somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রিলিয়ান্ট

২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছাত্র জীবনের একটি ঘটনা -
হঠাৎ ব্রিলিয়ান্ট হবার সখ জাগলো আমার! যদিও আমি জানিনা ভালো ছাত্র হওয়াকেই ব্রিলিয়ান্ট বলে নাকি ভালো রেজাল্ট হলে তাকে ব্রিলিয়ান্ট বলে। কিভাবে নিজেকে ব্রিলিয়ান্ট হিসাবে আর দশটা মানুষের কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় তা জানার জন্য এবং সে মোতাবেক চলার জন্য গেলাম আকিবের রুমে ব্রিলিয়ান্ট হবার টিপস এন্ড ট্রিকস নেয়ার জন্য।
আকিব আর আমি চিটাগাং ইউনিভারসিটির ২য় বর্ষের ছাত্র। সেই স্কুল জীবন থেকেই বরাবর আমি আকিবের থেকে দশ হাত পিছনে। আকিব হত ফার্স্ট বয়, আর আমি হতাম লাস্ট! তার পরেও টেনে হিঁচড়ে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে কোনরকম পাশ করেছি ঠিকই কিন্তু দেশের কোন পাবলিক ভার্সিটিতে চাঞ্ছ পাবো তা সাধারন কোন স্বপ্ন তো দুরের কথা দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। নেহায়েত সখ মেটানোর জন্য আকিবের সাথে এসে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, কিন্তু এভাবে সুযোগ পেয়ে যাব তা কে জানতো! আমার অবশ্য ছোট বেলা থেকেই কম্পিউটার, আইটি, টেকনোলজি এগুলোর উপরে প্রচণ্ড পরিমানে ঝোঁক। সফটওয়্যার ধরার জন্য একবার একটা ল্যাপটপ অপারেশন করেছিলাম!! ফলে যা হয় তাই হল, ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে গেল কিন্তু সফটওয়্যার ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেল। সফটওয়্যার যে ধরা যায়না এটুকু বুঝতেই আমাকে ঢের বেগ পেতে হয়েছিল। তবে সফটওয়্যার ধরতে না পারলেও সফটওয়্যার সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান অর্জন করেছিলাম ঠিকই। যায়হোক, এরপর আমি আর আকিব এক সাথেই ভর্তি হলাম এবং ভার্সিটির একই হলে থাকতে শুরু করলাম। যদিও আমাদের রুম ছিল আলাদা।
রাত তখন তিনটা বাজে, আমি হুড়মুড় করে আকিবের রুমে প্রবেশ করলাম। দেখি ও তখনও টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে চোখে মোটা পাওয়ারের চশমা পরে বইয়ের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে উকুন খোঁজার মত করে পড়ছে। আমি ওর পাশের চেয়ারটা টেনে বসে পরলাম। কিন্তু আমার দিকে ওর কোন ভ্রূক্ষেপ দেখতে পেলাম না! আশ্চর্য ! এই যদি হয় ব্রিলিয়ান্টদের অবস্থা তবে দেখা যাবে ঘুমের মধ্যে ওদের কিডনি খুলে নিলেও টের পাবেনা! আমি ওর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম-
-”দোস্ত, আমি ব্রিলিয়ান্ট হতে চায়”
কথাটা শুনে আকিব আমার দিকে এমন ভাবে তাকাল যেন রাত ৩ টার সময় আমি ওর গার্ল ফ্রেন্ডকে ধার চেয়েছি!
-”সকাল হোক, দোকান থেকে এক প্যাকেট ‘ব্রিলিয়ান্ট’ কিনে তোকে খাইয়ে দেব!”
-”দোস্ত, আমি মশকরা করছি না”
-”তবে কি ইদানিং উল্টাপাল্টা খাওয়াও ধরেছিস?”
-”কেন ? এর সাথে উল্টাপাল্টা খাওয়ার সম্পর্ক কি?”
-”আছে! উল্টাপাল্টা খেলেই মানুষ হঠাৎ করে রাতদুপুরে আজগুবি জিনিস নিয়ে সিরিয়াস হয়ে যায়”
বুঝলাম এভাবে কথা বললে সেই কথা ওর কাছে ধোপেই টিকবে না! তাই এবার ওর হাত চেপে ধরে বললাম-
-”বিশ্বাস কর দোস্ত আমি ব্রিলিয়ান্ট হতে চাই, তোর মত ব্রিলিয়ান্ট!!”
আকিব হাই তুলতে তুলতে বলল -
-”ঠিক আছে, রুম ফাকা হলে, আমার রুমে এসে উঠিস”
আমি আনন্দে আহ্লাদিত হয়ে বললাম -
-”তাহলে কি তোর মত ব্রিলিয়ান্ট হতে পারব? যেভাবে চুম্বকের সংস্পর্শে লোহা চুম্বক হয়ে যায়!!”
চরম বিরক্তি নিয়ে কিছুটা মুখ ভেংচে আকিব বলল -
-”জী নাহ! আমার কাছে থাকতে হবে, আমি যা যা করি তা হুবহু পালন করতে হবে, আমার টোটাল লাইফ স্টাইল ফলো করতে হবে। যেমনঃ খাওয়া, ঘুম, ব্যায়াম, পড়াশুনা, সবকিছু। এক কথায় আমি যা যা করব এবং যেভাবে করব তোকেও তাই তাই ফলো করতে হবে।”
কেমন জানি একটু হাসি পেলো, এবং সেই হাসি কিছুতেই আটকাতে পারলাম না!! আকিব আমার দিকে হা করে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল -
-”এখানে হাসির কি হল??”
আমি কিছু না বলে উঠে দাঁড়ালাম এবং হেসেই চললাম! তারপর আমার রুমের দিকে পা বাড়াতেই ও আমার কলার চেপে ধরে রাগি রাগি কণ্ঠে বলল -
-”বল হাসছিস ক্যান? না বললে তোকে যেতে দেবনা”
হাসিটা বহু কষ্টে চেপে ধরে বললাম-
-”বললে তুই আমাকে মারবি !”
-”না মারব না, বল”
-”ঠিক আছে কলার ছার বলছি”
তারপর আকিব আমার কলার ছাড়তেই দরজার কাছে ছুটে গিয়ে বললাম-
-”দোস্তো, তুই কিভাবে হাগু করিস সেটা কিভাবে ফলো করবো? আর এছাড়া অন্যান্য বিষয় গুলো তো বাদই দিলাম...!!”
বলেই আমি এক দৌরে আমার রুমে চলে আসলাম, এবং পিছন থেকে শুনতে পেলাম আকিবের গালাগালি।
যায়হোক আজ দীর্ঘ দশ বছর পর পুরনো কথা গুলো মনেপরে মনের অজান্তেই হেসে উঠলাম। ক্লাসের সবচে গাধা হয়েও আমি কিন্তু আমার লক্ষে পৌঁছে গেছি। আজ আমি দেশের অনেক বড় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আমি বিশ্বাস করি প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই কিছু না কিছু গুন থাকে, যা আমরা সহজে ধরতে পারিনা। ক্লাসের ফার্স্ট বয় কেই কেবল আমরা ব্রিলিয়ান্ট খেতাব টা দিয়ে থাকি। অথচ ক্লাসের লাস্ট বয় হয়েও আমি প্রমাণ করেছি যে আমিও “ব্রিলিয়ান্ট”। আকিব ছিল সবার চোখে ব্রিলিয়ান্ট, এবং সে একজন নাম করা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছে ঠিকই কিন্তু কোন সমস্যা নিয়ে যেমন আমি যাচ্ছি ওর কাছে, তেমনি ওর প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ডেভেলপিং ও প্রোগ্রামিং এর জন্যও ওকে কিন্তু আসতে হচ্ছে আমার কাছে । তবে কি আমিও ব্রিলিয়ান্ট নই? প্রশ্ন থাকলো আপনাদের কাছে।
লেখক কলামঃ আমি বিশ্বাস করি আমরা প্রত্যেকে স্রষ্টার খুব গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি এবং পৃথিবীতে তিনি কাউকেই অযথা প্রেরণ করেননি। আমরা প্রত্যেকেই "ব্রিলিয়ান্ট"। একটু চেষ্টা করলেই হয়তো নিজের বিশেষত্ব টাকে খুজে পাবো। আমাদের সবচে বড় দোষ হল- আমরা সৃষ্টিকর্তা এবং নিজের উপর আত্মবিশ্বাস হাঁড়িয়ে ফেলি, এবং নিজেকে মূল্যায়ন না করে সমাজের তথাকথিত ব্রিলিয়ান্টদের পিছনে ঘুরে বৃথায় মূল্যবান সময় নষ্ট করি। তাই আমি বলব- আয়নার সামনে দাঁড়ান ও নিজেকে প্রশ্ন করুণ
“কে আপনি? কি আপনার লক্ষ্য? কিসে আপনার আনন্দ? আপনি কি হতে চান?”
আপনার প্রতিবিম্ব যদি আপনাকে রিকশা চালানোর কথাও বলে, তবে সংকোচ বা লজ্জা না করে ঝাপিয়ে পরুন রিকশা নিয়ে। কেননা, আমি বিশ্বাস করি- চেষ্টা, আত্মবিশ্বাস এবং আপনার পরিশ্রম আপনাকে ঠিক একদিন আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে এবং ১ টি রিকশা থেকে একদিন আপনি ১০০ টি রিকশার মালিক হবেন ইনশাআল্লাহ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:০৪
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×