somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবার উপস্থিতি অনেক বেশি প্রয়োজন

১৭ ই জুন, ২০১২ দুপুর ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিশ্ব বাবা দিবস আসলে মনটা আরও একবার খারাপ হয়ে যায়। যাদের বাবা আছে তারা হয়তো কত মজা করবে-কিন্তু আমি? আমি কার সাথে মজা করব? নানা ব্যস্ততার মধ্যে হয়তোবা মসজিদে গিয়ে তার জন্য আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া চাইবো। আমি অনেকটা কম বয়সেই বাবাকে হারিয়েছি। তখন সবে মাত্র ইউনিভার্সিটি প্রথম বর্ষে পড়ি। মধ্যবিত্তের সংসারে বেড়ে ওঠা এই আমি জানি বাবার কতটা প্রয়োজন। তবে বাবা দিবসে আমার কষ্ট নেই। আমার কাছে বাবা মৃত নন, সব সময় তিনি আছেন আমার মনের গহীনে, থাকবেন যতদিন আমি বেচে থাকবো। তবে এটা জানি বাবার উপস্থিতি একটি সংসারে অনেক বেশি প্রয়োজন।

সংসারে আমরা ছিলাম ৩ভাই, ৩বোন। আছেন মা। বড় ২ বোনের পড়াশোনা-বিয়ে দেওয়ার চিন্তা যেমন তার ছিল, একই চিন্তা ছিল সবাইকে নিয়েই। কির্মজীবনে একজন ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ছিলেন তিনি। আমি বিশ্ববিদ্যালয় পড়া শেষ করে ভালো কিছু করবো হয়তো সে আশাও পোষণ করতেন তিনি।

আজ আমরা ৫ভাই-বোনই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নেওয়া। সরকারি-বেসরকারি চাকরি নিয়ে আছি ভালোই। ছোট ভাইটাও সিভিলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করছে। হয়তো আগের সেই টানাটানিও নেই। মা হয়তো সবকিছু মিলে টেনশনমুক্ত। কিন্তু দু:খ একটাই, বাবা তো এ ভালোটা দেখে যেতে পারলেন না।

২০০৩ সালের ৮ ই মে। বাবা ওইদিন সকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন। নেওয়া হলো সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন ঢাকায় নিতে। খুব কম সময়ের মধ্যেই বাবাকে নিয়ে ঢাকার জাতীয় হ্রদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে রওয়ানা হলাম। মা, বড় ভগ্নিপতি আর আমি সাথে। মাঝে মাঝে বাবাকে নির্জীব হওয়া দেখছি কাছ থেকে। মনে হচ্ছে আর বুঝি বাঁচাতে পারলাম না। তার ওপর সাভারের পরবর্তী যানজটে আমরা আশা অনেকটা ছেড়েই দিচ্ছিলাম। বার বার মনে হচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সকে মনে হয় যেকোন সময় ঘুরে আবার বাড়ির দিকেই নিতে হবে। মা অঘোরে কাদছিলেন আর শেষ সহায় আল্লাহকে ডাকছিলেন।

৩টা নাগাদ পৌঁছলাম হ্রদরোগ গেটে। দ্রুত চিকিৎসা দিতে সবাই সহযোগিতা করলেন। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন। মা বাইরে। ভেতরে কম্পিউ‍টার স্ক্রিনে বাবার হ্রদযন্ত্রের ক্রিয়া আমি দেখছিলাম। ডাক্তার যে ওষুধ আনতে বলছিল দ্রুত তা এনে দিচ্ছিলাম। সকলের প্রাণান্তকর চেষ্টার পরেও চোখের সামনে বাবাকে হারালাম। একই অ্যাম্বুলেন্সেই বাবাকে বাড়িতে নেওয়া হলো। পরদিন সকালে নামাজে জানাজা শেষে দাফন। সেই সব স্মৃতি আমাকে এখনও পিছু টানে। তবে নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া বাবার আদর্শকে লালন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি অবিরত।



* নূরনবী সিদ্দিক সুইন, সাংবাদিক,
ই-মেল: [email protected]

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×