আগের পর্ব...
আদম (আঃ) সাময়িকভাবে বেহেশত হ’তে বহিষ্কৃত হয়ে পৃথিবীতে অবতরণের পর আল্লাহ ইচ্ছানুযায়ী তাদের বংশবৃদ্ধি শুরু হয়। বিশ্ববাসীর অকৃত্রিম সম্মান, শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালবাসা ইত্যাদির বিশুদ্ধতম আনুগত্য লাভের ব্যাপক প্রয়াসে মহান আল্লাহ মানব জন্মের সূত্রপাত ঘটান। এ বিষয়টিও পবিত্র কুরআনুল করীমে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
‘তিনিই আল্লাহ তা'আলা, যিনি তোমাদের একটি প্রাণ থেকে পয়দা করেছেন এবং (পরবর্তী পর্যায়ে) তার থেকে তিনি তার জুড়ি বানিয়েছেন, যেন তার (জুড়ির) কাছে (গিয়ে) সে পরম শান্তি লাভ করতে পারে, অতঃপর যখন (পুরুষ) সাথীটি (তার) মহিলা সাথীটিকে (দৈহিক প্রয়োজনের জন্যে) ঢেকে দিলো, তখন মহিলা সাথীটি এক লঘু গর্ভ ধারণ করলো (এবং প্রথম দিকে) সে এ নিয়েই চলাফেরা করলো; পরে যখন সে (গর্ভের কারণে ওযনে) ভারী হয়ে এলো, তখন তারা (পুরুষ-মহিলা) উভয়েই তাদের মালিককে ডেকে বললো, হে আল্লাহ তা'আলা, যদি তুমি আমাদের একটি সুস্থ ও পূর্ণাংগ সন্তান দান করো, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার কৃতজ্ঞতা আদায়কারীদের দলে শামিল হবো।’ {সূরা আল আ‘রাফ, আয়াত ১৮৯}।
এরপর উপরের আয়াতের সাদৃশ্যপূর্ণ বাণীতে সারা বিশ্বের মানবমন্ডলীকে আহবান জানিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
‘হে মানুষ, তোমরা তোমাদের মালিককে ভয় করো, যিনি তোমাদের একটি (মাত্র) ব্যক্তিসত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তা থেকে (তার) জুড়ি পয়দা করেছেন, (এরপর) তিনি তাদের (এই আদি জুড়ি) থেকে বহু সংখ্যক নর-নারী (দুনিয়ার চারিদিকে) ছড়িয়ে দিয়েছেন (হে মানুষ), তোমরা ভয় করো আল্লাহ তা'আলাকে, যাঁর (পবিত্র) নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার (ও পাওনা) দাবী করো এবং সম্মান করো গর্ভ(ধারিণী মা)-কে, অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা তোমাদের ওপর তীক্ষ্ন দৃষ্টি রেখে চলেছেন।’ {সূরা আন নিসা, আয়াত ১}।
মহান আল্লাহ বলেন,
‘হে মানব সম্প্রদায়, আমি তোমাদের একটি পুরুষ ও একটি নারী থেকে সৃষ্টি করেছি, তারপর আমি তোমাদের জন্যে জাতি ও গোত্র বানিয়েছি, যাতে করে (এর মাধ্যমে) তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো, কিন্তু আল্লাহর কাছে তোমাদের মাঝে সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হচ্ছে সে, যে (আল্লাহ তা'আলাকে) বেশী ভয় করে, অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা সব কিছু জানেন এবং সব কিছুর (পুংখানুপুংখ) খবর রাখেন।’ {সূরা আল হুজুরাত, আয়াত ১৩}।
সূরা আন‘আম এর ৯৮ আয়াতে আলোচ্যধারায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হ’ল,
‘তিনি তোমাদের মাত্র একটি ব্যক্তিসত্তা থেকে পয়দা করেছেন। অতঃপর একটি হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও একটি হচ্ছে স্বল্প মেয়াদী ঠিকানা। নিশ্চয়ই আমি প্রমাণাদি বর্ণনা করে দিয়েছি বিস্তারিতভাবে তাদের জন্যে, যারা চিন্তা করে’।
মানব সৃষ্টির প্রথম সুপরিকল্পিত ইতিহাস, উহার প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণ অধ্যায়সহ পৃথিবীতে প্রাথমিকভাবে মানবজন্মের সূত্রপাত নিয়ে পবিত্র কুরআনুল কারীম হ’তে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করা হ’ল। মূলতঃ পৃথিবীতে নারী-পুরুষের মধুর মিলন হ’তেই সন্তানাদি বা বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। উপরোক্ত আয়াত ক’টিতে তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উভয়ভাবেই ব্যক্ত করা হয়েছে। মানব সৃষ্টির মৌল প্রক্রিয়ার মধ্যে যে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম তথ্য প্রযুক্তি রয়েছে, কোন বিজ্ঞানীর পক্ষে তা সঠিকভাবে আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ মহাজ্ঞান ভান্ডার (কুরআন) হ’তে প্রাপ্ত সঠিক ও যুক্তিযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্টভাবে বা সুন্দরভাবে তা জানা সম্ভব। মানবতার বিকাশ সাধনে ও আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জনে জ্ঞানের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তা দানের জন্য ইহা একটি অনুকরণীয় মূল্যবান প্রযুক্তিভান্ডার, যা তাঁরই মালিকানাধীন।
ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে সমাপ্য ...
রচনাঃ রফীক আহমাদ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

