somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অটিস্টিক প্রেম

২৯ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছেলেটার সাথে মেয়েটির ফেসবুকে চ্যাট হয়। মেয়েটার দুর্বলতা আছে ছেলেটির প্রতি। অবশ্য সে তাকে তা বুঝতে দেয় না।পছন্দ হওয়ার মত অনেক গুন আছে তার। বেতিক্রমী একটা ছেলে। খুব সুন্দর ছবি আকে। তার কয়েকটি প্রোট্রেইটও করে পিকচার মেসেজে দিয়েছে সে। ছেলেটি অন্যান্যদের মত নয়। আলাদা ইউনিক কোয়ালিটি আছে। এলিয়েনদের মত যেন। মজার মজার অদ্ভুত সব লজিকের কথা বলে। মুগ্ধ হয়ে যায় মেয়েটি। মেয়েটা সাধারনত কারো মেসেজ রিপ্লাই দেয় না। কত লুল ছেলে ইনবক্সে ফ্লারটিং করে। তাদের পাত্তা দেয়না সে। কিন্তু এই ছেলেকে সে সময় দেয়। রহস্যময় একটা ছেলে। তাকে সে বোঝার চেষ্টা করে। মেয়েটির মতে অনেক ধৈর্য আছে ছেলেটির। এত রাগানোর চেষ্টা করে, অপমান করে, এটিটিউড দেখায়, হেয়ালি করে সে ছেলেটির সাথে, কিন্তু ছেলেটা একটুও রাগে না। এত্ত কিউট!

ছেলেটা মেয়েটাকে একটুও সহ্য করতে পারে না। সুন্দরী মেয়ে। কিন্তু এত দেমাগ কেন মেয়েটার? ঢং করে সেলফি তোলে। বাবার আদরের বখে যাওয়া মেয়ে। ওভার স্মার্ট। ফেসবুকে ঢংগি সব পোষ্ট লেখে, দেখলে পিত্তি জ্বলে যায় ছেলেটির। তবুও লাইক দেয় সে। নিজের উপর তার রাগ হয় কেন সে দুর্বল মেয়েটির প্রতি? এটা কি প্রেম? নাকি হিংসা? কে জানে, বুঝতে পারে না সে। তার মনে জিঘাংসা জাগে। শিক্ষা দেবে মেয়েটাকে, প্রেমের ফাদে ফেলে হলেও। সব সুন্দরী মেয়েদের প্রতি তার এলার্জি আছে। তার মতে সব ঢংগি মেয়েগুলোকে এক লাইনে দাড় করিয়ে জুতা দিয়ে থাবড়ানো দরকার, সেই সাথে তাদের বাপদের যারা আদর দিয়ে মেয়েকে মাথায় তুলেছে তাদের পাছায়ও লাইন ধরে বাড়ি দিতে পারলে মন্দ হতো না।

ছেলেটা জানে কিভাবে মেয়েদের পটাতে হয়। মেয়েটার হেয়ালি কথাবার্তায় রাগে মাথায় আগুন ধরে গেলেও সে দাতে দাত চেপে সহ্য করে। উত্তরে সে আরও প্রেমময় কথা লেখে। পরে সে তার ওপেন করা অনেকগুলো ফেইক একাউন্টের একটি থেকে মেয়েটাকে ভয়ানক অশ্লিল সব গালাগাল দেয়।মেয়েটার স্ট্যাটাস দেখে উচিত যে কথাগুলো মনে এসেছিল তা মনের ঝাল মিটিয়ে কমেন্ট করে। মেয়েটা ব্লক করে দিলে সে আরও একাউন্ট খোলে। সেখান থেকে চলে গালাগালি। মেয়েটা জানতেও পারে না যে সে হচ্ছে তার প্রিয় সেই ছেলেটির মুদ্রার উল্টোপিঠ যাকে সে মন দিয়ে রেখেছে।

ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। চ্যাটের মাধ্যমে এক সময় ফোন নাম্বার আদান প্রদান হয়। দেখাও করে দুজন। ছেলেটা এখন মেয়েটার বাসার ঠিকানা জানে। গভীর রাত অবধি দুজন ফোনে কথা বলে। তবে ছেলেটার কথায় মধু মাখানো থাকলেও মেয়েটা ঠিক আগের মতই এটিটিউড নিয়ে কথা বলে। কিন্তু সে ফোনের অপর প্রান্তের ছেলেটির প্রচন্ড অক্রোশে দাতের কিড়মিড় শুনতে পায় না। সে দেখতে পায়না মিষ্টভাষী ছেলেটির মুখ রাগে বিকৃত হয়ে উঠছে। দিন দিন সাইকো হয়ে উঠছে ছেলেটা।

ছেলেটা বলেছিল মেয়েটাকে সে যেন জানালার পাশে বসে তার সাথে কথা বলে, চাদের জোছনা গায়ে মাখলে নাকি ত্বক লাবন্যময় হয়। মন পবিত্র হয়। ছেলেটার কথা বেদবাক্য ভেবে নিয়ে মেয়েটি তাদের দোতলার বাসায় জানালার পাশে খাট নিয়ে এসেছে। সে গভির রাত পর্যন্ত জানালার পাশে বিছানায় বসে চাদের দিকে তাকিয়ে ফোনে কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ে।
মেয়েটার জানে না ছেলেটা গুড নাইট দিয়ে ফোন রাখার পর তার ঠোটের কোনে পৈশাচিক হাসি ফুটে ওঠে। এতক্ষন ফোনে কথাবার্তায় যে রাগগুলো হজম করেছে, সময় হয়েছে তা উগরে দেওয়ার। প্রতিশোধ না নিলে রাতে ঘুম হবে না তার। যেহেতু সে এখন মেয়েটির বাসার ঠিকানা জানে তাই আর ফেইক আইডি থেকে গালাগাল দিয়ে ক্ষান্ত হয় না। সে তার গোপন সিন্দুক বের করে। মুখে কালি দিয়ে ডোরা কাটে। তার ছোটবেলার প্রিয় ব্যাটম্যানের মুখোশটা পরে নেয়। কালো পোশাক পরে বেরিয়ে পড়ে রাতের অন্ধকারে।

প্রতিদিন ফোনে কথা বলে জানালার পাশে ঘুমানোর পর সকাল বেলা মেয়েটি ঘুম থেকে জেগে আয়নার সামনে গিয়ে দেখে তার মুখে কে যেন কালি মেখে দিয়েছে।
একদিন ঘুম থেকে উঠে সে দেখে তার দুই গালে লম্বা আচড়ের দাগ।কিছুই বুঝতে পারে না সে। ভয় পেয়ে যায়। একদিন কে যেন জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে তার পিঠে দুম দুম করে কিল দিয়ে পালিয়ে যায়। জানালা দিয়ে তাকিয়ে মেয়েটা শুধু দেখতে পায় পাইপ বেয়ে বাদুড়ের মত কালো এক ছায়ামুর্তি তরতর করে নেমে গিয়ে দ্রুত অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।

কে এই ব্যাটম্যান?

বাচ্চাটা ছিল ভীষন চাপা স্বভাবের। রহস্যময়। অভিমানী। কথা খুব কম বলে। বকা দিলে প্রতিবাদ করেনা, মুখ ফুলিয়ে মাথা নিচু করে থাকে। কিন্তু বকা দেওয়ার পরদিন ঘরের কোনো এক প্রয়োজনিয় জিনিস ভাঙ্গা অবস্থায় পাওয়া যায়। কে নষ্ট করল জিনিসটা তার কোনো হদিস পাওয়া যায়না।
হয়ত তার বাবা তাকে একদিন চোখ রাঙিয়ে শাসিয়েছিল। বাচ্চাটা চুপচাপ গম্ভীর মুখে মাথা নিচু করে থেকেছে। পরে সে একদিন তার বাবাকে দুই গ্লাস পানি এনে খাইয়েছিল। বাবা জানতেই পারল না যে সে তাকে কমোডের ভেতর থেকে পানি এনে খাইয়েছে।
হয়ত ছেলেটির বড় বোন তাকে একদিন বকা দিল। পরদিন সকালে উঠে সে আবিষ্কার করল রাতের অন্ধকারে কে যেন তার সামনের দিকের এক গোছা চুল কাচি দিয়ে কেটে নিয়েছে।
এই বাচ্চাটাই বড় হয়ে হয়েছিল সেই ব্যাটম্যান।

ছেলেটার এখন মানিসিক হাসপাতালে সাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং চলছে। মেয়েটা মাঝে মাঝে দেখতে আসে ছেলেটাকে। ছেলেটা উদগ্রিব হয়ে জিগাসা করে মেয়েটিকে কবে ছাড়া পাবে। বলে সে এখন আমি সত্যিই ভালো হয়ে গেছি, আমাকে তাড়াতাড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে যাও। মেয়েটা তাকে আশ্বাস দেয়, এই আর মাত্র কয়েক দিন। কিন্তু ছেলেটা জানে না সে এখনও ঘুমের মধ্যে রাগে দাত কিড়মিড় করে, স্লিপ ওয়াকিং করে জিনিসপত্র ভাংচুর করে। ছেলেটা মেয়ের হাত ধরে বলে
-আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না তো তুমি কোনোদিন?
--কক্ষনো না। তোমার অপেক্ষায় বসে আছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৪:৫০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×