somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রীতিলতা হলের নামায রুম

০৩ রা এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৪:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরশু দুপুরে গভীর ঘুমে আমি অচেতন। এমন সময় কেঁপে উঠলাম। বালিশের নিচে মোবাইল বাজচ্ছে। দেখি রুম্পার ফোন।
রুম্পার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হলে। কাস শুরুর প্রথম দিন-ই হলে উঠেছিলাম। অতি উৎসাহে। আমরা যারা ঢাকার, তাদের জন্য বরাদ্দ হলো নামায রুম। সে রুমে প্রথম দিন আমি আর রুম্পার সঙ্গে উঠল আফরিন। বিশাল হল রুমে আমরা তিন বাসিন্দা। আমি হলি ক্রস , রুম্পা ভিকারুনি্নসা আর আফরিন মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ থেকে। হোয়াট আ কম্বিনেশন! প্রথম দুদিন কেন জানি তারা আমার সঙ্গে সহজে মিশতে পারল না। আমাকে কেন জানি ভয় পেয়েছিল। দুদিন পর থেকে আমরা জানি ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম। এরপর এলো ভিকারুনি্নসার শিখা, তৃষা, রিতু। কমার্স কলেজের মুন্নী। ধীরে ধীরে এ রুমে উঠল আরো অনেকে- মেরি, বহ্নি। রুম্পা অনর্গল কথা বলত। এতো কথা বলত যে তার নাম আমি দিয়ে ফেলালাম বাংলাদেশ রেডিও। তারপর দেখি শিখাও কম যায় না। তার নাম দিলাম বিবিসি। তৃশা আর বহ্নির ছিল ফোনের রোগ। যখনি রাতে হলের ফোন বাজত এই দুজন কম্পিটিশন দিয়ে দৌড়ে যেত। আফরিনেরও ফোনের রোগ ছিল তবে তা বিশেষ একজনের সঙ্গেই! আর সেই অত্যাচারটা পোহাতে হতো আমাকে। কারণ সে আমার মোবাইল দিয়ে কথা বলত। তবে আফরিন অসাধারণ চা বানাত। রাত হলেই আমি তাকে তেল মারা শুরু করতাম। এক ড্রাম তেল খাওয়ার পর সে চা বানিয়ে আনত।
আমি আগে একেবারেই সাজগোজ করতাম না। এদের পাল্লায় পরে আমারও সাজার রোগে ধরল। কাসে যাবার আগে একঘন্টা ধরে সবাই মিলে রেডি হতাম। বিকেল বেলাও এক অবস্থা। সন্ধ্যার পর ঘুরতে বের হওয়া, মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান দেখা। আর কনসার্ট বা ক্যাম্পফায়ার থাকলে তো কথাই নেই। এমন নাচা নাচতাম, যে সবাই শুধু আমাদের-ই দেখতো! বিশেষ করে জেমস, বাচ্চু আর সোলস-এর কনসার্টের নাচ আজও অনেকে মনে রেখেছে। সবচে বেশি নাচানাচি করতাম আমি। এমনকি রুমের মধ্যেও।
প্রত্যেকের জন্য আলাদা বেড থাকলেও সবাই দু'জন করে ঘুমাতাম। কখনো সারা রাত লনে বসে জোছনা পোহাতাম। মাঝে মাঝে গানের আসর বসত। আফরিন অসাধারণ গাইত। তবে আমার জন্য প্রতিরাতেই তাকে জারা জারা গানটা গাইতে হতো। কখনো ভোরে হাটতে বেরিয়ে যেতাম। সূর্যদয় দেখার জন্য। কতদিন রাস্তা ধরে উদ্দেশ্যহীন ভাবে দল বেঁধে হেঁটে বেড়িয়েছি। তুমুল বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তা ধরে ভাবলেশহীনভাবে হেঁটেছি। রাতের রাতের পর রাত নিজেদের কষ্টগুলো ভাগাভাগি করেছি। লেগে থাকতাম একজন আরেক জনের পিছনে- কত ভাবে খেপানো যায়!
এডভেঞ্চার-ও কম করেনি আমরা।
এদিকে ছ'মাস পেরিয়ে গেল। নামাযরুমে ভিড় করেছে আরো অনেকে। এবার রুম চাই। রুম পেলাম। নম্বর 203! রুম্পাকে নিয়ে উঠলাম। কারণ সে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সবাই আমাদের তখন দুই সতিন বলে ডাকা শুরু করল! রুমে উঠার পরই আমি হলে থাকা কমিয়ে দিলাম। গত দু'বছরে একেবারেই থাকিনি।
রুম্পা তাই ফোন করল-তুই জানিস? সুপার ম্যাডাম তোর সিট ক্যানসেল করে দিয়েছে?
(নামায রুমের এ সময়টা আমার জীবণের সবচেয়ে মজার সময়গুলোর একটি, যা আমি বলে বোঝাতে পারব না)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৫০
২৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পিটিভির আর্কাইভে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ দেখা

লিখেছেন অর্ক, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫



‘খুব ভালো জঙ্গ চলছে। একের পর এক নাপাক হিন্দু সেনা হালাক (মৃত্যু) হচ্ছে। রাজাকার আলবদরদের নিয়ে পাকিস্তানের বীর সেনা যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে। দুয়েক দিনের মধ্যেই হিন্দুস্থান হাঁটু গেড়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা সত্যিই পথ হারিয়েছি!

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:১৭

আমরা সত্যিই পথ হারিয়েছি!
--------------------------------
আমরা যেন এক দূর্ভাগা জাতি দক্ষতা, জ্ঞান আর উন্নতির জন্য যেখানে আমাদের লড়াই করার কথা, সেখানে আমরা বারবার জড়িয়ে পড়ছি সস্তা রাজনীতির ফাঁদে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ আবারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×