somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার ছোয়া

০১ লা মার্চ, ২০১৫ রাত ৮:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সারাজিবন যে কোন পরিস্থিতি তে মাথা ঠান্ডা রাখছি। কিন্তু এখন পারতেছিনা । মিষ্টি যে এমন একটা কাজ করবে ভাবতে পারিনি। মিষ্টি কে দেখে মনে হচ্ছে ওর মধ্যে কোন টেনশন নেই।
আজ কার মুখ দেখে যে ঘুম থেকে উঠছিলাম কে জানে। সকালে উঠেই মিস্টি র ফোন, কি যেন জরুরী কথা আছে। কি আর করা ,নাস্তা না করেই বেরিয়ে পরলাম বাসা থেকে । এসে দেখি ও একটা ব্রেঞ্চে বসে আছে। পাশে একটা কাপড়ের ব্যাগ।তাতেই সন্দেহ হয়েছিল কিছু একটা গড়বড় আছে।আমার সন্দেহ ঠিক ছিল, মিষ্টি বাড়ি থেকে পালিয়ে আসছে।ওর বাড়িতে কোন সমস্যা ও ছিল না, তবুও ও কেন পালিয়ে আসল?আমি জিজ্ঞেস করলাম
-কেন আসলা বাড়ি থেকে?

ওকে জিজ্ঞাস করার সাথে সাথে ও ওর ভুবন ভুলানো হাসি দিয়ে বলতে লাগল
-তুমি কি আমাকে ভালবাসা নয়ন?
-কথা চেঞ্জ করিওনা
-তুমি আগে আমার কথার উত্তর দাও?
-হুম,তো
-তো আমাকে বিয়ে করে তোমার বাড়ি নিয়ে চল।

আমি কিছুক্ষন মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বললাম
-এখন বিয়ে করা কি খুব জরুরী
-হুম
-কেন,একটু বল শুনি
-এক জায়গায় থাকতে আর ভাল লাগছেনা
-এক জায়গায় মানে?
- বাপের বাড়ি,প্রায় ২৩ বছর এক জায়গায় আছি। আর ভাল লাগছে না,অন্য কোথায় থাকতে হবে।

আমি পুরো অবাক মিষ্টির কথা শুনে,কি বলছে এই মেয়ে।
এর বাপের বাড়িতে থাকতে ভাল লাগেনা।আমি একটু ভেবে বললাম
-আমার সাথে কিছুদিন থাকার পর আমাকেও চেঞ্জ করে অন্য খানে যাবা?

মিষ্টি আমার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বলল
-আরে না,আমরা বাসা পাল্টিয়ে পাল্টিয়ে থাকব।
-খুব ভাল বুদ্ধি করছ,কিন্তু আমি এখন বিয়ে করতে পারব না।বাড়ি চলে যাও।
-পারব না।বাড়িতে চিঠি লিখে এসেছি,বিয়ে করতে পালিয়ে যাচ্ছি।
-চল আমার সাথে, তোমার বাড়িতে বুঝিয়ে বলছি।
-না যাবনা,বিয়ে না করতে চাইলে চলে যাও।এখানেই সারা দিন রাত বসে থাকব।

আচ্ছা ঝামেলা হয়ে গেল তো।মিষ্টিকে এ অবস্থায় রেখেও যাওয়া যাবেনা।খুব জেদী ও,যা বলবে তাই করবে।একটু চিন্তা করতে হবে, কি করা যায়।আম ওর পাশেই বসে পড়লাম।মিষ্টি আমার ঘাড়ে হাত রেখে বলল
-চলনা বিয়ে করে ফেলি!

আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম
-আচ্ছা চল কাজী অফিস।

ছোট একটা চাকরি করি,তাতেই আমাদের চলে যাবে।কিন্তু বাড়িতে গিয়ে কি বলব এটার শুধু টেনশন।
পরে দেখা যাবে, কি হবে।
আমি মিষ্টি কে নিয়ে রিক্সায় উঠে পড়লাম,ওই রিকশা ঠিক করল।

আমি রিক্সাতে উঠে বললাম
-সাক্ষী ও তো লাগবে?
-সব ঠিক করা আছে।

এই প্রথম কোন মেয়েকে দেখছি বিয়ের জন্য এত আগ্রহ।অবশ্য বিয়ে আমিও করতে চাই।কিন্তু আমার বাড়িতে একটু সমস্যা তাই আর কি!

কাজি অফিসে গিয়ে দেখি অনেক বন্ধু বসে আছে।আমি মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বললাম
-তুমি কিভাবে জানতা যে, আমি রাজি হব?

ও আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল
-আমি জানতাম, চল ভিতরে।

আমরা কাজির সামনে বসে আছি।আমি সাইন করে মিষ্টির দিকে খাতাটা বাড়িয়ে দিলাম। মিষ্টিকে পুরো বউ বউ লাগছে।মাথায় ওরনা দেওয়া।ও আমার দিকে তাকাল,আমি একটু হাসলাম।ও আবার মুখ নিচে করে সাইন করে দিল।

বাইরে বের হয়ে,একে একে সব বন্ধুরা চলে গেল।আমি আর মিষ্টি হাটছি।খুব নিরবতা বিরাজ করছিল আমাদের মাঝে।
আমি মাঝে মাঝে মিষ্টির দিকে তাকাচ্ছিলাম কিন্তু ও নিচে দেখেই হাটছিল।আমি একটা রিকশা ডাক দিয়ে মিষ্টিকে বললাম
-ওঠ,বাসা যাওয়া যাক।

আমি ভাবতে পারিনি, মিষ্টি এতক্ষন চুপ করে থাকতে পারে।নতুন বউয়ের মত চুপ করে আছে।
আমি বলেই ফেললাম
-নতুন বউয়ের মত চুপ করে আছ কেন?

মিষ্টি কথাটা শুনে, আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলল
-ক বছর হল আমাকে বিয়ে করেছ, যে পুরনো হয়ে গেছি?

কথাটা তো ঠিক বলছে,১০ মিনিট হল আমাদের বিয়ে হয়েছে।আর ও তো নতুন বউই।আমি বললাম
-নতুন বউ,কিন্তু আমার কাছে তো নতুন নও তাহলে আমার কাছে এত লজ্জা পাচ্ছ কেন?

মিষ্টি আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জা পেয়ে বলল
-আগের প্রেমিকা ছিলাম এখন তো নতুন বউ।তুমি চুপ করত।

আমি চুপ করে গেলাম।এখন ভাবছি বাড়িতে গেলে কি হবে।যদি বাবা বাসায় থেকে তো আমাকে তো বাড়ি থেকে বের করে দিবে।
চিন্তার মধ্য ছেদ ঘটাল মিষ্টি।
মিষ্টি বলল
-কি ভাবছ?
-বাড়িতে কি হবে তাই ভাবছি

মিষ্টি আমার হাত ধরে বলল
-খুব কি সমস্যা হবে?

আমি মিষ্টির দিকে তাকিয়ে দেখলাম,ওর চোখে পানি।
আমি আমার হাত ছেরে নিয়ে, ওর হাত ধরে বললাম
-ভেবনা,যা হবার হবে।আমরা এক সাথেই থাকব।

মিষ্টি ওর মুখটা আমার বুকে গুজে দিল।আমি অতি যত্নে ওকে জড়িয়ে ধরলাম।যেখানে আছে ভালবাসার ছোয়া।





২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতটা নির্লজ্জ বেহায়া ভিসি সারা দুনিয়াতে নেই-- ছি:

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০১

একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হতে পারে, সেই সাথে ক্ষমতার+ টাকার+ সরকারী সুবিধাদী পাবার কাঙ্গাল হতে পারে, চুয়েটের ভিসি (Vice-Chancellor) কে না দেখলে জানতেই পারতাম না। এতদিন শুধু লোভী বলে বুবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×