
মায়ানমারের পরিকল্পিত রোহিঙ্গা বিতাড়ন কর্মসুচির আওতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সীমান্ত অতিক্রম এখন বাংলাদেশের জন্য কঠিন বাস্তবতা। পূর্বের ৪ লক্ষ ও এবারের প্রায় ২ লক্ষ (সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৪ লক্ষ) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির প্রবেশ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুর্বের অস্থিরতার সাথে নতুন করে কতটুকু অস্থিরতা ছড়াবে, উটপাখির মত বালুতে মুখ বুঝে থাকা আমাদের তা বুঝতে বেশী সময় লাগবে না।
১৭ কোটি মানুষের নিরাপত্তা ও প্রায় ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভুখন্ডকে অখন্ড রাখার স্বার্থে জরুরিভিত্তিতে নিন্মোক্ত পদক্ষেপগুলি এখনই নিতে হবে:
১) সর্বপ্রথম দরকার নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত শরণার্থি শিবিরকে আইসোলেটেড করে দেয়া।
২) নতুন আগত শরণার্থিদের চিহ্নিত করে নির্দিশ্ট এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করে আপাত অবস্থানের ব্যাবস্থা করা ও সম্ভব দ্রুততার ভিতর ইউএনএইচসিআর কর্তৃক নিবন্ধিত করা।
৩) রোহিঙ্গাদের সেন্ট্রাল ডাটাবেইস তৈরি করা ও তাদেরকে জন্মনিয়ন্ত্রনে বাধ্য করা।
৪) দেশী-বিদেশী সংবাদ মাধ্যমকে ঐ এলাকায় ভ্রমণ বা সংবাদ সংগ্রহের বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপন।
৫) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়াকে সেল্প সেন্সরশিপে বাধ্য করা।
৬) বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি সংক্রান্ত যেকোন নিউজের একমাত্র উৎস হবে সরকারী বিবৃতি, অন্য কিছু নয়।
৭) রামু সেনানিবাসকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের মত ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে সেনা ও নৌবাহিনীকে পুরো অঞ্চলে নিয়োগ করা এবং ট্রুপের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ানো।
৮) শরণার্থিদের ত্রানসহায়তা একমাত্র সরকারী নিয়ন্ত্রণে করার ব্যাবস্থা করা।ব্যাক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহায়তা করার কারও ইচ্ছে থাকলে সেটা সরকারী ভান্ডারে জমা করে তারপর নিয়ন্ত্রিত ভাবেই করতে বাধ্য করা। কোনভাবেই কাউকে ব্যাক্তিগত উদ্যোগ বা সাংগঠনিক উদ্যোগ প্রদর্শনের সুযোগ না দেয়া।
৯) রোহিঙ্গা-বাংলাদেশী বিয়ে নিষিদ্ধ করাতেই থেমে না থেকে সেটাকে কঠোরভাবে মনিটর করা। কেউ অাইন অমান্য করলে সেক্ষেত্রে সর্ব্বোচ্চ শাস্তির ব্যাবস্থা করা।
১০) পূর্বেই অাগত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে অাপাত পুনর্বাসনের বিষয়ে কিছুদিন আগে নেয়া সরকারী উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া।
১১) সেখানকার সাধারন জনসাধারনকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যাপকভাবে সচেতন করে তোলা, যেটা সরকারের সিভিল প্রশাসন ও স্থানীয় পরিক্ষিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেন্দ্রের নির্দেশে বাস্তবায়ন করবে।সুবিধাপ্রাপ্ত ধান্ধাবাজদের বিষয়ে কঠোরতা প্রদর্শন করা।
১২) রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে ফেরত নেবার জন্য মায়ানমারের উপর ব্যাপক চাপ সৃস্টি করার জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন।জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে এটাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
১৩) মায়ানমারের রাখাইনে অস্থিরতা বন্ধের বিষয়ে তাদের উপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ, বিশেষ করে পারফেক্ট ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে চীন ও ভারতকে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাথে পেতে পারে ।
১৪) স্থানীয় ধর্মিয় লিডার ও ধর্মিয় সংগঠন বিষয়ে ব্যাপক স্টাডি ও প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ।
১৫) রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ইস্যুতে দাতাসংস্থাগুলির উপর কঠোরভাবে মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ।

এসংক্রান্ত পূর্বের দুটি পোষ্ট
ক) নতুন করে রোহিঙ্গা ইস্যু : বাংলাদেশকে সাবধান হতে হবে এখনই
খ) মায়ানমারের দাঙ্গা : দায় কি শুধুই বাংলাদেশের ?
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



