তারপরেও বাস চালকরা অচেতন; কোনো শিক্ষা হয়না তাদের। কেউ বাসের তলায় চাপা পড়ে মারা গেলে; খবর হয়- এরপর শুধু চালকের লাইসেন্স পেতে খরচাটা বাড়ে; এই যা। আর তাই তারা ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করে। পারও পেয়ে যায় ইচ্ছে মত।
বছরের পর বছর ধরে দেখছি বাস চালকরা মানুষ খুন করছে; খুবই কষ্টকর। তবুও এটি নিয়ন্ত্রণের বদলে বাড়ছে। সর্বশেষ হত্যার শিকার হলেন জগলু ভাই। সিনিয়র সম্বাদিক। তার সাথে আমার সখ্যতা ছিরনা; তবে বেশ ক'বার দেখা ও কথা হয়েছে। এক কথায়- অসাধারণ একজন মানুষ। লিখতেনও দুর্দান্ত-বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি নিয়ে।
এই নগরে আমাদের অনেক প্রিয় মানুষই বাসের তলায়, দু'বাসের মাঝখানে, হেল্পারের ধাক্কায় চাক্কা নিচে পড়ে কিম্বা বাস থেকে নামার আগেই চালকের সার্জেন্ট আতঙ্কে ছুট দেয়ায় গুরুতর আহত এবং পরে নিহত হয়েছেন।
কিন্তু বিচার হয় না। ভুয়া লাইসেন্স দেয়া বন্ধ হয় না। সার্জেন্ট আতঙ্কও কাটে না। আজ সকালে নিউ ভিশনে যাচ্ছি প্রেসক্লাব। সার্জেন্ট আতঙ্কে
'কবে এরা জানবে হাজার টাকার চেয়ে একটা জীবনের মূল্য কত বেশি'
এক যাত্রিকে মাঝরাস্তায় এনে নামাতে চাইলো চালক। দু দিকে বাসে বাসে লেগে আছে; এর মধ্যে যাত্রিকে নামতে বাধ্য করতে চায় চালক। যাত্রীর নামার কথা ছিল বাংলামোটর। কিন্তু তাকে বিটিসিএল'র সামনে নামাতে চাইলো চালক। অনেক দূর এনে নামানোর চেষ্টা করে উল্টো বকা দিচ্ছে। কিন্তু হাতে শিশু নিয়ে তার নামাটা কঠিন ছিল। যাত্রিদের প্রতিবাদেও থেমে নেই চালক; বলছে সার্জেন্ট ধরলে হাজার টাকা যাবে।
কবে ওরা জানবে হাজার টাকার চেয়ে একটা জীবনের মূল্য কত বেশি। কবে ওরা জানবে একজন মানুষের মৃত্যু একটি পরিবারকে কতটা বিপদে ফেলে।
জগলু ভাইদের জন্য শোকাহত আমরা। কারো ব্যাজ ধারণ করছি। কিন্তু এ রকম জগলু ভাইদের মত কয়েক ডজন সম্বাদিক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক মারা গেছেল তিন নম্বর, আট নম্বর, সাত নম্বর, বিহঙ্গ, তরঙ্গ, বিআরটিসি, বন্ধন কিম্বা আরো কত নামের যান নামের যমের চাকায়। তার হিসাব কি আমরা রাখি। সেখান থেকে কি শিক্ষা নেই। নিই না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


