somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভারতের অখণ্ডতা রক্ষার নির্বাচন?

১০ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কেন্দ্রীয় দুই বড় দল বিজেপি ও কংগ্রেস মিলেই কি হারিয়ে দিলো রাজ্য পর্যায়ের বড় দুই দল তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে-কে?

বাংলায় বিজেপিকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেস,
তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস তথা থালাপতিকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছে বিজেপি। এবার তামিলনাড়ুতে মাত্র ১টি আসন জিতেছে বিজেপি। বাংলাতেও এভাবে প্রথমবার ২০১১ সালে মাত্র একটি আসন পেয়েছিলো বিজেপি। ৫ বছর পর ৩টি পেয়েছিলো আর এবার ১০ বছর পর পেলো ২০৭ টি, গঠন করলো সরকার। তামিলনাড়ুতেও হয়তো ১০-১৫ বছর বা তারও আগে বিজেপি অথবা কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসবে।

বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস হেরেছে। তামিলনাড়ুতে বড় দুই দল ডিএমকে ও এডিএমকে হেরেছে। হয়তো এটাই ছিলো বিজেপি ও কংগ্রেস কেন্দ্রীয় দলের মূল এজেন্ডা। অর্থাৎ, স্থানীয় দলের প্রভাব প্রায় শেষ করে দিলো তারা। এখন থেকে এই বড় দুই রাজ্যেও কেন্দ্রীয় তথা আসলেই সর্বভারতীয় দলের শাসন চলবে। শুভেন্দু অধিকারীকে কলকাতায় এসে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিজেপি নেতা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী Narendra Modi আর চেন্নাই গিয়ে বিজয় থালাপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কংগ্রেসের শ্রী Rahul Gandhi.

এর ফলে লাভ কি?
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি নাখোশ হয়ে বা বাহ্যিক উস্কানিতে চাইলেই কেউ ভারত থেকে আলাদা হতে স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিতে পারবে না বা বাংলাদেশের সাথে এসে জুড়তে পারবে না। 'গজয়াতুল হিন্দ' আর আপাতত সম্ভব না। ইচ্ছা হলেই মমতা ব্যানার্জির মতো দিল্লী দখলের ডাক আর দিতে পারবে না আঞ্চলিক বড় দলগুলো। দিল্লী দখলের বাহ্যিক হুমকি (যেমনটা হাসনাত-সার্জিসরা দেয়), মোকাবিলা করা গেলো আগেভাগেই।

এবার মমতা ব্যানার্জি না হারলে তিনি আগামী লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফাইট দিতেন, কেননা S.I.R. কার্যকর না করলে আরও বাংলাদেশী খোলা সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতে অনুপ্রবেশ করে মমতা মাসির ভোটব্যাংক হিসেবে কাজ করতো। কারণ মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্র সরকারকে জমি দিচ্ছিলেন না বলেই বিএসএফ সীমান্তে কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে পারছিলো না। ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছিলো না, গুলি করলে প্রাণহানি হচ্ছিলো, যা দুই দেশের সম্পর্কও অবনতি ঘটাচ্ছিলো আর ভারতের কেন্দ্রে বিজেপি সরকার সারা বিশ্বের কাছে ভিলেইন হচ্ছিলো। জমি দিলেই কাটাতারের বেড়া থাকলে কিন্তু আর প্রাণহানি হতো না। ঐ বেড়া ডিঙ্গানোর সাহস সাধারণত কেউ করতো না। সীমান্ত উন্মুক্ত থাকা মানে 'দেখি চেষ্টা করে আল্লাহর নামে' বলে ভারতে ঢোকার চেষ্টায় উৎসাহ পাওয়া।

অর্থাৎ সীমান্তে আসল ভিলেইন ঐ মমতা মাসি! হাসনাত-সার্জিসরা মমতার মতো বড় বড় জায়গা থেকে ভরসা না পেলে এত বড় বড় হুংকার দেওয়ার সাহস কি পেত? এমনি এমনিতেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিজেপির চাণক্য শ্রী Amit Shah এসে ১৫ দিনের অধিক পশ্চিমবঙ্গে বসে ছিলেন না। বুঝলেন তো এবার, এই জয়টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো বিজেপি-কংগ্রেস তথা ভারতের জন্য?

জাতীয় স্বার্থে সব কেন্দ্রীয় দল এক হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও ডিএমকে-এডিডিএমকে কে হারিয়ে এই নির্বাচনে ভারত নতুন করে তার স্বাধীনতাকে পাকাপোক্ত করে নিলো। আবার যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শ্রী Suvendu Adhikari বলেছিলেন শেখ হাসিনাই বৈধ প্রধানমন্ত্রী, তিনি তাঁকে সসম্মানে ফেরাবেন, তাই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করে কেন্দ্র সরকার হয়তো এ বার্তাও দিলো, শীঘ্রই সসম্মানে ফিরছেন শেখ হাসিনা? ভুলে গেলে চলবে না, শেখ হাসিনার পতনে মমতা ব্যানার্জির সমর্থন ছিলো।
লেখা : দেব দুলাল গুহ
#NarendraModi #MamataBanerjee #WB #bjpwestbangal #BJPGovernment #AjitDoval #RNRavi #SJaishankar #SuvenduAdhikari #NDTV #AvishekBanerjee #SheikhHasina
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:১৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজ্ঞানীরাও একেশ্বরবাদী হতে পারেন - আইজ্যাক নিউটন তা প্রমাণ করে গিয়েছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪০



প্রত্যেক মহান বিজ্ঞানীই নিজের জীবনে ধর্ম নিয়ে গবেষনা করে গিয়েছেন। এমনটাই আমার বিশ্বাস ছিলো। সামুতে আমি এই নিয়ে আগেও লিখেছি। তারপরও, কয়েক দিন স্টাডি করার পরে বুঝতে পারলাম-... ...বাকিটুকু পড়ুন

মত প্রকাশের স্বাধীনতা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



আমাদের দেশের সাধারণ ও অসাধারণ জনগণ সহ সকল প্রকার সংবাদ মাধ্যম “মত প্রকাশের স্বাধীনতা”র জন্য প্রায় যুদ্ধ করছেন। মত প্রকাশের সামান্য নমুনাচিত্র হিসেবে একটি সংবাদের ভিডিও চিত্র তুলে ধরছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের "ইসলামী" বই - নমুনা ! আলেমদের দায়িত্ব

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১০ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৭

আমাদের দেশের বিখ্যাত চরমোনাইয়ের প্রাক্তন পীর সাহেব, মাওলানা ইসহাক, যিনি বর্তমান পীর রেজাউল করিম সাহেবের দাদা, এর লেখা একটা বই , "ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা"। এ বইটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×