somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বগা লেক-কেওক্রাডং থেকে ফেরার পর (২)

০২ রা এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
প্রথম পর্ব



(প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কারণ প্রথম পর্বের অনেক দিন পর দ্বিতীয় পর্ব লিখছি! এতদিন এমবিএ ফাইনাল চলছিল বলে লিখতে পারি নাই)

তো কি আর করা ! আজকের রাতটা তাহলে রুমা বাজারেই কাটাতে হবে! এবার তাহলে বাসস্থান ম্যানেজের পালা। রুমা বাজারের যে কয়টা হোটেল আছে তার সবগুলোই চষে ফেললাম, কিন্তু আমাদের থাকার মত কোন রুম পেলাম না। এদিকে বিকেল হয়ে যাচ্ছে। একটা কিছু তো করতেই হবে ! শেষমেশ খুঁজে পেলাম সরকারি রেস্টহাউজ। অনেক আশায় বুক বেঁধে গেলাম সেখানে, যদি কোন ব্যবস্থা হয় ! ওখানকার কেয়ারটেকারকে আমাদের অবস্থা বুঝিয়ে বললাম। কিন্তু উনি জানালেন যে এটা শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ। আমরা তাকে কথার মারপ্যাঁচে বুঝালাম, দেখেন আমরাও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছেলেমেয়ে, আর তাছাড়া আমরাই তো কদিন বাদে সরকারি কর্মকর্তা হব ! এভাবে অনেক সাত-পাঁচ বুঝ দিয়ে আমরা একাবারে ভিআইপি রুমটাই ম্যানেজ করে ফেললাম ! কিন্তু বিকেলের এই সময়টা কি করা যায়? আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম রিজুক ঝর্ণা দেখতে যাব। যদিও রিজুক বেশ দূরে, নৌকায় যেতে হয় তাও আমরা ডিসিশন নিলাম, যাব। ১৩০০ টাকায় রফা করে দুটো নৌকা নিয়ে আমরা সাঙ্গুর বুকে নেমে পরলাম।



রওনা দিতেই আমাদের বিকেল গড়িয়ে গেল। যেতে যেতে হারিয়ে গেলাম সাঙ্গুর দুধারের অপরুপ সৌন্দর্য্যে। আহ ! প্রকৃতি এতটা সুন্দর হতে পারে ! মাঝ পথেই সূর্‌্য্য হেলে পরল, আর ঠান্ডা লাগতে শুরু করল। এদিকে আমরা সব পরে আছি হাফপ্যান্ট ! কি যে একটা অবস্থা ! যা হোক প্রায় দুঘন্টা পর আমরা রিজুকে পৌছলাম (এখানে একটা কথা বলে রাখি, এখানকার মানুষের সময়জ্ঞান মাসাল্লাহ খুব ভাল ! তাদের ১০ মিনিট মানে আমাদের ১ ঘন্টা !)। কিন্তু ততোক্ষনে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আর সে কি যে থান্ডা বাতাস ! আমাদের প্লান ছিল রিজুকে গিয়ে গোসল করব, কিন্তু ঠান্ডা দেখে আর গোসল ! জান নিয়ে ফিরতে পারলেই বাঁচি ! অবশ্য এর পরেও আমাদের দুঃসাহসী তিন অভিযাত্রী টপাটপ গোসল করে ফেললেন (একজনের জ্বরও এসেছিল) ! কিন্তু রিজুক ঝর্ণাটা এক কথায় অসাধারণ ! অনেক উপর থেকে এখানে পানি পরে আর বেশ বড়সড় বিস্তৃতিও আছে। কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় বেশি মজা করতে পারিনি।

রিজুক ছেড়ে আসতে আসতে অন্ধকার হয়ে গেল, রাতের নদী, চাড়িদিকে অন্ধকার, শুনশান নীরবতা। গা ছমছম অনুভূতির সাথে ভীষন মজাও পেলাম। খুব থান্ডা লাগছিল, তাই আমরা সবাই নৌকার ভেতরে বসে চুটিয়ে আড্ডা দিলাম। এর মাঝে আবার মাঝি ভাই পথ হারিয়ে ফেললেন! বোঝেন অবস্থা ! চারিদিকে ঘুটঘুট্টে অন্ধকার, কিন্তু আকাশ ভরা তারার মেলা ! উফ ! সে কি যে এক মহাজাগতিক অনুভূতি! তা লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব ! আকাশের বেশ কয়টি ছায়াপথ সেদিন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। সপ্তর্ষীমন্ডল, কালপুরুষ সবই সেদিন পরিষ্কার দেখতে পেলাম। আমরা যখন রুমা বাজার ঘাটে পৌছলাম, তখন রাত সাড়ে আটটা পেরিয়ে গেছে। অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা হল। সেদিন যদি বগা লেক চলে যেতাম তাহলে তো আর এ মজাটা পেতাম না ! যা হোক, রাতের খাবার খেয়ে আবার গেলাম চান্দের গাড়ি ঠিক করতে, কাল সকালে আবার ছুটতে হবে বগা লেকের উদ্দেশ্যে। অনেক মুলামুলি শেষে গাড়ি ঠিক করার পর রুমে ফিরে বাকি রাতটা মজা করেই কাটিয়ে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাতছানি

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২২

বাঁশবনের উপরে গোধূলীর আকাশে
কি'যে অপরুপ লাগে একফালি চাঁদ,
কাশবনের দুধারে মৃদুমন্দ বাতাসে
ঢেউ খেলে যায় সেথা জোৎস্নার ফাঁদ-
আহা..., কী অপরুপ সেই 'বাঁশফালি চাঁদ' ।

পাখিদের নীড়ে ফেরা কল-কাকলীতে
শিউলী-কামিনী যেথা ছড়ায় সুবাস,
আজানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মগজহীন গোল্ডফিশ মেমোরি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১:০১



বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা অভিধান যারা পড়েছেন তাদের জানার কথা “মগজহীন” শব্দ নতুন কোনো শব্দ না। “মগজহীন” শব্দটি বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা অভিধানে কখন কোন সালে নথিভুক্ত হয়েছে? -... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুশদেশের চিরায়ত শিশুসাহিত্য

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ৩:১৭


ঊনবিংশ শতাব্দীর মহান লেখক চেখভ , তুর্গেনেভ , দস্তয়েভ্‌স্কি , তলস্তয়ের নাম বিশ্ববাসীর কাছে সুপরিচিত। এই লেখকেরা - রাশিয়ার জাতীয় গৌরব । ঊনবিংশ শতাব্দীর রুশ লেখকদের মধ্যে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×