somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হায়দারাবাদের ডায়েরী….

২০ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হায়দারাবাদের ডায়েরী….
কোলকাতা থেকে হায়দারাবাদ (১২/০৮/২০১৪)
হোটেল রিজেন্সি। সকাল বেলাতেই ঘুম ভেঙ্গে গেল। কোলকাতায় পৌছেছি এই খবরটি এখনও কাউকে জানাতে পারিনি। তাই ঘুম থেকে উঠেই দৌড়ালাম মোবাইল ফোনের সিম কার্ড কেনার জন্য। সকাল ৮ টার মতো বাজে। হোটেল থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখি সব দোকান বন্ধ। রাস্তার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল ৯ট-১০টার আগে কোন দোকান খুলবে না। আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন কাজ নেই। রাতে ঠিকমতো খাওয়া হয়নি। ভাবলাম এই ফাকে নাস্তা সেরে নেওয়া যাক। নাস্তার হোটেল খোঁজা শুরু করলাম। অনেক খুঁজে নাস্তার জন্য দুটি হোটেল পাওয়া গেল। দুটি হোটেলেই এখনও নাস্তা তৈরি হয়নি। নবাবজাদা হোটেলগুলোর নাস্তা তৈরি হতে আরও এক-দের ঘন্টা লাগবে। কোলকাতার মানুষ দেখছি আমার দেশের মানুষের থেকেও অলস…. বিশ্বাস হচ্ছিল না…
অনেক খুঁজে একটা দোকান পাওয়া গেল। দোকান থেকে একটি কেক ও এক বোতল পানি কিনলাম। কেক ও পানি খেয়ে পেটের পুজো আপাতত সারলাম। কিন্তু মোবাইলের সিম কার্ড কেনার দোকানতো আর খুলে না। অপেক্ষা করতে করতে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। অবশেষে সকাল ৯:৩০টার দিকে একটি দিদির দোকান পাওয়া গেল।দিদিকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে বেশি রুপি দিয়ে অবশেষে একটি মোবাইল সিম কার্ড মিলল। আব্বাকে ফোন দিলাম, হাস্নাকে ফোন দিলাম….
ভ্রাম্যমান হোটেল থেকে লুচি ও আলুর দম দিয়ে নাস্তা সেরে তারাতারি দৌড়ালাম হোটেল রিজেন্সির দিকে। ব্যাগ গুছিয়ে, হোটেলের ফরমালিটিজ সেরে বেরিয়ে পরলাম কোলকাতা এয়ার পোর্টের উদ্দেশ্যে। লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল, উল্টাদিকের মেইন রাস্তায় দাড়ালেই ভলবো এসি বাস পাওয়া যাবে। আমি বাসের জন্য অপেক্ষা করছি… আধা ঘন্টা পরে যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি ট্যাক্সি নেব ঠিক সেই মুহুর্তে এসি বাসের দেখা মিলল। বাসে উঠে পরলাম। দশ মিনিটের মধ্যেই এয়ারপোর্টে পৌছে গেলাম। এয়ারপোর্টে পৌছে গেলাম বোর্ডিং পাসের জন্য। এয়ার ইন্ডিয়ার ডমেস্টিক ফ্লাইটের কর্মকর্তা জানালো, আমার লাগেজের ওজন ৫ কেজি বেশি আছে…। অগত্যা ৫কেজি ওজন কমানোর জন্য বই পত্র বের করে আলাদা একটা হ্যান্ড ব্যাগ তৈরি করতে হলো। লাগেজ পাস করে অপেক্ষা করছি…
১:৩৫ এ এয়ার ইন্ডিয়ার ডমেস্টিক ফ্লাইট ছেড়ে দিল। প্লেনে যাত্রী কম। অনেক সিট ফাকা পরে আছে। আমার সিট নম্বর ছিল ১৭ এর এ। জানালার পাশের সিট। আমার সিটে বসে পরলাম। হিন্দি ও ইংরেজীতে বিভিন্ন ঘোষনা হচ্ছিল। একসময় এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনটি রানওয়ে ছেড়ে আকাশে উড়তে শুরু করল…
চমতকার রোদ্রউজ্জ্বল আকাশ। সাদা পেজা তুলোর মতো মেঘ ভেসে আছে আকাশে। সেই সাদা পেজা তুলোর মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে বিমানটি…দূরে নীল আকাশের ক্যানভাস। নীচে তাকালে ঘর-বাড়ি, নদী, কখনো টিলার মতো পাহার, কখনো ক্ষেতের ফসল, কখনো অরন্যর সারি-সারি গাছ ওপর থেকে দেখলে যেমন দেখায়, সেমনটি দেখাচ্ছিল। সবচেয়ে ভালো লাগছিল সাদা তুলোর মতো ভেসে থাকা মেঘ গুলোকে… মনে হচ্ছিল রুপকথার কোন এক শহরের মধ্যে দিয়ে আমি কোন এক বিশাল পাখির ওপর চড়ে উড়ে চলেছি। ঘন কালো মেঘের ছটা এস লাগল একবার। যে জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম। সেই জানালার গ্লাসটি বৃষ্টির ফোটায় ভিজে গেল…
এয়ার ইন্ডয়ার এয়ার হোস্টেসরা দুপুরের লাঞ্চ করাল। ক্ষুদা পেটে ভালই লাগল। ভাত-সবজি-সালাদ-দই । সামনে থাকা টাইমস অফ ইন্ডিয়া, আরও কিছু পত্রিকা উল্টে-পাল্টে দেখছিলাম… ঘোষনা এল আমরা হায়দারাবাদ পৌছে গিয়েছি। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই ল্যান্ড করবে…
হায়দারাবাদ নেমে সব ফরমালেটিজ সেরে এয়ারপোর্টের বাইরে বেরিয়ে এলাম। বেরিয়ে দেখি আমার নামের একটি প্লাকার্ড নিয়ে একজন লোক দাড়িয়ে আছে। লোকটিকে আমার পরিচয় দিলাম। লোকটি সালাম দিল। লাগেজ নিয়ে গাড়িতে উঠালো। লোকটির নাম জাহাঙ্গীর। তেলঙ্গনা এস্টেটের অধিবাসী। অনেকদিন যাবত হায়দারাবাদ বসবাস করছে। জাহাঙ্গীর ইন্ডিয়া গভর্ণমেন্টের গাড়িতে চড়িয়ে নিয়ে চলতে শুরু করল। ইন্ডিয়া আসলেই এগিয়ে যাচ্ছে। কেমন সুন্দর গোছানো পরিস্কার পরিছন্ন চওড়া রাস্তা। চারদিকে তাকিয়ে ভাল লাগছিল। ঢাকা শহরের মতো অগোছাল নয়। সব কিছুই গড়ে উঠেছে পরিকল্পনা মাফিক।
আধা ঘন্টার মধ্যেই এনআইআরডি ক্যাম্পাসে পৌছে গেলাম। ক্যাম্পাসে পৌছে পরিচয় হলো মি:রাজু, মি:মাধব, ডা:মি:দেবপ্রিয়া আরও কয়েকজনের সাথে। মি: রাজু আমাকে আমার জন্য বরাদ্দ কোয়ার্টারে পৌছে দিয়ে গেল। কোয়ার্র্টারে ঢুকলাম।একটি ড্রয়িং রুম, একটি কিচেন, ড্রয়িং কাম ডায়নিং রুম, এটাচ বাথ সবকিছু মিলিয়ে একা থাকার জন্য অসাধারন কোয়ার্টার। আমার পছন্দ হয়েছে….
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Lost for words....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:৩৫

Lost for words....

ভৌগোলিক আয়তনে আমাদের দেশটা ছোট হলেও আমাদের দেশের অঞ্চলভিত্তিক ভাষার বিচিত্রিতা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। আমরা অনেকেই আমাদের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে ট্রল করি। ইদানিং আমাদের দেশের বস্তাপচা নাটক সিনেমায় আকছার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর মত উনার মন্ত্রীগুলোও এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে ব্রিজের পাশে দাঁড়ানোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৪০


'বাংলার পথেঘাটে এখন টাকা বেশি। পায়ের নিচে টাকা পড়ে এখন'
বন্যার্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে বন্যার্ত এলাকার মন্ত্রী যখন মিডিয়ার সামনে এমন উদ্ভট কথাবার্তা বলে, তখন কেমন লাগে বলেন দেখি! উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ ২০২২ : সীতাকোট বিহার

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৫৫


ডিসেম্বর মাসে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকে দীর্ঘ দিন। বেড়ানোর জন্যও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টাই বেস্ট। এবার ইচ্ছে ছিলো ডিসেম্বরেই উত্তরবঙ্গ বেরাতে যাওয়ার, যদিও এই সময়টায় ঐ দিকে প্রচন্ড শীত থাকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৪:০২

ছবি ব্লগ-১

মিগ-২১ প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটি ১৯৭৩ সালে পাইলটদের প্রশিক্ষলেন জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়।



এই বিমানটি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি আকাশ তেকে ভুমিতে আক্রমনে পারদর্শী।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন কোন কোন সমস্যাকে মেগা-প্রজেক্ট হিসেবে প্রাইওরিটি দেয়ার দরকার?

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ রাত ৮:৩৮



পদ্মায় সেতুর প্রয়োজন ছিলো বলেই ইহা মেগা প্রজেক্টে পরিণত হয়েছিলো; যখন সরকারগুলো সেতু তৈরির জন্য মনস্হির করেনি, তখন তারা উনার বিকল্প ব্যবস্হা চালু রেখেছিলো (ফেরী ও লন্চ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×