এই ঈদে দুটি ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলাম।
এক.
বাড়ী যাওয়ার পথে মেঘনা নদী পাড়ী দিতে হয়। স্পিড বোটে উঠেছি। যাত্রী সংখ্যা এগার জন।
বাচ্চা একটা ছেলে মাঝ নদীতে ভাড়া তুলছে। ভাড়া পাঁচশত টাকা।আমি সহ ছয়জন একহাজার টাকার নোট দিয়েছে তিনটা (তিন জোড়া)।বাকী পাঁচজন পাঁচশত টাকার নোট দিয়েছে পাঁচটা।
ছেলেটা ভাড়া নিয়ে ড্রাইভারকে দিলে ড্রাইভার দেখে একটা পাঁচশত টাকার নোট একটু ছেঁড়া।
ড্রাইভার ছেলেটিকে বলল, এটা কে দিয়েছে? পরিবর্তন করে আন।
ছেলেটি একজনের কাছে গিয়ে বলল, ভাই এটা পরিবর্তন করে দেন।
লোকটি বলল, না এটা আমি দিইনি।শুরু হল বাদানুবাদ।কেউ দেয়নি।ছেলেটিও নিশ্চিত হতে পারেনি কে দিয়েছে।
যে পাঁচজন পাঁচশত টাকার নোট দিয়েছে তাদেরকে সহজেই সনাক্ত করা গেছে।
কিন্তু কেউ স্বীকার করল না, ছেঁড়া টাকার নোটটা কে দিয়েছে।
ড্রাইভার বলল, ভাই আমার বেতন ডেইলি তিনশত টাকা।পাঁচশত টাকাটা যদি না চলে তাহলেতো আমার পুরোটাই লস।
কেউ স্বীকার করল না।ড্রাইভার মাঝনদীতে বোট বন্ধ করে দিল।আমরা নৈতিকতা বিবর্জিত সাগরে ভাসতে লাগলাম।
দুই.
ঈদের দিন।নামাজ শেষে কোলাকুলি শেষে বসলাম।বাড়ীর দরজার মসজিদ হওয়াতে কাকা (মসজিদের সভাপতি) বলল, একটু বস। হিসাব নিকাশটা একটু দেখে যা। বসলাম।
একটা লোক একশত টাকার নোট দিয়েছে। পঞ্চাশ টাকা ফেরত পাবে।লোকটি আমার পাশে বসল।
মোয়াজ্জেম সাহেব ভাংতি কিছু টাকা তাকে দিল।লোকটি তা বসে গুনে পকেটে রাখল।তার পর উঠে হাঁটা শুরু করল।
পেছন থেকে মোয়াজ্জেম সাহেব তাকে ডেকে বলল, কি মিয়া টাকা ঠিক আছে নি, ওখানে কত আছে? আপনাকে দিয়েছি টাকা গুনে দেখার জন্য।
এ কথায় লোকটি থতমত খেল। সামলে নিয়ে বলল, না আমি তো গুনি দেখিনি। আচ্ছা দেখি।
লোকটি আবার বসে পকেট থেকে টাকা বের করে আস্তে আস্তে গুনল। দেখল মোট সত্তর টাকা।
মোয়াজ্জেমকে বিশটাকা ফেরত দিল।
বি.দ্র. : সততা ও নৈতিকতা কখনো ৫০০ টাকায় আবার কখনো কখনো ২০ টাকায়ও বিক্রি হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০১৮ বিকাল ৫:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




