somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিভিন্ন প্রাচীন মিথোলজির কয়েককটি প্রানী এবং তাদের চেহারাসুরত

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বিভিন্ন দেশের মিথোলজির কয়েকটি প্রানী নিয়ে একটি নিরীহ ব্লগ।



ড্রাগন: ড্রাগন বিভিন্ন দেশের পৌরাণিক কাহিনিতে পাওয়া যায়। চীন দেশে সম্রাটের প্রতীক হলো ড্রাগন। ড্রাগনের দেহ সাপের মতো লম্বাটে ও আঁশভর্তি এবং বড় ডানা আছে। আর এদের নিঃশ্বাসের সঙ্গে আগুন বের হয়। লোককথায় আছে, ড্রাগনেরা গুহার গুপ্তধন পাহারা দিয়ে থাকে।ড্রাগনের প্রতিকৃতি নিয়ে চীনারা মিছিল ও করে দেখা যায়।কেউ কেউ মনে করেন ডাইনোসরের বিবর্তিত রূপ এই ড্রাগন। উড়তে পারা ড্রাগনদের কথাও শোনা যায়।উড়তে পারা ড্রাগন সাহেবদের নিয়ে চীনাদের ধারনা ছিল এরা দেবতা তাই স্বর্গীয় ক্ষমতাবলে উড়তে পারত।তবে বৈজ্ঞানিকভাবে বলা হয়েছে এই এশিয়ান এলাকার ড্রাগনরা যদি উড়তে পারত সেটা সম্ভব হত তাদের পাতলা চামড়ার কারনে যা একটু পাখার মত কাজ করত।

লুভর মিউজিয়াম---প্যারিস

রোম ইটালী

সেনতোর র‌্যাপিং এ অমেন, প্যারিস

ব্রিটিশ মিউজিয়াম,ইউ কে


ইসরায়েলের মিউজিয়ামে রক্ষিত



সেনতোর:সেনতোর হচ্ছে অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক ঘোড়ার শরীরের অধিকারী। এদের দেহ ঘোড়ার মতো, কিন্তু মাথা ও হাত মানুষের মত। গ্রিক পৌরাণিক কাহিনিতে এদের বর্ণনায় পাওয়া যায়, গ্রিসের উত্তরাংশের থেসালি থেকে এরা এসেছে বলে মনে করা হয়।


পরি: বহু দেশের গল্পকাহিনিতে পরির বর্ণনা পাওয়া যায়।বাংলাদেশের রুপকথায় ও অনেক পরি আছে।।অনেক মেয়েরাও নিজেদের পরি মনে করে।এটা সুন্দর অর্থে।এরা নিজেদের হয়ত অতি সুন্দর মনে করে।তাদের বিভিন্ন সোশিয়াল সাইটে নাম হয় এরকম, রহিমা_এনজেল,এনজেল_গার্ল_সোফিয়া, মিষ্টি_পরি_জরিনা ইত্যাদি।আর লালপরী হলুদপরী নীলপরী ইত্যাদি নাম তো আছেই।বাংলায় একটা প্রবাদ আছে ডানাকাটা পরি যেটি ডালিউডের ফিল্ম ইন্ড্রাষ্টির ভিলেনদের মুখে প্রায়ই শোনা যায়।সাহিত্যিক ভাষায় কেউ কেউ পরিদের বলেন পাখাযুক্ত উপদেবী। পরিরা দেখতে সন্দর, মিষ্টি এবং মধুর স্বভাবের হয়ে থাকে। মধ্যযুগীয় লোকেরা বিশ্বাস করত, পরিরা বাচ্চাদের চুরি করে নিয়ে যায় এবং তার পরিবর্তে কদাকার শিশু রেখে যায়।এখনো বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এরকম কিছু ধারনা রয়েছে।

বাংলাদেশের মেয়েরা পরীর চেয়ে সুন্দর,মিষ্টি,মধুর স্বভাবের :Pতাই আর পরীর ছবি দেয়া হল না।



ইউনিকর্ন: ইউনিকর্নের দেহ ঘোড়ার/হরিনের মতো, লেজ সিংহের মতো, ছাগলের মতো দাড়ি, হরিনের মতো পা। আর পাকানো একটি শিং কপাল থেকে বের হয়। মধ্যযুগীয় গল্পে ইউনিকর্ন খুব জনপ্রিয় ছিল।লোকগাথায় শত শত বর্ষ ধরে জীবন্ত ছিল এটি। এরা হিংস্র ছিল বলে মনে করে কেউ কেউ। শিঙের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ ও বিষ নিষ্ক্রিয় করতে পারত ।চীনারা মনে করত এই ইউনিকর্ন শুভ সময়ের প্রতীক।অর্থাৎ ইউনিকর্নের সাক্ষাৎ মিললে বুঝতে হবে এখন সময় ভাল।বসন্তকাল।আর ইউনিকর্ন এর দেখা না পাওয়া গেলে বুঝতে হবে সময় এখন বর্ষাকাল।অবস্থা ভাল না।চীনাদের মতে প্রথম ইউনিকর্ন দেখা যায় সম্রাট ফু হুসির আমএ ৫০০০ হাজার বছর পূর্বে।তারপর রাজা হুয়াং ডি র আমলে আজ থেকে ৪৭০০ বছর আগে আবার দেখা যায়।চীনারা বলে কনফুসিয়াসের ভাগ্যবতী মাতার সাথে একটি ইউনিকর্নের দেখা হয়েছিল যখন তার পেটে ছিলেন কনফুসিয়াস।ওই ইউনিকর্ন তার মস্তক কনফুসিয়াসের মাথার পেটে স্পর্শ করিয়েছিল।তারপর এই কনফুসিয়াসই হন একজন মহান দার্শনিক। আর জাপানে মনে করা হত ইউনিকর্ন দোষী ব্যাক্তিকে চিহ্নিত করতে পারে।বিচারকরা দোষী ব্যাক্তিদের খোজে পেতে ইউনিকর্ন ব্যবহার করতেন।আরবরা ইউনিকর্নকে মনে করত যাদুবিদ্যার অধিকারী।



ভ্যাম্পায়ার: ভ্যাম্পায়ারের মৃত্যু নেই; আর বেঁচে থাকার জন্য একে রক্ত পান করতে হয়। ভ্যাম্পায়ার সম্পর্কে গল্প প্রচলিত আছে, যদি কাঠের টুকরা এর হূৎপিণ্ডে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে ভ্যাম্পায়ারের মৃত্যু ঘটে।ব্লেড নামক ছবিতে ব্লেড নামের একজন নিরন্তর এই ভ্যাম্পায়ার মেরে বেড়ায়। ইউরোপের কিছু মানুষ বিশ্বাস করে, রসুন, ক্রুশচিহ্ন, পবিত্র বাইবেল ইত্যাদির মাধ্যমে ভ্যাম্পায়ার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।ভ্যাম্পায়ার নিয়ে আরো অনেক কথা আছে।এরা আলোতে আসতে পারে না।রাতে বের হয় ইত্যাদি।অনেক গল্প উপন্যাস ফিল্ম নির্মিত হচ্ছে এবং হয়েছে এই ভ্যাম্পায়ারদের নিয়ে।টুইলাইট নামের এক অতি আজিব ফিল্ম ও বানানো হইছে।যেটার কাহিনী ভ্যাম্পায়ার আর মানুষের প্রেম।এখনকার জেনারশন খুব খাচ্ছে ফিল্মটা।ভ্যাম্পায়ার নিয়ে আমাদের দেশের হুমায়ুন আহমেদ সাহেব একটা গল্প পড়েছিলাম।অনেক আগেপড়া তাই নামটা মনে নেই।


ট্রল: স্ক্যান্ডেনেভীয় রূপকথায় আছে এই ট্রলরা।এরা দেখতে কিম্ভূতকিমাকার এবং বামন আকৃতির।এই ট্রলরা ঘুমন্ত শিশুকে চুরি করে নিয়ে যায় এবং পরিবর্তন করে বামন আকৃতির শিশু রেখে যায় বলে বিশ্বাস ছিল স্ক্যান্ডেনেভীয়দের। এরা চোখে কম দেখে। দিনের সূর্যের আলোতে পাথর অয়ে যেত এবং রাতে কেবল বের হতে পারত।


তথ্য এবং ছবিঃ
বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রঙ বদলের খেলা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:৪৮


কাশ ফুটেছে নরম রোদের আলোয়।
ঘাসের উপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিশিরকণা।

ঝরা শিউলির অবাক চাহনি,
মিষ্টি রোদে প্রজাপতির মেলা।

মেঘের ওপারে নীলের অসীম দেয়াল।
তার ওপারে কে জানে কে থাকে?

কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শ্রদ্ধেয় ব্লগার সাজি’পুর স্বামী শ্রদ্ধেয় মিঠু মোহাম্মদ আর নেই

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৩৮

সকালে ফেসবুক খুলতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।
ব্লগার জুলভার্ন ভাইয়ের পেইজে মৃত্যু সংবাদটি দেখে -

একটি শোক সংবাদ!
সামহোয়্যারইন ব্লগে সুপরিচিত কানাডা প্রবাসী ব্লগার, আমাদের দীর্ঘ দিনের সহযোগী বিশিষ্ট কবি সুলতানা শিরিন সাজিi... ...বাকিটুকু পড়ুন

এখন আমি কি করব!

লিখেছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:১৯

মাত্র অল্প কিছুদিন হল আমি ফরাসি ভাষা শিক্ষা শুরু করেছিলাম।



এখন আমি ফরাসি ভাষা অল্প অল্প বুঝতে পারি। হয়তো আগামী দিনগুলিতে আরেকটু বেশি বুঝতে পারব।

ফ্রান্স একটি সুন্দর দেশ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

=স্মৃতিগুলো ফিরে আসে বারবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:০৮



©কাজী ফাতেমা ছবি
=স্মৃতিগুলো ফিরে আসে বারবার=

উঠোনের কোণেই ছিল গন্ধরাজের গাছ আর তার পাশে রঙ্গন
তার আশেপাশে কত রকম জবা, ঝুমকো, গোলাপী আর লাল জবা,
আর এক টুকরা আলো এসে পড়তো প্রতিদিন চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা শহর

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১৫










অনেকদিন ধরেই ভাবি বাংলাদেশ নিয়ে লেখা দরকার । লক্ষ ছবি তুলি কিন্তু তা পি সি তেই জমে থাকে ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×