somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাল রাজকুমারী

১৭ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাতে ভালো ঘুম হয়নি ছেলেটির। টুকরো টুকরো দুঃস্বপ্ন দেখেছে সে সারারাত। তাই সকাল থেকে কিছুই ভালো লাগছেনা। মন তার বিপ্তি ও বিষন্ন। কিছুতেই মন বসাতে পারছেনা সে আজ। তাই ইচেছ হলো বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসতে। বাসা থেকে একটি রিঙ্া নিয়ে কিছুন উদ্দেশ্যবিহীন ভাবে ঘুরে বেড়াল সে। পথে দেখা হল বন্ধুদের সাথে। আজ ছুটির দিন। তাই সবাই মাঠে খেলতে যাচেছ। ছেলেটিও গেল তাদের সাথে। জমজমাট খেলা হল। খেলা শেষে বন্ধুরা বসে আড্ডা দিচেছ। মাঝে মাঝে কেউ গান ধরছে, আর সাথে সবাই গেয়ে উঠছে। মনটি ভালো হয়ে যায় ছেলেটির। মনে হয় এইত জীবন, এরই নাম বেঁচে থাকা। এরাই এখন তার সব। এরা আছে বলেই সে আজও তার কষ্টগুলোকে আগলে রেখে বেঁেচ থাকতে পারছে। হঠাৎ তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলল ," দোস , আজ 2 তারিখ। চমকে উঠে ছেলেটি। তাইত, আজ ফেবু্রয়ারীর 2 তারিখ। আজ তার তার জীবনের এক স্মরনীয় দিন। নিজের একান কিছু ব্যক্তিগত দিনের মধ্যে এটি একটি। চোখ চলে যায় একটি বাড়ির উপর। এই বাড়িতে 6 বছর আগে থাকত একটি মেেেয়। মেয়েটিকে প্রচন্ড ভালোবাসত ছেলেটি। না, ভুল হয়ে গেল, ভালোবাসতনা, এখনও ভালোবাসে। যার জন্য তার পুরো জীবনধারা পাল্টে গেছে তাকে কি ভুলে থাকা যায়? আজ সেই 2রা ফেবু্রয়ারী যেদিন তাকে প্রথম দেখে সে। এখনও সপষ্ট মনে আছে তার। তখন বিকেল সাড়ে চারটার মত। মাঠে গিয়ে দেখল কেউ নেই। ফিরে আসছিল সে, হঠাৎ কে যেন ডাকল তাকে। ফিরে দেখে মাঠের পাশের এক বাড়ি থেকে তাকে ডাকছে তার কিছু বন্ধু। সেখানে গিয়ে পরিচয় হলো একটি মেয়ের সাথে। অপলক তাকিয়ে থাকে সে। চোখাচোখি হতে লজ্জা পায় দুজন। সেদিন আর খেলা হলোনা। অনেক গল্প হল তার সাথে। এরপর থেকে একসাথে কত গল্প করেছে ওরা, একসাথে বৃষ্টিতে ভিজেছে, সাইকেল চালিয়েছে। ভালোবেসে ফেলল সে মেয়েটিকে। তাকে ছাড়া কোন কিছু ভাবতে পারেনা। কিন্তু জানানো হয়নি সে কথা। তারপর একদিন তাকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল মেয়েটি। সেই থেকে বদলে গেল ছেলেটি। তার জীবন থেকে মেয়েটি চলে গেছে, কিন্তু রেখে গেছে শত শত স্মৃতি। রয়ে গেছে অব্যক্ত ভালোবাসা, আর শ্বাশত সেই মুখখানি। আজও ভুলতে পারেনি সে তার হাসি, অভিমান, সপর্শ। চোঁখ বন্ধ করলেই সব চলে আসে তার সামনে। মাঝে মাঝে বড্ডো অভিমান হয় তার উপর। কেন সে চলে গেল? যেতে যদি হয় তবে কেন আগে চলে গেলনা? আজকাল রাস ায় কোন লাল ড্রেস পড়া মেয়ে দেখলে মনে পড়ে যায় সেই 2রা ফেবু্রয়ারীর কথা। মনে পড়ে এক লাল রাজকুমারীর কথা। আকাশের পানে চেয়ে ভাবে ছেলেটি, কি সুন্দর নীল আকাশ। আকাশ কি জানে তার এই রং ছেলেটির প্রিয় রং?

বিকেল সাড়ে চারটা। সেই বাড়িটার গেটে এসে দাঁড়ায় ছেলেটি। কিছুন তাকিয়ে থাকে সে, তারপর ভিতরে ঢোকে।এই বাড়িতে এখন তার একজন বন্ধু থাকে। কিন্তু সে জানেনা এই বাড়িটার সাথে তার সমপর্ক। সবার অগোচরে বাগানে যায় সে। একটি টকটকে লাল গোলাপের কলি রেখে দেয় সে গাছটির গোড়ায়। মনে মনে বলে,"লাল রং নিয়ে এসেছিলে আমার জীবনে তুমি । ভেবেছিলাম এই লাল রং দিয়ে নিজের মাঝে রেখে দেবো তোমায় সারাজীবন। কিন্তু পুরন করলেনা তুমি আমার আশা। সাদা কাফনেই সাজাতে হল তোমাকে।আর আমি আছি নীল আকাশের মাঝে। যদি কখনও আমার মনে পড়ে তাহলে একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে আমার নাম ধরে ডেকো। আমার একটি সুন্দর নাম দিয়েছিলে তুমি। মনে আছে সেই নামটির কথা? সেই নামটি ধরে একবার আমায় ডেকো। আমি যেখানেই থাকিনা কেন ঠিকই শুনতে পাব। আর যদি তোমার জীবনে কেউ এসে থাকে তাহলে আর ডেকোনা আমায়। কারন তোমার সুখের মাঝে আমি বড়ই অপবিত্র। আচছা তুমি কি এখনও লাল ড্রেস পড়ো? এখনও কি কেউ আমার মত করে তোমাকে আদর করে? থাক, জানার দরকার নেই। তোমাকে যতটুকু জেনেছি তাই অনেক। আর নতুন করে . . ."
" কিরে এখানে কি করছিস?" বন্ধুর ডাকে নীরবতা ভাঙ্গে ছেলেটির। একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয় হৃদয় থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×