
দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এই মুহূর্তে ৬৩,৬০১টি। এই একবিংশ শতাব্দী এসেও বিদ্যালয়বিহীন এলাকা আছে এটা অতি দুঃখজনক! দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিব সাহেবের দুই বছর সময় লেগেছে বুঝতে যে, প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করা দরকার! তারপর এক বছর সময় লেগেছে শিক্ষা কমিশন গঠন করতে যেটা সেই সময়ে কুদরত-এ-খুদার উদ্যোগে করা হয়। যাই হোক তখনো শেখ সাহেব বুঝেনি প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আলাদা অধিদফতর দরকার!
যাক জেনারেল জিয়াকে ধন্যবাদ তিনি ক্ষমতার শেষে এসে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আলাদা অধিদফতর খুলেছেন! এটা আশ্চর্য স্বাধীনতার পর ১০ বছর সময় লেগেছে এই সামান্য ব্যাপার বুঝতে!
আরো আশ্চর্যের কথা এরও ২৯ বছর পর আমাদের সরকারগুলি বুঝতে পেরেছে শিক্ষানীতিতে ‘প্রাথমিক শিক্ষা হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক এবং সবার জন্য একই মানের।’ এই ব্যপার গুলি সংযোজন করা উচিত! আসলে মন্ত্রী সাহেবের সন্তান , এমপি সাহেবের সন্তান, টিএনও সাহেবের সন্তান, জেলা প্রশাসকের সন্তানেরা কি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে? না পড়ে না, পড়লে সরকারী বিদ্যালয়গুলির এই অবস্থা থাকতো না!
দেশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলিতে স্যানিটেশন সমস্যা প্রকোট, টিএনও সাহেবের মেয়ে এসে যদি তাকে বলে বাবা আমাদের স্কুলের বাথরুমের দরজা নেই তখন তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন অবশ্যিই। মন্ত্রী সাহেবের ছেলে এসে যদি বলে বাবা আমাদের স্কুলের যাওয়ার রাস্তায় যে খাল আছে তার কালভার্টটা আজ ভেঙ্গে গেছে, মন্ত্রী সাহেব যে মন্ত্রনালয়েরই হোক তোরজোড় চালাবেন সে খালের উপর একটা নতুন কালভার্ট করে দেওয়ার জন্য। স্কুলের বাহিরে প্রাইভেট, কোচিং আইনত দণ্ডনীয় অপরাদ, সে শিক্ষকের সাহস হবে না এমপি সাহেবের ছেলেকে কম নাম্বার দেওয়ার, তার কাছে প্রাইভেট পড়ে না বলে।
যাই হোক সরকার যদি আপাতত সব সরকারী কর্মকর্তাদের সন্তানদের সরকারী বিদ্যালয় গুলি থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নিতে হবে এটা বাধ্যতামূলক করে দেয় সমস্যা ১২ আনি মিটে যাবে। কারন মন্ত্রী সাহেব,এমপি সাহেব,টিএনও সাহেবগন নিজের সন্তানদের খোঁজ খবর নিতে গেলে হলেও শিক্ষাব্যবস্থার অনেক অসঙ্গতি চোঁখে পড়বে। আর নিজের সন্তানের কথা চিন্তা করে হলেও তড়িৎ ব্যবস্থা নিবেন সেটার বাই প্রোডাক্ট হিসাবে আমাদের আমজনতার সন্তানেরা কিছু সুফল ভোগ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৩:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


