somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাঁখা সিঁদুরে নিয়ে কিছু স্বতন্ত্র চিন্তা

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরুষতান্ত্রিক নিষ্পেষণ এবং সামাজিক ও ধর্মীয় বেড়াজালে বাঙ্গালী হিন্দু কালচারে শাঁখা সিঁদুর বিবাহিত রমণীর জন্য অবশ্য পরিধেয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে। যদি কোন রমণী শখ করে নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য শাঁখা সিঁদুর পড়তো তাহলে কারোরই আপত্তি থাকার কথা ছিলনা। কিন্তু শাঁখা সিঁদুরকে ধরা হয় একটি অলঙ্ঘনীয় মাধ্যম যা ধারন করার মাধ্যমে সনাতন কামিনীগন তাহার কামুক দেবদের মঙ্গল কামনায় রপ্ত থাকবেন। শাঁখা সিঁদুর পরার মাধ্যমে স্বামীর মঙ্গল কতোখানি হয় সেটা নিয়ে নাহয় যুক্তিতর্কে নাই বা গেলাম।



একজন মানুষ তার সঙ্গীর মঙ্গল কামনা করতেই পারে এটা দোষের কিছু নয় কিন্তু প্রশ্ন হলো সেটা একতরফা কেন? স্বামীও কি অনুরূপ কোন ভিজিবাল বস্তুকে অঙ্গে ধারন করে নিজেকে বিবাহিত ঘোষণা করে নিজের স্ত্রীর মঙ্গল কামনা করতে পারেন না? কেন বোন শুধু একতরফা ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করে রাখী বন্ধন বা ভাইফোঁটা দিবে? ভাইয়েরও কি বোনের অনুরূপ মঙ্গল কামনা করা উচিত নয়? আসলে শাঁখা সিঁদুরের মাধ্যমে মঙ্গল কামনা ব্যাপার না, ব্যাপার অন্যখানে।

আমরা মাঝের মধ্যেই জমিতে সাইনবোর্ড দেখতে পাই যে এই জমির মালিক এই ব্যাক্তি। তদ্রূপ সম্পত্তিসম স্ত্রীগণের কাছে সাইনবোর্ড হলো এই শাঁখা সিঁদুর। এই শাঁখা সিঁদুর দেখে আপনি বুঝবেন যে এই জমি মালিকহীন নয়, এই জমির একজন জমিদার আছে। বাৎস্যায়নের মতে, এর মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা থাকে। আপনি যদি একজন শাঁখা সিঁদুর পড়া মহিলাকে দেখেন তাহলে আপনার ব্রেইনে সংকেত দিয়ে দিবে যে এই জমির একজন মালিক আছে, তাই আপনি মালিকহীন জমির দিকে যত বেশী আকৃষ্ট হবেন জমিদারের জমির প্রতি সাধারণত ততো বেশী আকৃষ্ট হবেন না। তারপরও আপনার যদি অবৈধ জমি দখল এবং ভুমিদস্যুতার অভ্যাস থাকে তাহলে ভিন্ন কথা। আপনি জোর জবরদস্তী করে সাইনবোর্ড তুলে ফেলে নিজে আবার নিজের নামে সাইনবোর্ড লাগাবেন। যদিও আমাদের সমাজ এবং ঈশ্বর এই পাপ না করতে আমাদের উৎসাহিত করেন।

খুব কষ্ট পাই আজো হিন্দু শিক্ষিত নারী ও পুরুষরা বোরকা নিয়ে শত সমালোচনা করলেও শাঁখা সিঁদুর নিয়ে টুঁ শব্দটি করেনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের এক শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনি কেন শাঁখা সিঁদুর পড়েন? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন এর মাধ্যমে সংসারে শান্তি বজায় থাকে, তার পরিবার এবং স্বামী চায় যে সে এটি পড়ুক। বাংলাদেশ ও ভারতের হাই সোসাইটির অনেক শিক্ষিত হিন্দু রমণীকে ব্যাক্তিগত ভাবে দেখেছি শাঁখা সিঁদুর পড়তে। যদিও শাঁখা সিঁদুরের এখন বিবর্তন ঘটেছে আধুনিক হিন্দুদের মধ্যে। আগে যেখানে সিঁথি ভরা সিঁদুর দিতো এখন সেখানে হয়তো বড় একটা লালটীপ ব্যাবহার করে। আগে যেখানে অনেক পুরু এবং মোটা শাঁখা ব্যাবহার করতো সেখানে চিকুন চুরির মতো শাঁখা ব্যাবহার করে। তারপরও শাঁখা সিঁদুর ব্যাবহার করতেই হবে। নিজে শাঁখা সিঁদুর পড়ে বা নিজের বউকে শাঁখা সিঁদুর পড়িয়ে বোরকা নিয়ে হাসাহাসি করে ওরা। শরৎচন্দ্র একবার হিন্দুধর্ম সম্পর্কে বলেছিলেন, “অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।” এইরুপ তেলাপোকারা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আজীবন টিকিয়া থাকুক এই কামনাই করি।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×