somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হত্যা

১০ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হত্যা

নাজমুস সাকিব অনীক


কাফরুল
১৪ অক্টোবর, ২০০৮


জহির সাহেবের বয়স হয়েছে। আশি পার করেছেন গেল বছর। আদ্দিকালের গ্রামের ছেলেবলেই কিনা, এখনও তেমন কঠিন রোগ বালাই নেই। তবে এ বছর টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না তার।মাস ছ’য়েক হোল হাঁপানি আর শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। শহরের হাসপাতাল এর বড় বড় ডাক্তারদেখিয়েছেন। তার ছেলেদের আবার এসব ব্যাপার এ কোন কমতি নেই। তিন ছেলের মধ্যে বড় দুইছেলেই ঢাকায় বড় চাকরি করে। গাড়ি বাড়ি আছে। ছোট ছেলে বাদল, বাবা জহির সাহেব কে নিয়েমফস্বল এর বাড়িতেই থাকেন। বাড়িটা জহির সাহেব এর ই বানানো। এখানেই টুক টাক বেবশা আরঘর দোর দেখা শোনা করেন। এ বছর তার আবার ফুট ফুটে একটা ছেলে হয়েছে।

শেষবার জহির সাহেবের প্রচণ্ড শ্বাস কষ্টে বাদল দ্রুত নিয়ে যায় জেলা হাসপাতালএ। মেঝ ছেলে গাড়ি করে পরদিন ই ঢাকায় আনেন বাবা কে। ক’দিন পর পর-ই এ টানা হেঁচড়াহচ্ছে জহির সাহেব কে নিয়ে। মাস এ তিন চার বার তার শ্বাস কষ্ট উঠছেই। মেঝ ছেলেরঢাকার বাড়িতেই থাকতে পারেন ইচ্ছে করলে। এটা আবার জহির সাহেব মানতে নারাজ। তিনি তারনিজের বাড়িতেই থাকবেন। বাবা কে বুঝিয়ে পারেন না ছেলেরা। কিন্তু, এবার ডাক্তারবললেন অন্য কথা।

জহির সাহেবের এখন যে সমস্যা, তা নাকি নিছক বাধ্যক্কজনিত। চিকিৎসার কিছুই নেই। হাঁপানির জন্য ইনহেলার দিলেন ঠিক ই, কিন্তু বলে দিলেন, পরবর্তীসময়ে হাসপাতাল এ এনে আর লাভ হবে না।

ডাক্তার এর মুখের এমন শক্ত কথা শুনে ছেলেরা মুষড়ে পড়লেন ঠিক ই, কিন্তু মেনেতো নিতেই হবে। বড় ছেলে তার এক ডাক্তার বন্ধুর সাথে কথা বলে ঘরেই অক্সিজেন সিলিন্ডারথেকে শুরু করে একজন সিস্টার এর বেবস্তা পর্যন্ত করলেন। বোন দের খবর দেয়া হোল।সত্যি কথা বলা হয় নি। বাবা অসুস্থ, সময় করে যেন তাকে দেখে যায়, এমন তাই বলাহয়েছিল। বোন রা কি আর বুঝতে বাকি রাখে? সবাই এসে মরা কান্না জুড়ে দেয়। তিন চার দিনথেকে যায়। বাবা কে যত্ন করে যায়।

এভাবেই চলতে থাকে। এক বছর, দু’বছর, তিন বছর। ছেলে মেয়েরা বাবার যত্নের কোনকমতি করে না। কোন বিরক্তি নেই তাদের। কিন্তু, জহির সাহেব তো আরপারেন না। শান্তি তে মরণও যেন তার হয় না। কাশতে কাশতে নিরশাস বন্ধ হয়ে আসে। শেষ দমটা আর বার হয় না। দিন দিন আরও খারাপ হয় শরীর। জহির সাহেব এখন ভাবলেশহীন হয়ে যান।কাউ কে ঠিক মত চিন্তেও পারেন না। এক কাজ বার বার করতে চান। পাক্রিতীক কাজ গুলোরপ্রতি ও হয়ে যান সন্ধিহান। ছোট ছেলে যত্ন করে বাবার ভেজা লঙ্গি বদল করে দেন বারবার।

প্রায় সপ্তাহেই মেঝ ছেলে চলে আসেন বাবা কে দেখতে। জহির সাহেব তাকে চিনতেপারেন না। বাবার হাত টা ধরে বাদল যখন বসে থাকেন, জহির সাহেব শুধু বড় বড় নিরমিলিতচোখ দিয়ে দেখেন চারিদিক।

গত রাতে প্রচণ্ড টান উঠে জহির সাহেবের। বাদল বার বার বাবা কে ধরে শান্তকরার চেষ্টা করেন। প্রচণ্ড কষ্টে জহির সাহেবের। বাদল বার বার বাবা কে ধরে শান্তকরার চেষ্টা করেন। প্রচণ্ড কষ্টে জহির সাহেবের বুকের পাঁজর যেন ভেঙ্গে বেরিয়ে যেতেচায়। অনেক পরে আবার শান্ত হন তিনি।

রাতের টান টা এবার যেন নিয়ম করেই উঠতে থাকে। ভর রাতের দিকে যেন আরও বেশি।কয়েকদিন এমন টা টানা হওয়ার পর, বাসার মানুষ-রা এখন আর তেমন সতর্ক হয় না। ঘুমভেঙ্গে আর উঠে আসে না। বাদল কিন্তু ঠিক-ই জেগে থাকেন। বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে যেনভাবেন, তার ছেলেটা যেন তার দাদার মত হয়। এমন জোড়া ভুরু, গভীর চোখ, লম্বা নাক।

বাবার পাশেই মাথা রেখে সেদিন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বাদল। জহির সাহেবের টান ওঠারশব্দে ঘুম ভাঙ্গে। বাবা কে আঁকড়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা চালান। জহির সাহেব কাশতেথাকেন। শ্বাস কষ্ট শুরু হয় তার। বাদল যেন সবাই কে ডাকতে চান, পারেন না। তার হাতেডাকার সময় টুকুও যেন নেই। অক্সিজেন সিলিন্ডার চালু করে মাস্ক টা ধরেন বাবার মুখে।জহির সাহেব অক্সিজেন নিতে পারেন না। কাশতে থাকেন দম বন্ধ করে। বাদল আবার দেন মাস্কটা। বলে উঠলেন, কষ্ট করে অক্সিজেন টা নাও বাবা, একটু নাও। জহির সাহেব ক্রমাগতশ্বাস নিতে থাকেন। বাদল এর চেষ্টা থামে না। মাস্ক টা দেয়ার চেষ্টা চালান বার বার।জহির সাহেবের চোখ গুলো যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চায়। হটাৎ-ই অক্সিজেন মাস্ক টা ফেলে দেন বাদল। চিৎকার করে পাশের বালিশ টা সজোরে চেপেধরেন বাবার মুখে।

জহির সাহেবের হাত টা নিস্তেজ হয়ে পরে। বুক টা নেমে আসে নিচে। বাদল বালিশ টাসরিয়ে কাঁপা হাতে আসতে আসতে বাবার চোখ দুটো বন্ধ করে দেয়।

ফজরের আজান টা কেমন যেন শান্ত আর প্রশান্তিময় বলে মনে হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমান্তের সুলতান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৬



টেকনাফ মডেল থানার ভেতরের খাস কামরা। এসি চলছে তীব্র গতিতে, কিন্তু বাতাসে এক ধরনের ভারী, ভয়ের গন্ধ। টেবিলের ওপাশে দুই হাত জোড় করে কাঁপছে এক স্থানীয় বাসিন্দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২




শ্রাবনের প্রথম দিন । এই সময়ে আকাশ তার দুই রকম চরিত্রে দেখা দেয় । পেট ভড়া মেঘ নিয়ে পশ্চিম কোন ঝুলে থেকে আবার পূবকোনে ঝলমলে সুর্যের দেখা মেলে ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×