somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শ্রমিকের রক্তে তুমি ব্যবসায়ী...

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৪:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


তুমি তো ব্যবসায়ী তাই না? পায়ের উপর পা তুলে গুনে যাচ্ছো ডলারের বান্ডিল। মাপামাপি করে চলেছ অর্থনৈতিক সূচকের ওঠানামা। চুলকাতে চুলকাতে চুলশূণ্য করে ফেলেছো মাথার তালু। কিন্তু একবারের জন্যও ভেবে দেখেছো তোমার ডলার আয়ের নেপথ্যের কারিগরদের নিয়ে?

আজ ২৪ এপ্রিল। বিশ্বের ইতিহাসে ৩য় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা। ৩ বছর আগের এই দিনটিতে তোমারই জন্য ঘটে গেছে ইতিহাসের এই নির্মমতম ঘটনা। সেদিন শত শত মানুষের আর্তনাদ আর রক্তাক্ত আহত, নিহত দেহগুলো সারা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছিল। কিন্তু তুমি ব্যবসায়ী, তাই একটুও হতবাক হওনি। বিবেকের কাঠগড়া থেকে একটুও তোমার মানবিক সত্ত্বাকে দোলা দেয়নি। কারণ অর্থের নেশায় তোমার বিবেক মরে গেছে। কেন এ কথা বলছি তা বুঝতে আরও একটু গভীরে যেতে হবে।

তোমরা মনে করো টাকা দিয়ে সবকিছু ঢেকে ফেলা যায়। কিনে নেয়া যায় সবকিছু। এমনটি ভাবার পেছনে কিছু কারণও নিহিত রয়েছে। টাকার কাছে তোমরা বিক্রি করে দিয়েছো তোমাদের বিবেক। যদি তাই না হবে তাহলে আমার একটা প্রশ্নের জবাব দাওতো। শত শত শ্রমিক হত্যার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি কি তোমরা জানাতে পেরেছিলে? যদি না পারো তবে কেন পারনি? অপরাধীরা তোমাদের মতই ব্যবসায়ী বলে? তোমাদের ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সদস্য বলে? তোমরা তো সবাই এই ঘৃন্য অপরাধের জন্য দায়ী ছিলে না।

কাদেরকে বলছি? কি বলছি?? বিচারের দাবী তো দূরের কথা। ব্যবসায়ীর বেশে মানুষরূপী পশুদের এ ঘৃন্য কাজের জন্য একটা নিন্দাও তো তোমরা জানাতে পারনি। শ্রমিককে মানুষ মনে করো না বলেই ঝুকিপূর্ণ ভবনে শ্রমিকদের ঠেলে দিয়ে তোমরা আয়েশ করেছো কোন ভিআইপি কক্ষে। তাই ভাগ্যাহত শ্রমিক মরেছে। মরেনি তোমাদের মত পশুরা।

রানা প্লাজা ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮ শতাংশ শ্রমিক এখনও বেকার। আহত শ্রমিকরা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণে এখনও কাজে ফিরতে পারছেন না। আর এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া প্রায় ৫৯ ভাগ শ্রমিকই দীর্ঘমেয়াদী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। জানিনা এদের ভাগ্যে কি আছে। যারা এখনও জীবনের ঝুকি নিয়ে বিভিন্ন বহুতল গার্মেন্টস এ কাজ করছে তাদের নিরাপত্তার কথাও কেউ ভাবছে কিনা জানিনা। হাল আমলের বাঁশ দিয়ে ভবন নির্মানের হিড়িক দেখে মনের মাঝে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

সহস্রাধিক শ্রমিক হত্যা ও পঙ্গু করার পেছনে দায়ী দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবীতে আজ আহত শ্রমিকরা সমাবেশ করেছে। তাদের সে কান্না দেখলে সহ্য করা যায় না। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, জুরাইনে রানা প্লাজা ধসে নিহত শ্রমিকদের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হওয়া তিনটি মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিক বেচারা প্রশ্ন না করে বসলে হয়তো লোক দেখানো এ দাবিটুকুও আসতো না। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এফবিসিসিআই। এ ঘটনায় তাদের যেন কোনই দায় দায়িত্ব ও অপরাধবোধ নেই!

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) হিসাব মতে, এই পাঁচ কারখানায় শ্রমিক ছিল ৩৯৪১ জন। এর মধ্যে জীবিত ও আহত শ্রমিক উদ্ধার করা হয় ২৪৩৮ জনকে। নিহত হয় ১১৩৮ জন শ্রমিক। নিখোঁজ হয় ৩৬৫ জন। এর মধ্যে ডিএনএ টেস্ট করে ২৬৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেলেও এখনো খোঁজ মেলেনি শতাধিক শ্রমিকের।


যে শতাধিক শ্রমিকের খোঁজ মেলেনি তারা যে অভিশপ্ত ওই বিল্ডিংয়ের ইট, বালু, সিমেন্ট আর মাটির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ গত বছরেও ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে মিলেছে মৃত মানুষের হাড়গোড়। বুর্জোয়া শাসকশ্রেণি ক্ষতিপূরণ মেটানোর ভয়ে তড়িঘড়ি করে শেষ করে উদ্ধার কাজ। ওই শতাধিক পরিবারের ভাগ্যে কি জুটেছে আল্লাহ ভালো জানেন।

ব্যবসায়ীরা দোষীদের বিচার চাইবেন কিনা জানি না। তবে সারা বাংলাদেশের মানুষ দল-মত নির্বিশেষে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়। যাতে সমাজে রানার মত কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী বনে না যেতে পারে। যাতে আর কোন প্রকৌশলী এমন ভবন নামক মৃত্যুফাঁদ তৈরী না করতে পারে। আর যাতে বেঘোরে জীবন দিতে না হয় কোন শ্রমিককে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:০৪
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×