somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলচ্চিত্র : কলকাতা পারলে আমরা পারবো না কেন

২৩ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





পাগলু : কলকাতার এই সময়ের একটি ব্যবসাসফল ছবি

মনটাই খারাপ হয়ে গেল। সারা দেশেই সিনেমা হল রীতিমতো প্রতিযোগিতা করে বন্ধ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের কি হবে? বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প যখন অস্তিত্বের লড়াই করছে, তখন পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় এই শিল্প আবার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও যেখানে কলকাতার চলচ্চিত্র শিল্পকে বলা হতো ‘মৃতপুরী’, ঠিক সেখানেই এখন আনন্দের বন্যা। প্রতি বছর কলকাতায় নির্মিত হচ্ছে অন্তত ১৫০-১৬০টি ছবি। কলকাতা শহর এবং এর আশপাশেই গড়ে উঠেছে ১০৮টা সিনেমা হল। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই নাকি আরও ৪০-৫০টি নতুন হল তৈরি হবে। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যাংকগুলো বাৎসরিক মাত্র ৫ ভাগ সুদে ঋণ দিচ্ছে। সিনেমা হল নির্মাণের জন্য ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় মাত্র ৬ ভাগ সুদে। চলচ্চিত্র শিল্পের কাঁচামাল, যেমন নেগেটিভ আমদানি করতে এলসি মার্জিন দিতে হয় ৩ ভাগ। এই শিল্পের জন্য ৩৫ এমএম ক্যামেরা আমদানির ওপর কোন আমদানি শুল্ক নেই। এক কথায়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতার টালিগঞ্জ চলচ্চিত্রপুরী ক্রমশ জেগে উঠছে। এখানে প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে- ওরা পারলে আমরা কেন পারবো না? উত্তরটা খুব-ই সোজাসাপ্টা। আমাদের সরকার প্রতি বছর চলচ্চিত্র শিল্প থেকে কোটি-কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও, এই শিল্পের প্রসারে কোন উদ্যোগ নিতে একেবারেই নারাজ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সবেধন-নীলমনি এফডিসি বা চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন আসলে চলচ্চিত্রের উন্নতি না ধ্বংস চায়- সেটাই বোঝা মুশকিল। ক্যামেরাগুলো প্রায় অচল। শুটিং ফ্লোরগুলোর জীর্ণদশা। সাউন্ড ল্যাব ত্রুটিপূর্ণ। রিভার্স ট্রান্সফার যন্ত্র কবে আসবে তা কেউ জানে না। এখনও রিভার্স ট্রান্সফারের জন্য ছুটতে হয় মাদ্রাজ না হয় ব্যাংকক। কোটি কোটি বিদেশী মুদ্রা এভাবেই চলে যাচ্ছে। সরকারের কোনই মাথাব্যথা নেই। এফডিসি ল্যাবরেটরিতে যে কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, এগুলো খুবই নিম্নমানের। একারণেই প্রিন্টগুলোর অবস্থাও যাচ্ছেতাই। আরও সমস্যা আছে। ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার, প্রতি বছর, অন্তত ১৫-২০ টা ছবিকে করমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে সিনেমাগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানো হচ্ছে। নতুন শিল্পীদের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণকেন্দ্র আছে। যা আমাদের এখানে নেই। যে কয়েকটা ছবিকে করমুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর পেছনেও ছিল রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব। ‘মনপুরা’ অথবা ‘মনের মানুষ’- এর মতো ছবিগুলোকে কেন করমুক্ত করা হয়নি? একটা দেশে তখনি ভাল চলচ্চিত্র নির্মিত হবে, যখন সরকার উৎসাহ পৃষ্ঠপোষকতা দেবে। না হয় আমজাদ হোসেন, চাষী নজরুল, সুভাষ দত্তদের মতো গুণী নির্মাতারা বেকার বসে থাকবেন। কলকাতার স্টুডিওগুলোয় কাজ শুরু হয় সকাল ৯টার মধ্যেই। আর আমাদের এখানে? শিল্পীরাতো ঘুম থেকেই উঠেন দুপুর ১২টার পর। যারা আজকের চলচ্চিত্র শিল্পের ‘বড়’ নায়ক বা নায়িকা, উনাদের ভাবখানা এমন যেন, উনাদের ইচ্ছার ওপর চলতে হবে সবাইকে। দুঃখের সঙ্গেই বলছি, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যদি পরিচালকদের সম্মান করতে ভুলে যান, তখন কিন্তু সেই দেশের চলচ্চিত্র শিল্প যে ধ্বংসের মুখোমুখি তা বলেই দেয়া যায়। আমাদের এখানে দেখা যায়, পরিচালক সেট-এ আসেন সকাল ৮টায়। কয়েক ঘণ্টা পর অভিনেতা আসেন। প্রতিবাদ তো দূরের কথা, কেউ একটু টুঁ শব্দও করতে সাহস পান না। প্রখ্যাত পরিচালক রোমান পোলানস্কি আমাকে ভাইয়ের মতো স্নেহ করেন। উনার সঙ্গে হলিউড দেখার এবং ছবির শুটিং দেখার সুযোগ হয়েছে। হলিউডের বাঘা-বাঘা নায়ক নায়িকারাও সকাল ৭টার ভেতর শুটিং ফ্লোর-এ যান। আমাদের নায়ক-নায়িকারা কি তাদের চেয়েও বড় হয়ে গেছেন?

তথ্যসুত্রঃদৈনিক মানবজমিন
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×