রণক সপ্তাহে তিনদিন এই ছেলেটাকে পড়াতে আসে, সরকারী মেডিকেলের স্টুডেন্ট হয়েও মাত্র পাঁচ হাজার টাকার এই টিউশনিটা করে, এমন না যে টাকার জন্যে রণক এই টিউশনিটা করে, এই সময়ে অন্য টিউশনি করালে রণক চাইলেই আট হাজার টাকা দাবি করতে পারে, কিন্তু রণক শুধু এই জন্যে টিউশনিটা করে যেন এক দিন পরপর হলেও অর্ষাকে দেখতে পারে, অর্ষা স্টুডেন্টের বড় বোন, এবার ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হল মাত্র, মেয়েটাকে তার ভালো লাগে, আর এভাবে যে কখন রণক অর্ষাকে মনের গভীরে আপন করে নিয়েছে রণক নিজেও জানেনা, অর্ষাও বুঝতে পারে, তার ভাইয়ের টিউটর তাকে পছন্দ করে, এক এলাকায় বড় হলেও রণক কখন বলতে পারেনি এই ভালোবাসার কথা, অর্ষাও কখন সেভাবে কিছু বুঝাতে চায়নি, রণককে ওর ও ভালো লাগে, প্রায়্ই অর্ষা ড্রয়িং-এ গুন-গুন করে গান গায়, রণক প্রতিদিন এই গুন-গুন খেয়াল করার চেষ্টা করে, কখনো মনে করতে পারেনা গানটা কী, রণক শুধু অর্ষাকে দেখার জন্যেই পড়াতে যায়, কিন্তু ইদানীং দেখাও যায়না,শুধু ঐ গুন-গুন ছাড়া।
কিন্তু কিন্তু করে অনেকদিন পার হয়, সামনে ছেলেটা ইন্টার পরীক্ষা দিবে, এরপর আর পড়বে কিনা ছেলেটা রণক জানেনা, প্রায় জিজ্ঞাসা করে, ছেলেটা বলে, ভাইয়া আগে গোল্ডেন পাই, রণক আর কিছু বলতে পারেনা, অর্ষাকে কী আর দেখা হবেনা, জানেনা রণক কিছু জানতেও চায়না, সেদিন হটাত করেই ছেলেটা মা মিষ্টি এনে দিয়ে বলে, বাবা আজকে অর্ষাকে দেখতে এসেছিলো, এঙ্গেজমেন্ট করিয়ে গেল ঐ ছেলেটা অর বাবার কলিগের ছেলে, নর্থ-সাউথ থেকে বি,বি,এ করে এখন অস্ট্রেলিয়ায় জব করে, ছুটিতে এসেছিলো সামনের মাসেই চলে যাবে, এই কম সময়ে আবার বিয়ের আয়োজন.......................
রণক আর শুনতে পারেনা, তার কান ঝা-ঝা করতে থাকে, এ কী হল??
যাবার সময় শুধু ডাইনিং এ দাঁড়িয়ে ছেলেটাকে বলে যায়, এক্সামের খুব চাপ চলছে, আর পড়াতে আসবো কিনা জানিনা..... ভালো থেকো আর আপুকে কনগ্রাটস জানিয়ো!
রণক কখনো সিগারেট খায়না, বন্ধু বান্ধব কম জোর করেনি, কিন্তু তার ভালো লাগেনা, সিগারেটের তিতা স্বাদ, সেদিন হটাত করেই সিগারেটের তৃষ্ণা যেনো, কিসে যেনো হাহাকার। কী যেনো থেকেও নেই, আজ আর সিগারেট তিতা লাগেনা, আজ সিগারেটের গরল যেনো অমৃতসম হয়ে ওঠে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




