somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ভয়ঙ্কর গল্প

১০ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ৮:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি নির্জন গ্রামে বাস করত কিশোরী মেয়েটি, নাম তার রূপা। রূপার পরিবার ছিল দরিদ্র, তাদের একমাত্র সম্পদ ছিল পুরোনো একটি বাড়ি। গ্রামটি ছিল রহস্যে মোড়ানো, সেখানে অনেক ধরনের গুজব শোনা যেত। লোকেরা বলত, এই গ্রামে রাতে ভূত প্রেতের আনাগোনা ঘটে। রূপা এসব বিশ্বাস করত না, তবে মাঝে মাঝে তারও মনে হতো, গ্রামের কিছু একটা ঠিক নেই।

এক রাতে, রূপা তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। সে গ্রামের পাশের জঙ্গলের দিকে হাঁটতে থাকে। জঙ্গলটি ছিল গ্রামের সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা। রাতে সেখানে কেউ যেত না, কারণ লোকেরা বলত, জঙ্গলে নাকি অশুভ শক্তির বাস। কিন্তু রূপার মাথা এতই গরম ছিল যে সে এসব কিছুই ভাবল না। সে হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলের গভীরে চলে যায়।

হঠাৎ করেই রূপা একটা অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পায়। আওয়াজটা এতই ভয়ংকর ছিল যে তার সমস্ত শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। সে পিছনে তাকিয়ে দেখে, একটা বড়সড় কালো ছায়া তার দিকে আসছে। রূপা দৌড়াতে শুরু করে, কিন্তু ছায়াটা এতই দ্রুত ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটা তাকে ধরে ফেলে। রূপা চিৎকার করতে চায়, কিন্তু কোনো শব্দ বের হয় না। সে শুধু চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করতে থাকে।

কিছুক্ষণ পর যখন সে চোখ খোলে, দেখে সে এক অদ্ভুত স্থানে আছে। চারিদিকে কালো কুয়াশায় ঢেকে আছে, আর মাঝখানে একটা পুরোনো বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা বয়স্ক মহিলা, যার চেহারাটা অদ্ভুতভাবে ভীতিকর। মহিলাটি রূপার দিকে তাকিয়ে হেসে বলে, "তুমি চলে এসেছ, বাছা। আমি জানতাম তুমি আসবে।"

রূপা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, "তুমি কে?"

মহিলাটি উত্তর দেয়, "আমি এই বাড়ির রক্ষক। এই বাড়িতে প্রবেশ করা মানে এখানেই থেকে যাওয়া। তুমি আর কখনও ফিরে যেতে পারবে না।"

রূপা ভয় পেয়ে বলে, "আমি এখানে আসতে চাইনি। আমাকে ছেড়ে দাও।"

মহিলাটি হেসে বলে, "এখন আর সম্ভব নয়। তুমি এখানে এসে গেছ, আর এখানেই থাকতে হবে।"

রূপা বুঝতে পারে, সে এক ভয়ংকর ফাঁদে পড়েছে। সে বাড়িটার ভেতরে ঢুকে যায় আর দেখতে পায়, ভেতরে অনেক মৃতদেহ পড়ে আছে। প্রত্যেকটি দেহের চোখ খোলা, মুখে একটা ভয়ের ছাপ। রূপা আর দাঁড়াতে পারে না, সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

যখন তার জ্ঞান ফিরে আসে, সে দেখতে পায় মহিলাটি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মহিলাটি বলে, "তুমি আমার নতুন অতিথি। এখন থেকে তুমি এই বাড়ির রক্ষক হবে।"

রূপা চিৎকার করে উঠে বলে, "না! আমি এখানে থাকতে চাই না। আমাকে ছেড়ে দাও!"

মহিলাটি হাসতে হাসতে বলে, "তোমার চাওয়া না চাওয়াতে কিছু আসে যায় না। তুমি এখানেই থাকবে।"

এরপর থেকে রূপা আর কখনও ফিরে আসেনি। লোকেরা বলে, জঙ্গলে এখনো সেই বাড়িটা আছে। রাতে যদি কেউ সেই বাড়ির কাছে যায়, তাহলে সে আর কখনও ফিরে আসে না। রূপার মতো আরও অনেকেই সেই বাড়ির রক্ষক হয়ে গেছে। এখনো মাঝে মাঝে রূপার চিৎকার শোনা যায়, যা রাতের নির্জনতার মধ্যে ভয় ধরিয়ে দেয় গ্রামের মানুষের মনে।

তাই, গ্রামের সবাই বলে, "কখনও জঙ্গলের পথে যেও না, বিশেষ করে রাতে। কারণ সেখানে অপেক্ষা করছে অশুভ শক্তি, যা তোমাকে কখনও ছাড়বে না।"
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ৮:৩২
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত ১১০ জনকে জীবিত ফিরিয়ে আনুন

লিখেছেন চাঙ্কু, ২১ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৪:০৬



খুব সিম্পল একটা সামাজিক আন্দোলন - কোটা সিস্টেম সংস্কার করে একটা ফেয়ার কোটা সিস্টেম রাখা। আহামরি অন্য কোন দাবীও নাই যা সরকারের পক্ষে রাখা সম্ভব না। শিক্ষামন্ত্রী বা সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদালতের রায়ে কি সমাধান আসবে? কি হতে পারে বর্তমান অবস্থায়:

লিখেছেন সরলপাঠ, ২১ শে জুলাই, ২০২৪ সকাল ১১:৪৯

কোটা সংস্কার নিয়ে আজকের অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ মূলত সরকারের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। গত কয়েকদিনে ২০০ এর অধিক মানুষকে হত্যার জন্যে সরকারই দায়ী। বর্তমান অবস্থায় সরকারের জন্যে সহজ কোন পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কোমলমতি "কোটা পরিবর্তনের" আন্দোলন করেনি!

লিখেছেন সোনাগাজী, ২১ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৪:৩৬



**** কোর্ট কোমলমতি ফেইসবুকারদের "মোয়া" ধরায়ে দিয়েছে: কোটার ৯৩% নয়, ১৯৩% চাকুরীও যদি কোমলমতিদের দেয়া হয়, তারপরও ৪০ লাখ শিক্ষিত বেকার থাকবে; কারণ, কোটার শতকরা হার বাড়োনো হয়েছে কোমলমতিদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে ইন্টারনেট আসার আগে, এই পোষ্টটা সরিয়ে নেবো। (সাময়িক )

লিখেছেন সোনাগাজী, ২১ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:০৯



ভোলার মানুষজনের ১টা শান্ত্বনা আছে, উনারা সামান্য পয়সা দিয়েও মাঝে মাঝে ইলিশ পেয়ে থাকেন; অনেকে বিনা পয়সায়ও পেয়ে থাকেন মাঝে মাঝে; ইহা ব্যতিত অন্য কিছু তেমন নেই; ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×