somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনগন যা খায়, রাধুনীর তাই রান্না করা উচিৎ! নাকি অন্য কিছু?

১০ ই মার্চ, ২০২৩ দুপুর ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভার্সিটি ভর্তির আগে আগে একটা মেয়ের সাথে আমার প্রেম প্রেম ভাব ছিলো। লোপা, ভালো নামটা মনে নেই। প্রেম প্রেম ভাব বলছি এজন্য যে তার বাবা-মা পর্যন্ত জানতো সে আমাকে ভালোবাসে, আর সে পালিয়ে গিয়েছিলো আমার ভাইয়ের ভার্সিটিতে পড়া এক ছেলের সাথে!



লোপার সাথে আমার প্রায়ই মান-অভিমান হতো। এই মান-অভিমান আমাকে মাঝে মধ্যে কল্পনা করতে বাধ্য করতো যে সে আমাকে ভালোবাসে। কিন্তু তার সৌন্দর্য্য আমাকে সব সময় এটা মানতে বাধ্য করতো যে, উই আর যাষ্ট ফ্রেন্ডস!

লোপা কখনও আমার উপরে রাগ করলে কেজি খানেক বাদাম কিনে জেলখানা ফেরিঘাটে বসে বসে বাদাম ছিলতো। ওর বাদামে এলার্জি ছিলো, আর বাদাম খেতেও তার অপছন্দ ছিলো। এ কারণে তার ধারণা দুনিয়ার সবাই (ইনক্লুডিং আমি) বাদাম অপছন্দ করে। আর আমার জন্য ঐ ছেলা বাদাম খাওয়া শাস্তি হিসাবে ছিলো। কিন্তু আমি বাদাম পছন্দ করতাম তা হয়তো লোপা জানতো না (অথবা জানতো)!

বিয়ের পর আমি আবিস্কার করলাম আমার বউ টমেটো খায় না, এমনকি ছোয় না। আর আমি টমেটোর পাগল! টমেটো ছাড়া খাওয়া দাওয়া ভালো লাগে না! মাঝে মধ্যে টমেটো কেটে ঝাল আর চানাচুর দিয়ে মাখা আমার পছন্দের খাবার ছিলো। ততদিনে বউকে ভালোবেসে ফেলেছি। ভেবেছিলাম টমেটো খাওয়া ছেড়ে দিবো। কিন্তু আমি পরিবর্তন হওয়ার আগে সে পরিবর্তন হয়ে গেলো। সে আমাকে নিজ হাতে টমেটো কেটে মেখে দিতো। বছর ৮ যেতে না যেতে সে এখন বেশ ভালোই টমেটো খায়। তার ভালোবাসা খুব সম্ভবত আমার ভালোবাসার থেকে বেশী।

ব্লগে এটি আমার মাল্টি নিক গুলির একটি। তবে এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে আমি কাউকে আক্রমণ করবার জন্য আমার অন্য কোন আইডি ব্যবহার করতে পারি না, মডু স্বাক্ষী! আমার মূল আইডিতে লেখা প্রায় বন্ধই করে দিয়েছি। কেন দিয়েছি? কে জানে?

এই আইডিতে আমি আমার জীবনাদর্শ, চলাফেরা ইত্যাদি বিষয়ে লিখি। মাঝে মধ্যে ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্ট নিয়ে লিখি। আমার লেখার কোয়ালিটি ভালো না এটা আমি জানি ও মানি। তারপরও আমার কেন যেন মনে হয় মানুষ এগুলি পড়তে চায় না। আমার নিজের একটা ছোট্ট উদ্যোগ আছে, যেখানে আমি মূলত মানুষকে বিভিন্ন জিনিষ করতে ডিমোটিভেট করি। ইচ্ছা আছে একদিন ডিমোটিভেশনাল স্পীকার হবো সেই উদ্যোগের একটা অংশই হচ্ছে এই ডেভলপমেন্ট রিলেটেড লেখা লেখি।

বহু আগে হুমায়ুন আহমেদের তৈরী একটা বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। একটা চেয়ারের সাথে বাঁশ বেধে সেই চেয়ারে একজন বসে চারজনের কাঁধে করে যাচ্ছে। তাকে অন্য একজন প্রশ্ন করে, "ভং ধরছো ক্যান?" সে উত্তরে বলে "ভং না ধরলে মানুষ কথা শোনে না!"

মানুষ কেন সেলফ ডেভলপমেন্ট সম্পর্কে পড়তে চায় না জানেন? কারণ প্রত্যেকটা মানুষই চেঞ্জকে ভয় পায়। কেউ কম, কেউ অতিরিক্ত বেশী। সেলফ ডেভলপমেন্টের বিষয় গুলি পড়তে গেলে নিজের অনেক ফল্ট বের হয়ে আসে। এরপর সেই ফল্ট তাকে ধাওয়া করে বেড়ায়। কেউ কেয়ার করে, কেউ করে না। যারা কেয়ার করে, তাদের এক দল চেঞ্জ হয় (খুব কম লোক), আর একদল চেঞ্জ হয় না, কিন্তু সারাক্ষণ দ্বিধাগ্রস্থ থাকে।

জনগন যা খায়, রাধুনীর তাই রান্না করা উচিৎ! জনগন যা পড়ে, একজন লেখকের তাই লেখা উচিৎ। নামকরা লেখকেরা এটাই করেন। কিন্তু দিন শেষে তারা ভদ্রতা দেখান, বলেন আমি নিজের মন মত লিখি, জনগন পছন্দ করে, এই ক্রেডিট জনগনের। এই ভদ্রতা আসলে একপ্রকার ভন্ডামী। কিন্তু আমরা তাই মেনে বসে থাকি। বেশী উচ্চ-বাচ্য করি না। আর ভাবি, আহা, উনি কত ভালো!

মাঝে একজন ব্লগার অহংকার করেছিলেন তার পোষ্টে মন্তব্যের সংখ্যা নিয়ে। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে আইনস্টাইন যদি এই ব্লগে লিখতেন, তাহলে আইনস্টাইন এত কমেন্ট পেতেন কি না। ঐ ভদ্রলোক সেটা এড়িয়ে এমন ভাবে উত্তর করেছিলেন যেটা পড়ে মনে হয়েছিলো যে আইনস্টাইনের ব্লগে এত কমেন্ট আসতো না!

রাত না থাকলে দিনের সৌন্দর্য থাকতো না। আজকে শুক্রবার, সুন্দর সুন্দর পোষ্ট আসতে শুরু করেছে। তার মধ্যে গোঁজামিল মার্কা একটা পোষ্ট না আসলে আসলে সুন্দর পোষ্ট গুলির দাম থাকতো না; তাই এই গোঁজামিল মার্কা লেখা লিখলাম।

ভালো থাকবেন!

Photo by Gaelle Marcel on Unsplash
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০২৩ দুপুর ১:০৯
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×