যুগ যুগ ধরে আমাদের কথাবার্তায়, আচার অনুষ্ঠানে আমরা অনেক ধর্মীয় অনুশাসনকে লালন করে থাকি, যেটা সত্যিই আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিকতার মাঝে লুকায়িত সমৃদ্ধিশীলতাকে প্রমাণ করে। এর একটি প্রকৃৃষ্ট উদাহরণ হল আমাদের সময় নির্দেশনা।
আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষ এখনও নামাজের ওয়াক্তের সাথে সময় মিলিয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত। যেমন ধরুন আপনার আব্বা বাড়ির বাইরে গেছে, ফিরতে একটু দেরী হচ্ছে দেখে আপনি ফোন দিলেন, কখন আসবেন আব্বা? আপনার বাবার উত্তর হয়ে থাকবে ঠিক এমনটি: হ্যারে বাজান আজকে অফিসে লম্বা লাইন ছিল, আমার বাড়ি আসতে আসতে মনে হয় আসর হয়ে যাবে।
এলাকার নেতার সাথে জরুরী ব্যাপারে কথা বলতে হবে, দেখা করে সময় নিতে গেলেন, নেতা মাগরিবের পরে দেখা করতে বললেন, যদিও নেতা হয়ত নামাজের ধার ধারেন না।
নিজে দেখে আরবী পড়তে পারেন না, ছোটবেলায় কোরআন শেখা হয় নি, তাই আদরের ছোট্ট বাচ্চাটিকে কোরআন শেখানোটা মিস করতে চাননা, দেখা করতে গেলেন হুজুরের কাছে, হুজুর বলল ফজরের পরে মক্তবে পাঠিয়ে দিয়েন, অনেক ছেলেমেয়ে আসে একসাথেই ভালো হবে।
এলাকার বড় ভাই যেমন লেখাপড়ায় জিনিয়াস তেমন জ্ঞান বিতরণে। পরীক্ষার আগে একদিন গেলেন যে, ভাই সামনে তো পরীক্ষা বুঝতেই পারছেন! কিছু পরামর্শ টরামর্শ দেন। ভায়ের এককথা – এশারের পরে মোবাইলের দিকে চোখ তুলে ও তাকাবিনা, তাহলেই পারবি লক্ষ্যে পৌঁছাতে।
হাইস্কুলে পড়েন, উচ্ছ্বাসে ভরা এক বহতা জীবন, বৃহস্পতিবার, তাই দুপুরের ক্লাশ শেষে খেলা আছে বাড়ির পাশের মাঠে। খেয়েদিয়েই দৌড় দেবার কথা থাকলেও বাঁধ সাধল মা। এই কোথায় যাচ্ছিস?? খাঁড়া যোহরের সময় বাইরে যেতে হবেনা।
এভাবে আরো অনেক অনেক মিষ্টি হাসি আর কথার মাঝে নিহিত আমাদের ধর্মীয় সম্পর্ক।
কিন্তু আজ পথহারা পথিক আমি, নিজের স্বকীয়তা কে হারিয়ে ফেলে অন্যের মাঝে খুঁজে বেড়াচ্ছি। আর আল্লাহ আমাদের জিজ্ঞেস করছেন
يَا أَيُّهَا الْإِنسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ
হে মানুষ কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?
তাই আসুন যেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আমাদের সামাজিক সময় নির্দেশনা গড়ে উঠেছে তাকে ভুলে না যায়, নিয়মিত নামাজ পড়ি অন্যকেও পড়তে তাগিদ করি। আল্লাহ যেন আমাদের নেক আমলগুলাকে কবুল করেন, এবং ভুলগুলোকে মাফ করে দেন।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



