয়ালের বশবর্তী হয়ে তিনি মস্ত বড় এক পাহাড় কাটিয়ে নির্মান করলেন অতি আশ্চর্য জনক এক মূর্তি। আশ্চর্যজনক কারন মূর্তিটার শরীরটা সিংহের কিন্তু মাথা মানুষের।এটাই প্রসিদ্ধ স্ফিংক্সের মূর্তি।

আমাদের দেশের দুই রানীর মত মিশরের ও এক রানী ছিলেন।উনি ক্লিওপেট্রা।

ক্লিওপেট্রা

সিজার এবং ক্লিওপেট্রা

ক্লিওপেট্রার পাথরে খোদাই করা ছবি


ক্লিওপেট্রা

ডেথ অফ ক্লিওপেট্রা
টলেমি বংশের শেষ শাসক।তিনি রোম সেনাপতি মার্ক এন্টনির সাথে প্রনয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।তাদের প্রেম উপাখ্যান নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত আছে।শেক্সপিয়ার তাদের নিয়েই লিখেছিলেন “এন্টনি এন্ড ক্লিওপেট্রা”।আফসোস আমাদের দুই রানী নিয়া কেউ কিছু লিখলো না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ৩:৪২
৪৮টি মন্তব্য ৪৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিলেকোঠার প্রেম- ১৩

লিখেছেন কবিতা পড়ার প্রহর, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:২৫


দিন দিন শুভ্র যেন পরম নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ছে। পরীক্ষা শেষ। পড়ালেখাও নেই, চাকুরীও নেই আর চাকুরীর জন্য তাড়াও নেই তার মাঝে। যদি বলি শুভ্র কি করবে এবার? সে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগ্ন দেহের অপূর্ব সৌন্দর্যতা বুঝেন না! বলাৎকার বুঝেন?

লিখেছেন মুজিব রহমান, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৩৫


শৈল্পিক প্রকাশের সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয় নগ্নতাকে৷ ইউরোপে অন্ধকার যুগ কাটিয়ে রেনেসাঁ নিয়ে এসেছিল আধুনিক ও সভ্য ইউরোপ৷ রেনেসাঁ যুগের শিল্পীরা দেদারছেই এঁকেছেন শৈল্পিক নগ্ন ছবি৷... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নবীকে ব্যঙ্গ করার সঠিক শাস্তি সে ফরাসি শিক্ষক কি পেয়েছে?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৫৩



গত কয়েকদিন আগে ফ্রান্সে কি হয়েছিল? একজন শিক্ষক ক্লাসে আমাদের নবীর ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন, বলা হয়েছিল তার উদ্দেশ্যে ছিল বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়ে বুঝানো। এটার পর এক মুসলিম যুবক তার ধর্মীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবি ও পাঠক

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৩১

কবিদের কাজ কবিরা করেন
কবিতা লেখেন তাই
ভেতরে হয়ত মানিক রতন
কিবা ধুলোবালিছাই

জহু্রি চেনেন জহর, তেমনি
সোনার পাঠক হলে
ধুলোবালিছাই ছড়ানো পথেও
মাটি ফুঁড়ে সোনা ফলে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

***

স্বরচিত কবিতাটির ছন্দ-বিশ্লেষণ

শুরুতেই সংক্ষেপে ছন্দের প্রকারভেদ জেনে নিই। ছন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় খাবার সমূহ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৩:৩৪



আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেসব খাবার গ্রহণ করেছেন, তা ছিল সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। নবীজি (সা.) মোরগ, লাউ, জলপাই, সামুদ্রিক মাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×