somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নয়ন বিন বাহার
তোমাদের এ শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি। দূরে! বহু দূরে! ঈগল চোখের আড়াল খুঁজে নিচ্ছি- যেখানে সমস্ত পাপী স্বীকারোক্তি দেয় তাদের আকন্ঠ পাপের। অন্তত তারা সত্যের আড়ালে পাপ করে না; পাপ নিয়ে করে না কোন মিথ্যাচার!

বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে?

১১ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাষ্ট্র একটি যন্ত্র।
এই যন্ত্রের সবচেয়ে বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল জনগন।
যে কোন যন্ত্রের ক্ষুদ্রতম একটি অংশ যদি বিগড়ে যায় তাহলে পুরো যন্ত্রটাই বিকল। সে ক্ষেত্রে একটি বৃহৎ অংশের প্রভাব কতটুকু?

আসি জনগনের কথায়।
তাহলে বৃহৎ এই শক্তির প্রভাব কেন রাষ্ট্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাবিত হচ্ছে না ?

সবাই অভিযোগ করে দেশে আইন নেই। আইন থাকলেও কেউ আইন মানে না। ধনাঢ্য এবং ক্ষমতাশীনদের কাছে আইন বিক্রি হয়ে যায়।
এটার কারন আছে।

কোন একজন অন্যায়কারীকে আমরা সরাসরি বাঁধা দিই না। এর কারন কি? এর কারন দু’টো ঃ

এক ঃ উল্টো আক্রমনের ভয়।
দুই ঃ নিজেই অনেক সময় অন্যায়ের আশ্রয় নিই। তাই এ্যথিকেলি দুর্বল।

উল্টো আক্রমনের ভয় কিরকম?
আমাদের পাড়ার রাস্তাটা সংস্কার হচ্ছে। শুধু ছয় ইঞ্চি তুলে তা আবার ঢলে দিয়ে উপরে কার্পেট দিয়ে দিল। সবাই বলাবলি করছে। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস করল না। একজন আনোয়ার ভাই (লোকাল দোকানদার) প্রতিবাদ করল। ওনাকে রাস্তার উপর ধরে মারল। কেউ প্রতিবাদ করল না।

আমার এক পরিচিত লোকের ছেলে দক্ষিন কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়। উনি একবার ওখানে বেড়াতে যান। এসে এক আজব অভিজ্ঞতা(ওনার ভাষায়) আমাদের সাথে শেয়ার করেন।
'কলা খেয়ে কলার খোসা ফেললাম রাস্তার পাশে একটা গাছের গোড়ায়। সচরাচর আমরা দেশে যেভাবে করি। কিন্তু কি লজ্জায় আমি পড়লাম তা ভাষায় প্রকাশিত হবার নয়। একটি মেয়ে এসে আমাকে বলল, এই অন্যায় কেন করলেন? আমি বুঝে উঠতে পারিনি অন্যায়টা কি করলাম। সে আমাকে বুঝিয়ে দিল, এভাবে খোসা যেখানে সেখানে ফেলা ঠিক নয়। এটা অন্যায়। আমাকে দিয়ে ওটা আবার কুড়িয়ে নিল। যদিও আমি অপমানিত হলাম তবে একটা শিক্ষা নিলাম।'

বললাম, দাদা, মেয়েটি কি পুলিশ ছিল?
'আরে নাহ! কোন পুলিশ দেখিনি। ওখানে নাগরিকরাই পুলিশের ভূমিকা রাখে।'

গল্প শেষে বাদাম কিনে হাঁটতে হাঁটতে খেতে শুরু করলাম। দাদা বাদামের খোসা খোদ রাস্তার মাঝখানেই ছড়ানো শুরু করল। বললাম, দাদা, কোরিয়া থেকে কি শিখে এলেন? আর এখন কি করছেন?

দাদা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললেন, ওখানে সবাই নিয়ম মানে, তাই অনিয়ম করা সম্ভব নয়। আমাদের দেশে তো সবাই অনিয়ম করে, তাই নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয় না।

এখন প্রশ্ন হল, সবাই নিয়ম মানবে কখন?

সবাই কি নিয়ম মানবে? নাকি নিয়ম মানাতে হবে?

যদি নিজেকে শিক্ষিত বলে পরিচয় দিই তাহলে আমাকে নিয়ম মানাতে হবে কেন?
যদি নিয়ম মানাতেই হয় তবে এ দায়িত্ব কার? রাজনীতিবিদদের না কি পুলিশের?

রাজনীতি নিয়েও রাষ্ট্রযন্ত্রের সুবৃহৎ অংশের এলার্জি কম নয়।

আমরা খারাপ রাজনীতিবিদদেরকে ভোট দিব। আবার তাদের থেকে সুফল আশা করব। সুফল না পেলে তাদেরকে গালাগালি করব।
কিন্তু ভালমানুষ রাজনীতি করুক তা চাইব না।

তাহলে কি দাঁড়াল? এ দায় কার?
এটা কি প্রজম্মের ব্যর্থতা নয়?

এখানে কেউ বলে, 'ভোট দিতে পারেন?'

পাঠক আমার সাথে আশা করি একমত হবেন।

ভোট দেয়ার জন্য ভোটারের যে যোগ্যতা লাগে তা বাংলাদেশের ৭০ ভাগ মানুষের নেই। এরা হয়তো বিএনপিকে অথবা আওয়ামীলীগকে ভোট দেয়। নতুবা যার পকেট ভর্তি টাকা আছে তার কাছে ৫০/৫০০ টাকায় পাঁচ বছরের অধিকার বিক্রি করে দেয়।

চারপাশে তাকালে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

প্রকারান্তরে আমাদের মস্তিষ্ক একজন শাষক চায় না। চায় একজন গুন্ডা। কারও মাথায় ডান্ডার বাড়ি মারতে গুন্ডার জুড়ি নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×